প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সারোয়ার তুষার: ক্ষমতার বিরুদ্ধে মানুষের লড়াই হচ্ছে বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতি জিইয়ে রাখার

সারোয়ার তুষার: ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অধীনতামূলক একচেটিয়া বাংলাদেশের আপামর মানুষের স্বার্থবিরোধী চুক্তির সমালোচনা করেছিলেন বুয়েটের আবরার। সেজন্য বুয়েটের ছাত্রলীগ তাকে নির্মমভাবে সারারাত ধরে পিটিয়ে খুন করে। পরিকল্পনা ছিলো আবরারকে পিটিয়ে ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে, সেই মতো পুলিশও গেটের বাইরে অপেক্ষমান ছিলো। কিন্তু নির্মম নিরঙ্কুশ ক্ষমতার বিকার এতোটাই ভয়াবহ হয় যে, মারতে মারতে ছাত্রলীগ মেরেই ফেলে আবরারকে। এটা গত বছরের ঘটনা। ছাত্রলীগের হাতে খুন-খারাবি-ধর্ষণ নতুন না। বলা যায়, খুন করা, টর্চার করা ছাত্রলীগের বিশেষ ঐতিহ্য। গত একযুগে নিজেদের অন্তর্কোন্দলেই তারা তাদের অসংখ্য কর্মীকে খুন করেছে। অসংখ্য বাবা-মায়ের বুক খালি করেছে।

বিশ্বজিতের হত্যা এখনো আমাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। কিন্তু আবরারকে হত্যার মাধ্যমে ছাত্রলীগ সংগঠন হিসেবে ভিন্ন একটা জায়গায় তাদের নিয়ে গেছে। এই খুনের মাধ্যমে ছাত্রলীগ কেবল আওয়ামী স্বৈরতন্ত্রের ক্যাডার বাহিনী হিসেবেই নয়, বরং বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদের প্যারা মিলিশিয়া হিসেবে ইতিহাসে তাদের নাম লিখিয়ে নিয়েছে। সেই দিক বিবেচনায় আবরারের হত্যাকাণ্ডের একটা ভিন্ন মাত্রা ও দ্যোতনা আছে। ক্ষমতার বিরুদ্ধে মানুষের লড়াই হচ্ছে বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতি জিইয়ে রাখার লড়াই। মিলান কুণ্ডেরার এই উক্তি আজকে ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে। আবরারের বন্ধু ও সহমর্মিরা আবরারের স্মৃতিকে অর্থময় করে তুলতে, আবরারকে ইতিহাসের বর্তমানতার মধ্যে ধারণ করার উদ্দেশ্যে আটস্তম্ভের একটা স্মৃতির মিনার নির্মাণ করেছিল গতকাল সারারাত জেগে।

পলাশীর মোড়ে। আগ্রাসনবিরোধী আটস্তম্ভে ছিল : সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, গণপ্রতিরক্ষা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, দেশীয় শিল্প-কৃষি ও নদী-বন-বন্দর রক্ষা, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদা। শহীদ আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ কর্তৃক নির্মিত মিনারটি বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। আপনাদের নিশ্চই মনে থাকবে, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে মিছিলে গুলি খেয়ে যারা শহীদ হয়েছিলেন, তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত প্রথম শহিদ মিনারটাও পাকিস্তান রাষ্ট্র ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছিল। আপনি ‘স্বাধীন’ দেশে সীমান্ত হত্যা নিয়ে কথা বলতে পারবেন না, দেশবিরোধী চুক্তির প্রতিবাদ করে কিছু লিখতে পারবেন না, লিখলে আপনাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হবে। আপনার মৃত্যু যে রাজনৈতিক নির্মমতা এবং বিদেশি আধিপত্যের সাক্ষ্য দেয়, সেই সাক্ষ্যও ইতিহাস থেকে মুছে ফেলবে বাংলাদেশে ভারতের তাঁবেদার সরকার। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত