প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শুধু চট্টগ্রাম পর্যটন খাত দিয়ে পুরো দেশকে এগিয়ে নেয়া যাবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

রাজু চৌধুরী: [২] সাবেক মেয়র ও সাবেক চট্টগ্রাম মহানগরী আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরী দেশের স্বার্থে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ও কথা বলতেন। তাঁর মধ্যে বেসিক দেশপ্রেম ছিলো।

[৩] বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, দখল ও দূষণ রোধে প্রণীত মাস্টারপ্ল্যানের বাস্তবায়ন, নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরশনের (চসিক) উন্নয়ন সংক্রান্ত আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

[৪] তিনি বলেন, কর্ণফুলী নদীর পাড় লিজ দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্যের সুযোগ করে দেয়ার যৌক্তিকতা বুঝতে পারি না।

[৫] স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এ সভা আয়োজন করে।

[৬] মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী উন্নত দেশ গড়ার স্বপ্ন লালন করেন। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে ২০০০ সালেই সিঙ্গাপুর এর মতো হতো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শহর থেকে গ্রামেও পৌঁছে দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের ব্যাপারে আন্তরিক। তাই এত প্রকল্প ও অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন।

[৭] তিনি বলেন, কোভিডের কারণে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও আমরা জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা মোকাবেলা করতে সক্ষম হব। চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ইকোনমিক হাব। সমুদ্রবন্দর সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত উপহার। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

[৮] দৃষ্টিনন্দন শহরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম দৃষ্টিনন্দন শহর হবে। আউটার রিং রোড, কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ করতে পারলে হাজার হাজার পাঁচ তারকা হোটেল হবে। শুধু চট্টগ্রাম পর্যটন খাত দিয়ে পুরো দেশকে এগিয়ে নেয়া যাবে।

[৯] মন্ত্রী বলেন, কর প্রদানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। পানির কস্টিং ২২ টাকা পড়লে আপনি দেন ৯ টাকা। হোল্ডিং ট্যাক্স সবাইকে দিতে হবে। মানুষের কল্যাণে যত কাজ সব স্থানীয় সরকার করবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্টের বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। কাটাকাটি সারা বছর চলার কারনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিণত হচ্ছে। মানুষ অসুস্থ হচ্ছে। সব ইউটিলিটি লাইনের জন্য সড়কের পাশে ঢাকনাযুক্ত লেন রাখতে হবে। জলাবদ্ধতা নিরসণ প্রকল্পে অনেক স্লুইসগেট করতে হবে, ড্রেন, কালভার্ট সঠিকভাবে করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আহরণ করে বন্দর। বন্দর থেকে ট্রাক বের হয়ে সিটি করপোরেশনের সড়ক ব্যবহার করে। চসিককে তো কেউ বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ফ্রি দিচ্ছে না। চট্টগ্রামের উন্নতির ক্ষেত্রে আপস করবো না।

[১০] সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ করায় চসিককে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদের না পাওয়ার কথা শুনে আমার নিজেরই কান্না এসেছিল। তিন বছরের বেশি সময় পোর্ট কানেকটিং রোডের দুরবস্থা চলছে।

[১১] এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন- পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার, নৌসচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।

[১২] বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম আবুল কালাম আজাদ, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান, বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম, চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ, চসিকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম চৌধুরী, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস প্রমুখ। সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বাধিক পঠিত