প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শামসুদ্দিন আহমেদ: সবিনয় দ্বিমত , জানতে চাই- শুধু কি ধর্ষক, খুনি বা নির্যাতকদের ক্রসফায়ারে দিলেই সমাধান মিলবে?

শামসুদ্দিন আহমেদ: বেগমগঞ্জের একলাসপুরে আমার খালার বাড়ি। নির্যাতিত নারীকে আমি খালা, খালাতো বোনের স্থান থেকে কল্পনা করি। আঁৎকে উঠি। ভয়ে কুঁচকে যাই। ‘৭১ দেখিনি। কারণ তখন এই ধরণীতে আসিনি। হানাদার বাহিনীর বর্বরতা, নৃশংসতা, পাষণ্ডতা সম্পর্কে পড়েছি। জেনেছি। দালিলিক প্রমাণ রয়েছে। হুবহু একই আদলের বর্বরতা এখনো দেখছি। কম-বেশি সব আমলেই ঘটেছে, ঘটছে। বীভৎসতার রকমফের থাকতে পারে। কিন্তু অপরাধ অপরাধই। আমি বিষয়টাকে সবসময়ই অন্যভাবে দেখি। ভিন্নভাবে বিশ্লষণের বা বোঝার চেষ্টা করি। ধর্ষক, নির্যাতক, খুনি, জনগণের অর্থ-সম্পদ লুটেরা, জনগণের অধিকার-বিরোধীরা; এরা এখন যে যে দলই করুক না কেন- এরা প্রকৃত পাকিস্তানপন্থী। এদের রক্তে পাকিস্তানি ধারা বহমান। এদের জিনগত পরীক্ষায় নিশ্চয়ই সেটির প্রমাণ মিলবে। একথাটা কেন এত জোর দিয়ে বলছি? কারণ এদের চিন্তায়, ধ্যানে, ধারণায় ও কর্মকাণ্ডে আইয়ুব- ইয়াহিয়াদের বৈশিষ্ঠ্যের প্রতিফলন একদম সুস্পষ্ট।

‘সবিনয় দ্বিমত’ শিরোনামে কেন শুরু করলাম। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখছি একলাসপুরের ঘটনায় নির্যাতকদের শাস্তির দাবিতে দারুণ জনমত। স্যালুট। আমার অত্যন্ত প্রিয়জন ও শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক-কলামিস্ট-টকশো ব্যক্তিত্ব পীর হাবিবুর রহমান ভাইসহ অনেকেই দেখলাম নির্যাতকদের ক্রসফায়ারে দেওয়ার পক্ষে দাবি তুলেছেন। বিশেষত, পীর ভাইকে আমি রাজনৈতিক সাংবাদিকতার একজন আইকন হিসেবে দেখি এবং মানি। কী পত্রিকায়, কী ফেসবুকে, কী টকশোতে- যেখানেই তার লেখা ও কথা পাই আমি প্রবল আগ্রহ ভরে লুপে নিই। তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা হৃদয়ের অন্তরস্থল থেকে। এবার দ্বিমতটা জানিয়ে রাখি। শুধু কি ধর্ষক, খুনি বা নির্যাতকদের ক্রসফায়ারে দিলেই সমাধান মিলবে? শুধু কী তাদের শাস্তি হলেই স্থায়ী সমাধান আসবে? পীর ভাই, আমার এটা একদম মনে হয় না। দুই একজন ধর্ষককে আগেও ক্রসফায়ারে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণ কি থেমেছে? অনেক খুনি, দাগি আসামি ক্রসফায়ারে গেছে। খুন কি বন্ধ হয়েছে? হয়নি। মূল প্রশ্ন- ধর্ষক, নির্যাতক, খুনি, ব্যাংক-শেয়ারবাজার লুটেরা, জনগণের অর্থ- সম্পদ লুটেরা, জনগণের হক লুটেরারা কেন এতো প্রভাবশালী? ওদের সাহস এতো এত বিস্তৃত কেন? ওদের হাত এত দীর্ঘ কেন? এই দুঃসাহস, স্পর্ধা, ঔদ্ধত্যের উৎস কি? আমার দ্বিমতটা এখানেই। খুনি, ধর্ষক, নির্যাতক ও লুটেরা চক্রের শাস্তির সঙ্গে ওই উৎসের বিনাসও অপরিহার্য। নইলে এটা হবে মলম চিকিৎসা। মলম দিয়ে ত্বকের চুলকানি সাময়িক থামানো যায়। কিন্তু দেহের ভেতরের জীবাণু ধ্বংস না করলে চর্ম রোগের স্থায়ী উপশম হয় না। এই ধর্ষক, নির্যাতক ও লুটেরা চক্র সমাজের ভেতরের জীবাণু। এর স্থায়ী চিকিৎসায় একটা উল্লম্ফন জরুরি। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত