প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ৮ ঘণ্টায় মজুরি ১২০ টাকা, ভালো নেই চা শ্রমিকরা

ছনি চৌধুরী : [২] হবিগঞ্জ জেলায় রয়েছে ২৪টি চা বাগান। এর মধ্যে নবীগঞ্জ উপজেলায় ইমাম-বাওয়ানী, ববান চা বাগান। আর এসব বাগানের চা শ্রমিকেরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। চা গাছ ছেঁটে যেভাবে ২৬ ইঞ্চির বেশি বাড়তে দেয়া হয় না। চা শ্রমিকের জীবনও যেন চা গাছের মতোই। লেবার লাইনের ২২২ বর্গফুটের কুড়ে ঘরে বন্দি। চা বাগানের জীবনও যেনো এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো। আর বাগানটাই শ্রমিকদের কাছে গোটা পৃথিবী।

[৩] দিনে আট ঘণ্টা টানা কাজ করেও সকালে চা-পাতা ভাজা, দুপুরে শুকনা রুটি এবং রাতে মরিচ দিয়ে ভাত খেয়ে জীবন কাটাচ্ছেন হবিগঞ্জের চা শ্রমিকরা। পরিশ্রম শেষে প্রতিদিন একজন শ্রমিক ২৩ কেজি চা-পাতা সংগ্রহের পরেও মজুরি হিসেবে পাচ্ছেন মাত্র ১০২ টাকা। অনেক আন্দোলনের পর চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৭ টাকা বাড়িয়ে ১০২ টাকা করা হয়েছে।

[৪] ১০২ টাকায় শ্রমিকরা না নিজেরা ভালোভাবে খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারছেন, না তাদের সন্তানরা ভালোভাবে বেড়ে উঠছে। আর পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে চা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও অপুষ্টিতে ভুগছেন।

[৫] হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট, মাধবপুর, বাহুবল, নবীগঞ্জের ১৫ হাজার ৭০৩ দশমিক ২৪ হেক্টর চা বাগান রয়েছে।

[৬] সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ আন্দোলনের পর চা শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৬৯ টাকা থেকে বেড়ে ৮৫ টাকা এবার অনেক আন্দোলনের পর মজুরি মাত্র ১৭ টাকা বাড়িয়ে এখন ১০২ টাকা, সাপ্তাহিক ছুটির দিনের মজুরি প্রদানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মালিকপরে সঙ্গে দ্বিপীয় চুক্তি স্বারিত হয়েছে।

[৭] শ্রমিকরা অধিকার আদায়ে মাঝে মধ্যে আন্দোলনে নামতেও বাধ্য হন। তবে সকল বঞ্চনা, ঝুঁকি-অনিশ্চয়তা মেনে নিয়েই বাগান আঁকড়ে জীবন কাটান শ্রমিকরা। এমনকি বাগানে কাজের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হলেও, এই বাগানেই কোন না কোনোভাবে থেকে যাবার চেষ্টা করেন তারা। কেননা বাইরের জীবন তাদের কাছে একেবারেই অচেনা।

 

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত