প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শেরপুরের ৭ মাসেও সন্ধান মেলেনি বিধবা জমেনা বেওয়ার!

তপু সরকার : [২] শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামের মৃত বিধবা জমেনা বেওয়া(৫৫)নিখোঁজের পর প্রায় ৭মাস পেরিয়ে গেলেও কোন সন্ধান মেলেনি ওই বিধবার!জমেনা বেওয়ার । জমেনা খামারপাড়া গ্রামের মৃত মুন্তাজ আলীর স্ত্রী, তার রয়েছে ২মেয়ে মর্জিনা ও মোর্শেদা।বড় মেয়ে মর্জিনাকে বিয়ে দেন একই গ্রামে আর ছোট মেয়ে মোর্শেদাকে বিয়ে দেন নালিতাবাড়ী উপজেলার বড়ডুবি গ্রামে।

[৩] স্বামীর মৃত্যুর পর ৫-৬বছর বিধবা জমেনা তার ২মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ীতে বসবাস করলেও জমেনার বাবার মৃত্যুর পর গত প্রায় ৯বছর যাবৎ বড় মেয়ে মর্জিনার বাড়ীতে জমেনা বসবাস করে আসছে।

[৪] নিখোঁজ জমেনার পরিবার ও মামলার সূত্রে জানা যায়,গত রমজান মাসের রোজার আগের দিন বিকাল আনুমানিক ৪ঘটিকার দিকে তিনানী বাজারে যাওয়ার উদ্দেশে মেয়ে মর্জিনার বাড়ী থেকে বের হয়। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এলেও বিধবা মাতা বাড়ীতে ফিরে না আশায় মর্জিনা তার মায়ের খোঁজে বাড়ী থেকে বেড়িয়ে পড়ে।

[৫] শুরু হয় খোঁজাখুজি, মাইকিং, বিভিন্ন হাট-বাজরে নিখোঁজের সন্ধ্যান চেয়ে পোষ্টার। কোন কিছুতেই মর্জিনার মায়ের কোন খোঁজ না পেয়ে গত ১১/০৫/২০২০ইং তারিখে ঝিনাইগাতী থানায় মর্জিনা একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যাহার নম্বার -৩১৪। সময় অনেক পেড়িয়ে গেলেও থানা পুলিশ কর্তৃক কোন ফলাফল মেলেনি।

[৬] অপর দিকে মর্জিনার আপন খালু একই গ্রামের .বিল্লাল হোসেন (৩৪)তিনি মর্জিনা ও তার ছোট বোন মোর্শেদাকে অনবরত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে মর্জিনার আপন মামা মৃত আকবর আলীর ছেলে মো.আফজাল হোসেন(৬০)এর নামে সরাসরি গুমের মামলা করার জন্য । মর্জিনারা ২ বোন মামা আফজালের প্রতি কোনরুপ সন্দেহ না থাকায় তার বিরুদ্ধে মামলা করতে রাজি না হওয়ায় বিল্লাল মর্জিনা ও মোর্শেদাকে মারধর করাসহ হুমকিও অশালীন আচরণ করে আসছে বলেও অভিযোগ আসে ।

[৮] মর্জিনারা ২ বোন এতিম ও অসহায় হওয়ায় ,মামা আফজাল বোন ও ২ ভাগিনীর প্রতি আন্তরিক ছিল। অপর দিকে বহুদিন যাবৎ জমাজমি ও পারিবারিক নানা সমস্যা নিয়ে বিল্লাল ও আফজালের পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল । যার ফলশ্রুতিতে বিল্লালের বিভিন্ন আচরণে মর্জিনাদের ২বোনের সন্দেহ হয় বিল্লালের দিকেই ।

[৯] গত ৩১/০৮/২০২০ইং তারিখে মোছা.মোর্শেদা বেগম বাদী হয়ে শেরপুরের সি.আর. আমলী আদালতে বিল্লাল হোসেনকে আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগটি গত০২/০৯/২০২০ইং তারিখে মহামান্য আদালত আমলে নিয়ে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আল মামুন তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঝিনাইগাতী থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন। ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)আবু বকর সিদ্দিক আদালতের নির্দেশনাপত্র পেয়ে মামলাটি তদন্ত করার জন্য এসআই মো.সাইদুল ইসলাম খাঁনকে দ্বায়িত্ব প্রদান করেন । অদ্যবধি ১মাস পেরিয়ে গেলেও উক্ত মামলার কোন ক্লো বের করতে পারেননি।বরং বাদী মোর্শেদাকে থানায় ডেকে এনে জেরা করেছেন,কেন বিল্লালের নামে মামলা করা হলো?

[১০] মোর্শেদার অভিযোগ তার মা নিখোঁজের মামলাটি থানা পুলিশ গুরুত্বের সাথে দেখছেন না। অন্যদিকে বিল্লালকে আসামী করে আদালতে মামলা করায় বিল্লাল মর্জিনা ও মোর্শেদাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছে বলে জানান বাদী মোর্শেদা।

[১১] এ ব্যাপারে মালিঝিকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম তোতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,নিখোঁজের বিষয়টি জেনেছি, আমি ও আমার পরিষদ বিধবা জমেনাকে খোঁজার চেষ্টা করেছি, কোন কাজ হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো.সাইদুল ইসলাম খাঁন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে বাদী মোর্শেদা কর্তৃক তাহার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে এ প্রতিনিধিকে বলেন, মামলাটির তদন্তভার পেয়েছি ১সপ্তাহ আগে,আমি বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করছি মামলাটির তদন্ত কাজ শেষ করার জন্য।

[১২] এ মামলার বাদী মোর্শেদা ও বড় বোন মর্জিনা বলেন, আমরা এতিম ও অসহায়।আমাদের বৃদ্ধ মা আজ প্রায় ৭মাস গত হচ্ছে নিখোঁজ। তিনি কি আজও বেচেঁ আছে নাকি মরে গেছে কিছুই জানিনা।আমরা এতিম ও অসহায় ২বোন আমাদের মায়ের বিষয়ে সঠিক তথ্যটি নিশ্চিতকরনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

 

 

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত