প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিষ্যের গাড়ি চুরি করতে গুরু রফিকের ১১ চাবি

অনলাইন ডেস্ক: দুজনের সম্পর্ক গুরু-শিষ্যের। একজন গাড়িচালনার প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, অন্যজন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। গাড়ি চালানো শিখে এক সময় শিষ্য চাকরিও পেলেন। সেই গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন সময় গুরুর কাছে যেতেন শিষ্য। একসময় সেই গাড়ির দিকে চোখ পড়ে গুরুর। পরে সেই গাড়ি চুরির ফন্দিও করে ফেলেন তিনি। সুযোগ বুঝে একটি সাবানে সেই গাড়ির চাবি থেকে ছাপ নিয়ে নতুন চাবিও তৈরি করেন। কিন্তু সেই চাবিতে কাজ না হওয়ায় কৌশলে এবার গাড়ির চাবির ছবি তোলেন গুরু। পরে সেই ছবি দেখিয়ে ১১টি চাবি তৈরি করেন। তারপর দুই সহযোগীকে নিয়ে নেমে পড়েন চুরির মিশনে। গাড়ি চুরি করতেও সক্ষম হন তারা। তবে শিষ্য ক্ষুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি তার মালিকের গাড়ি চুরিতে গুরুর হাত রয়েছে। অবশেষে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জালে সেই গুরুসহ চারজন ধরা পড়ার পর বেরিয়ে আসে এই চুরির নেপথ্যের কাহিনি।

গত ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ভাসানটেকে একটি বাসা থেকে সোহরাব হোসেন নামে এক ব্যক্তির একটি প্রাইভেটকার চুরি হয়। এ ঘটনায় গাড়ির চালক নোমান মিয়া ভাসানটেক থানায় একটি মামলা করেন। এই মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নামে, ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের ফাইন্যান্সসিয়াল ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। গত ২ অক্টোবর রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে চোর চক্রের প্রধান রফিকুল ইসলামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। দুই বছর আগে এই রফিকুলের কাছেই গাড়িচালনা শেখেন। এ কারণে তাদের মধ্যে গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ডিবির কর্মকর্তারা জানান, রফিকুল পেশায় একজন গাড়িচালক। তবে এই পেশার আড়ালে সে চুরি করে থাকে। রফিকুল এখন পর্যন্ত তিনটি গাড়ি চুরির কথা স্বীকার করেছেন। ডিবির হাতে গ্রেপ্তার রফিকুলের দুই সহযোগী আলম খান ও মো. মমিনও পেশায় গাড়িচালক। তবে করোনার কারণে তারা বেকার হয়ে পড়লে রফিকুলের সঙ্গে গাড়ি চুরির মিশনে নামেন। রফিকুল গাড়ি চুরির পর চাকাসহ বিভিন্ন পার্টস বিক্রি করেন মোহাম্মদপুরের বছিলায় নজরুল শেখ নামে এক ব্যক্তির কাছে। নজরুলকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার চারজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের ফাইন্যান্সসিয়াল ইনভেস্টিগেশন বিভাগের এডিসি মহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, শুরুতে ঘটনাটি ছিল ক্লুলেস। চক্রের সদস্যরা গাড়ির মালিককে ফোন করে টাকা দাবি করে। সেই লেনদেনের সূত্র ধরে চক্রের এক সদস্যের নিকটাত্মীয়ের খোঁজ মেলে। পরে এই সূত্র ধরেই পুরো চোর চক্রকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ছানোয়ার হোসেন বলেন, চক্রের প্রধান রফিকুল গাড়ির চাবির ছবি তুলতে পারলেই নকল চাবি বানিয়ে ফেলেন। পারদর্শী চাবি তৈরির কারিগরের কাছ থেকে তিনি নকল চাবি বানান বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। সোহরাব হোসেনের গাড়ি চুরির বিষয়ে চোর চক্রের সদস্যরা ডিবিকে জানিয়েছেন, চালক নোমান যখন তার গুরু রফিকুলের কাছে যেতেন তখন বিভিন্ন সময় পাশে গাড়ির চাবি রেখে চা খেতেন। তখন কৌশলে একবার সাবানে গাড়ির চাবির ছাপ নেন রফিকুল। কিন্তু সেই ছাপ দিয়ে চাবি তৈরি করলেও কাজ করছিল না। পরে কৌশলে সেই চাবির ছবি তুলে ১১টি চাবি তৈরি করেন। সেই চাবি দিয়েই গাড়ির লক খুলে চুরি করেন তারা।

১১টি চাবি তৈরি করতে তাদের ১২শ টাকা খরচ হয়। পরে তারা গাড়ির মালিককে ফোন করে হাইওয়ে পুলিশ পরিচয় দিয়ে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। এই টাকা না পেলে মাদক বহনের কারণে গাড়িটি জব্দ করা হবে। পরে তারা আবার ফোন করে বলেন, টাকা না পেলে গাড়ির পার্টস খুলে বিক্রি করা হবে। এভাবে তারা দুই দফায় বিকাশে কয়েক হাজার টাকাও নেন। বিকাশে লেনদেন করা মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরেই এই চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তারা জানান, গাড়ির চারটি চাকা তারা মোহাম্মদপুরের নজরুলের কাছে বিক্রি করে দেন। আর গাড়িটি ফেলে রাখা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। পরে সেখান থেকে গাড়িটিও উদ্ধার করা হয়।

সর্বাধিক পঠিত