প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রফিকুল ইসলাম রফিক: ডিজিটাল অফিস এবং মিটিং

রফিকুল ইসলাম রফিক: আমি অর্থনীতিবিদ নই তাই , তার আঙ্গিকে অঙ্কের মতো মিলিয়ে দেখিয়ে দিতে পারবো না হয়তো কিন্তু সাধারণ মানুষ যেভাবে বাজার হিসেব করে তেমন করেই একটা হিসেব করতে চাই, যা আমাদের এই করোনাকালের অভিজ্ঞতার আলোকে পাওয়া। একটা উদাহারণ দিয়ে শুরু করি ঢাকায় ডিসিদের নিয়ে বৈঠক দুদিন বা তিন চলে। ৬৩ জেলা থেকে উনারা আসেন। ঢাকা শহরে ৬৩ গাড়ি ঢুকে, কথায় বলে বোঝার উপর শাঁকের মুঠিও ভারী, তাই জ্যামের এই ঢাকা শহরে ৬৩ গাড়ি দুই তিন দিন পতাকাবাহী গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যায় যা অফিসের সময়ে ট্রাফিক কিছু হলেও বেড়ে যায়, এমন সংস্থার সংখ্যা শত শত, প্রতিদিন যারা ঢাকায় আসেন বা কোনো কোনো বিভাগীয় বড় শহরে যান, আমি কেবল রাজধানীর কথাই বলছি উদাহারণ দিয়ে। প্রতিদিন ঢাকায় মানে কেন্দ্রে অনেক বিভাগ শুধু কিছু কথা বলবার জন্যই এসে থাকেন। জ্যাম ছেড়ে এখন আসি তাদের এই কাজের ফজিলত নিয়ে। এই কাজে যে কথাগুলো মন্ত্রী-সচিবেরা বলেন তা অনায়াসেই জুম বা স্কাইপের মাধ্যমে যে সহজেই করতে পারি তা কিন্তু করোনার অভিজ্ঞতা আমাদের প্রমাণ দিয়েছে।

তিন দিনের যেসব ঘটছে তাহলে লাগছে না, যেমন, আপ্যায়ন খরচ হচ্ছে না। তেল খরচ হচ্ছে না। তাদের দফতর ফাঁকা থাকছে না। সময়ের অপচয় হচ্ছে না। এমন আরো প্রতিদিনের উদাহারন ঢাকার সচিবালয়ে বা অন্যান্য দপ্তরে- যেখানে মিটিং নামক কাজই বেশি সেখানে এই ডিজিটাল বা জুম প্রক্রিয়া চালু করা জরুরি এবং তা চিরস্থায়ী হওয়া উচিত। সংযম আর মিতব্যায়ী না হলে রাষ্ট্রের পক্ষে উন্নতি করা সম্ভব নয়। দুর্নীতি আর অপচয় যেখানে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সেখানে ডিজিটাল বাংলাদেশের পথিকৃত জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজে জুম মিটিং করে সচিব বা উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের দেখিয়ে দিয়েছেন যে সকাল বেলায় বিশাল গাড়ি বহর রাস্তায় বের না করেও সুন্দর করে মিটিংগুলো করা যায় এবং তার মাধ্যমে একেবারে তৃণমূল কর্মচারী পর্যন্ত সে নির্দেশনা পাঠানো যায়। মানুষের চলাচল সাথে রাস্তায় গাড়ির দৌরাত্ম কমাতে সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোর সর্বোচ্চ ডিজিটালাইযেশন জরুরি বাস্তবায়ন প্রয়োজন। শহরের যানজটে বছরে তিনশ কোটি শ্রম-ঘণ্টা নষ্ট হয় যার মুল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা । আসুন আমরা করোনাকালের এই শিক্ষাকে কাজে লাগাই । মিটিঙ-এর নামে গল্পগুজব –চা-আড্ডার বিল কমিয়ে তা দিয়ে দেশের মেগা প্রকল্পে সহোযোগিতা করি। যেখানে হাতে কলমে কাজ দরকার সেগুলোকে বাছাই করে বাকিগুলোকে আমরা ডিজিটাল অফিস ঘোষণা করতে পারি। জনগণের সরকার দেশের বৃহত্তর সবার্থে তা করবেন আশা করি এবং এর সর্বোচ্চ ব্যবহার আর নীতিমালা চাই ।

লেখক : কবি , আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত