প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ‘বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাব, এ আমার অঙ্গীকার’: প্রধানমন্ত্রী

বাশার নূরু: [২] প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কবি সুকান্তের ভাষায় বলতে চাই এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার অঙ্গীকার। তার কথাটা সবসময় মনে রাখি। এই বিশ্বকে আমরা এমনভাবে তৈরি করতে চাই, আমাদের শিশুরা যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে, চলতে পারে, উন্নত জীবন পেতে পারে। সুন্দর জীবন পেতে পারে, নিরাপদ জীবন পেতে পারে। আর শিক্ষা দীক্ষায় সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়।

[৩] প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, মহামারীর এই সময়ে স্কুল যেহেতু বন্ধ, বাচ্চাদের মুক্ত হওয়ায় খেলার সুযোগ দিতে প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য হলেও তাদের কাছাকাছি কোনো পার্ক বা মাঠে নিয়ে যাবেন। এই শিশুরাই আগামী দিনের কাণ্ডারী। তাদের ‘মানুষের মত মানুষ’ হিসেবে গড়ে তুলতে লেখাপড়ার পাশপাশি খেলাধুলা, শরীরচর্চা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তাদের সম্পৃক্ত করা জরুরি।

[৪] তিনি বলেন, বাচ্চাদের ছুটোছুটি করা, খেলাধুলা- সেগুলো যেন তারা করতে পারে, সেই সুযোগটা সৃষ্টি করে দেওয়া দরকার আমি মনে করি। কারণ তাদের স্বাস্থ্যের জন্য, তাদের মানসিক অবস্থাটার জন্য এটা খুবই দরকার।

[৫] প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়মগুলো সবাইকেই মেনে চলতে হবে। কিন্তু সাথে সাথে একটু বাচ্চাদের খেলাধুলার ব্যবস্থা করা বা তাদেরকে একটু খোলা বাতাসে নিয়ে যাওয়া বা একটু রোদে খেলতে দেওয়া- এটা এই করোনাভাইরাসের জন্য সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। কাজেই আমি চাইব, আপনারা সেইদিকটা অন্তত দেখবেন।

[৬] তিনি বলেন, আজকে এই শিশুদের মধ্য থেকেই তো কেউ প্রধানমন্ত্রী হবে, মন্ত্রী হবে বা ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বা বিজ্ঞানী, অনেকেই অনেক কিছু হতে পারবে। আর আমরা সেই ধরনের বহুমুখী জ্ঞান বিকাশের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়- সব আমরা করে দিচ্ছি, যাতে বহুমুখী শিক্ষা পেয়ে আমাদের ছেলেমেয়েরা মানুষের মত মানুষ হয়।

[৭] ১৫ আগস্ট কালরাত্রিতে নিহত পরিবারের সদস্য ও শিশুদের হারানো কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ছোট ভাই ছিল মাত্র ১০ বছরের একটি শিশু। ঘাতকের দল তাকেও ছাড়েনি। সেই সাথে আরও কয়েকজন শিশুকে তারা হত্যা করে। আমার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে ছোট শিশু সুকান্ত তাকে হত্যা করেছে। আমার ফুফাতো ভাই ১০ বছরের আরিফ, রাসেলের খেলার সাথী তাকে হত্যা করেছে। আমাদের বাড়িতে কাজ করতে পোটকা এবং পোটকার মা, ছোট্ট বাচ্চা ছেলে মাত্র ৫/৬ বছর বয়স। তাকেও খুনিরা ছাড়ে নাই।

[৮] তিনি বলেন, আর কখনও যেন এই ধরনের ঘটনা না ঘটে। সেটাই আমরা চাই। কিন্তু তারপরও আমরা দেখি বিশ্বের নানা ধরনের সংঘাত, যখন দেখি কোন শিশুর অকাল মৃত্যু সেটা সত্যি আমার ভীষণভাবে নাড়া দেয়। সেটা আমার দেশেই হোক, বা বিদেশেই হোক, বঙ্গোপসাগরেই হোক, ভূমধ্যসাগেরর পাড়েই হোক, প্রতিটি ঘটনাই আমাদের নাড়া দেয়। কিন্তু আমরা চাই, শিশুদের জন্য এই পৃথিবীটা একটা নির্ভরযোগ্য, শান্তিপূর্ণ বাসযোগ্য স্থান হোক।

[৯] সোমবার গণভবন সকালে বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস এবং শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০২০’র উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন।

 

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত