প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একের পর এক ধর্ষণের মধ্যে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস

ডেস্ক রিপোর্ট: ‘সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য, অধিক বিনিয়োগ, অধিক সুযোগ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস।

মানসিক অসুস্থতার সঙ্গে অপরাধ প্রবণতার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ত্রুটিপূর্ণ পারিবারিক শিক্ষা, নারীকে ভোগ্যপণ্য ভাবা এবং দীর্ঘ দিন ধরে বিচারহীনতার অপসংস্কৃতির কারণে বিকৃত মানসিকতার অপরাধীর সংখ্যা বাড়ছে। পরিণতিতে খুন, ধর্ষণ ও সহিংসতার ধরনেও যুক্ত হচ্ছে বিকৃত- বীভৎসতা।

সময়টা বিচ্ছিন্নতার, প্রযুক্তির উৎকর্ষতারও। স্বাভাবিকভাবেই শিশু-কিশোরদের বেড়ে ওঠার ধরনে এসেছে বড় পরিবর্তন। তৈরি হচ্ছে প্রযুক্তি-আসক্ত প্রজন্ম, আলগা হয়ে পড়ছে পারিবারিক-সামাজিক বন্ধন।

ক’বছর ধরেই খুন, ধর্ষণ, সহিংসতায় কিশোর-তরুণদের জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেড়েছে। এজন্য বাবা-মায়ের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা, মূল্যবোধের অবক্ষয়, আইনের শাসনের অনুপস্থিতি ও অনলাইন গেমিংয়ের প্রভাবকে দায়ী করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে ভুগতে হবে পুরো জাতিকে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল মনোরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেখলা সরকার বলেন, এটা খুব বড় একটা দুশ্চিন্তার বিষয় যে আমাদের দেশের কিশোররাও এখন ধর্ষণ করা শুরু করেছে। এতে অনলাইন গেইম গুলোর একটা প্রভাব আছে।

এসব গেইমে অনেক ধরনের পর্ণগ্রাফি কনটেন্ট আছে এবং ধর্ষণ দেখা যায়। যখন দশ এগারো বছরের কোন শিশু এগুলা দেখে তখন সে মনে করে এগুলা জাস্টিফাইড। শিশু কিশোররা যদি মানুষের সাথে না মিশে তাহলে তাদের মধ্যে কিভাবে দায়িত্ববোধ তৈরি হবে। সে মনে করবে আমার সুবিধার জন্য কেউ যদি মারাও যায় আমার কিছু যায় আসে না। শিশু-কিশোরদের এমন বিপথে যাওয়ার জন্য বাবা মায়েরাও দায়ী। এজন্য এ বিষয়ে বাবা মায়েদের দায়িত্ব নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, এসব ধর্ষণ,খুন যারাই করে তারা মানসিকভাবে অসুস্থ।এদেরকে যদি মানসিকভাবে সুস্থ রাখা যেত তাহলেও এসব অপরাধের পরিমান কমতো।

করোনাকালে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বড় আঘাত হেনেছে মানসিক স্বাস্থ্যে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

ডা. মেখলা সরকার বলেন, আমাদের হেলথ সিস্টেমটা কিন্তু শুধুমাত্র শারীরিক রোগকে প্রতিরোধ করা বা এটা নিয়ে কাজ করা। কিন্তু আমাদের মানসিক স্বাস্থ যদি ক্ষতিগ্রস্থ হয় তা আমাদের পুরো উওৎপাদনশীলতায় প্রভাব ফেলে। আমাদের অনেক পিছিয়ে দেয়।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যে বেশি বেশি বিনিয়োগ ছাড়া সুস্থ জাতি গঠন সম্ভব নয়। ডিবিসি

সর্বাধিক পঠিত