প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পদ্মাসেতুর ৩২তম স্প্যান বসছে আজ

হ্যাপি আক্তার : [২] আবহাওয়াসহ সব কিছু অনুকূলে থাকলে শনিবার (১০ অক্টোবর) পদ্মাসেতুর ৩২তম স্প্যান বসানো হবে আজ। স্প্যানটি বসানো হবে সেতুর মাওয়া প্রান্তের ৪ ও ৫ নম্বর পিলারের ওপর।

[৩] গত আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ৫টি স্প্যান খুঁটির ওপর বসানোর লক্ষ্য ছিল। তবে মাওয়া প্রান্তের মূল পদ্মায় প্রচন্ড স্রোত থাকায় একটি স্প্যানও বসানো সম্ভব হয়নি।

[৪] পদ্মায় বন্যার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্রোতের তীব্রতাও স্বাভাবিক গতিতে ফিরেছে। ফলে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজেও গতি ফিরেছে। শনিবার তাই মাওয়া প্রান্তের ৪ ও ৫ নম্বর খুঁটির ওপর পদ্মা সেতুর ৩২তম স্প্যান বসানোর দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

[৫] ৩২তম স্প্যান বসানো হলে এর মাধ্যমে দৃশ্যমান হবে সেতুর ৪ হাজার ৮০০ মিটার অর্থাৎ প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। ৩১তম স্প্যান বসানোর ৪ মাস পর বসতে যাচ্ছে এ স্প্যানটি। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে একদিনের মধ্যেই স্প্যানটি বসানো হতে পারে এটি। শুক্রবার(৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পদ্মাসেতু কর্তৃপক্ষ।
এটি বসানোর পর মূল সেতুর অবকাঠামোর দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে ৪ হাজার ৮০০ মিটার বা প্রায় ৫ কিলোমিটার।

[৬] পদ্মাসেতুর প্রকৌশল সূত্র জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন স্প্যান বসানোর কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয়। বর্তমানে পদ্মা নদীতে পানির গভীরতা অনুকূলে আসায় প্রকৌশলীরা স্প্যান বসানোর কাজে গতি আনার পরিকল্পনা করছেন। মুন্সিগঞ্জের মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ‘ওয়ান ডি’ নামের ৩২তম স্প্যানটি প্রস্তুত রয়েছে। যা বসানো হবে মাওয়া প্রান্তে। আবহাওয়াসহ সব কিছু অনুকূলে থাকলে স্প্যানটি সফলভাবে বসানো হবে। স্প্যান বসানোর জন্য শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে কার্যক্রম শুরু হবে। মাওয়া প্রান্তে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের ওপর বসানো আছে ২টি স্প্যান। এর পাশেই ৩২তম স্প্যানটি বসানোর পরিকল্পনা প্রকৌশলীদের।

[৭] সূত্রটি আরও জানায়, পদ্মাসেতুতে বসানো বাকি রয়েছে ১০টি স্প্যান। যা বসবে ৯টি পিলারের ওপর, এগুলো হলো-১, ২, ৩, ৪, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২। স্প্যানগুলো মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে আছে। যার মধ্যে প্রস্তুত আছে ৪টি ও ২টিতে রংয়ের কাজ চলছে। সেতুর ১ ও ২ নম্বর পিলারের ‘ওয়ান-এ’ স্প্যান, ২ ও ৩ নম্বর পিলারের ওপর ‘ওয়ান-বি’ স্প্যান, ৩ ও ৪ নম্বর পিলারের ওপর ‘ওয়ান-সি’ স্প্যান পুরোপুরি প্রস্তুত আছে। ৩২তম স্প্যান বসানোর ১০ দিন পর ৩৩তম স্প্যান বসানোর কথা রয়েছে ৩ ও ৪ নম্বর পিলারে। আর এ পিলারগুলোর অবস্থান মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে।

[৮] পদ্মাসেতুর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিন হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ভাসমান ক্রেনটি কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে অবস্থান করছে। নির্ধারিত সময়ে ধূসর রঙের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটিকে পিলারের কাছে নেওয়া হবে। কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে পিলারের দূরত্ব খুব বেশি না থাকায় একদিনের মধ্যেই স্প্যানটি বসানোর ব্যাপারে আশাবাদী প্রকৌশলীরা।

[৯] সেতু নির্মাণে প্রায়োজন হবে ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্লাব। এরই মধ্যে হাজার ছাড়িয়েছে রোড স্লাব বসানো। এছাড়া ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্লাব বসানো হবে, এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত বসানো হয়েছে ১ হাজার ৫০০টির বেশি। পদ্মাসেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

[১০]৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল পদ্মা সেতুতে মোট ৪২টি খুঁটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তে ২১টি ও জাজিরা প্রান্তে ২১টি। আর ৪২টি খুঁটির ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। সূত্র : সময়টিভি, বাংলানিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত