প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনা ভাইরাস, বর্ণবাদ, বাণিজ্যযুদ্ধ ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ট্রাম্পকে দুষলেন কমলা, রক্ষার চেষ্টা পেন্সের

লিহান লিমা: [২] যুক্তরাষ্ট্রের উতাহের সল্ট লেকে স্থানীয় সময় বুধবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একমাত্র ভাইস-প্রেসিডেন্ট বিতর্কে যোগ দেন রিপাবলিকান প্রার্থী ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ডেমোক্রেট প্রার্থী সিনেটর কমলা হ্যারিস। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় দ্ইু প্রার্থীর বসার আসনের মাঝখানেই ছিলো ১২ ফিট দুরুত্ব ও সুরক্ষামূলক কাঁচের দেয়াল। বিতর্কের মডারেটর ছিলেন ইউএসএ টুডের সাংবাদিদক সুশান পেজ। সিএনএন/আল জাজিরা/এপি/দ্য গার্ডিয়ান

[৩] প্রেসিডেন্টের দুই রানিং মেটের এই বিতর্ককে গত ২৯ সেপ্টেম্বর হওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের বিশৃঙ্খলাপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক বিতর্কের চেয়ে সুশীল বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। আল জাজিরা বলছে, বিতর্কের সময় মাইক পেন্সের মুখ ছিলো কঠোর, তার চোখে যেনো রাগ ছিলো। অন্যদিকে হ্যারিসকে অনেক আমুদে লাগছিলে। আক্রমণের সময়ও তিনি বেশ হাসিখুশি ছিলেন। বিতর্কে কমলার কথার মাঝখানে একবার মাইক কথা বলে উঠলে মিষ্টি হাসি দিয়ে মাইকে দিকে তাকিয়ে কমলা বলেন, ‘আমি কথা বলছি।’

[৪] মাইক পেন্স করোনা ভাইরাস মহামারী নিয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলেন, এই বছরের শেষ নাগাদই আমেরিকানরা মিলিয়ন ডোজের টিকা হাতে পাবেন। এদিকে হ্যারিস বলেন, চিকিৎসকদের ক্লিয়ারেন্স ব্যতিত যদি টিকার অনুমোদন দিয়ে দেয়া হয় তবে তিনি কখনোই এমন টিকা নেবেন না। কমলা আরো বলেন, যে পরিমাণ প্রাণহানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে যে কোনো প্রেসিডেন্সিয়াল প্রশাসনের তুলনায় অন্যতম ব্যর্থতার ইতিহাস। এ সময় পেন্স যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণহানির জন্য চীন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দায়ী করেন।

[৫] চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে হ্যারিস বলেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের সময় অনেক বেশি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। তরুণ মার্কিনীরা উদ্বিগ্ন। প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণে অর্থনীতির আজ এই অবস্থা। এদিকে পেন্স বলেন, ট্রাম্প চীনের সঙ্গে লড়াই করছেন যা বাইডেন কখনোই করতে পারতেন না।

[৬] যুক্তরাষ্ট্রের কর নিয়েও বিতর্কে জড়ান তারা। পেন্স বলেন, বাইডেন নির্বাচিত হলে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর করের বোঝা আরোপ করবে। হ্যারিস তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বাইডেন সব সময়ই সত্যি বলেছেন। তিনি ট্রাম্পের মতো নন যিনি কি না সততার মানেই বুঝতে পারেন না।

[৭] যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টের বিচারক রুথ বাডার গিনসবার্গ মারা যাওয়ার পর তার স্থলে রক্ষণশীল অ্যামি কনলি বেরেটকে ট্রাম্পের মনোনায়ন প্রদান করা নিয়ে হ্যারিস বলেন, ‘মার্কিন জনগণ এখন ভোট দিচ্ছেন। তাই সুপ্রিমকোর্টে আজীবন কে বিচারক হিসেবে থাকবেন তা তারাই নির্ধারণ করবেন। এদিকে বাইডেন ডেমোক্রেট মনোনীত সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়ে মার্কিন ভোটারদের সতর্ক করেন।

[৮] যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি কেনচুকিকে ব্রেওনা টেইলর ও মিনেসোটায় জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার তীব্র নিন্দা জানান হ্যারিস। এদিকে পেন্স ট্রাম্পের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও জন-নিরাপত্তা কর্মসূচীকে সমর্থন করেন।

[৯] ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যা অভিযানের সময় মার্কিন সৈন্যদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলার জন্য ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেন হ্যারিস। ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে হ্যারিস আরো বলেন, তিনি আফগানিস্তানে রাশিয়ার সৈন্যদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতেও ব্যর্থ হয়েছেন। উল্টো আমাদের সেনাবাহিনীকে পরাজিত ও অবোধ বলে অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। তিনি বর্হিবিশ্বে আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন এবং একনায়কদের আলিঙ্গন করেছেন।

 

সর্বাধিক পঠিত