প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যর্থতার গণ্ডিতেই ঢাকা মহানগর বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট: ব্যর্থতার গণ্ডি থেকে বেরোতে পারছে না ঢাকা মহানগর বিএনপি। সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে তাদের অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। মাঝে-মধ্যে ঝটিকা মিছিলের মধ্যেই নিজেদের অন্দোলন সীমাবদ্ধ রাখছেন তারা। দলে গতি আনতে মহানগরকে দুই ভাগ করা হলেও আশানুরূপ ফল হয়নি বলে মনে করছেন অনেকে। যদিও নিজেদের এই ব্যর্থতা ঢাকতে তাদের নামে সরকারের করা মামলা হামলার বিষয়টিকেই সামনে এনেছেন মহানগরীর শীর্ষ নেতারা। এদিকে বিগত আন্দোলন সংগ্রামে রাজধানীতে বিএনপি’র সক্ষমতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। যদিও দুই ইউনিটের নেতারা বলছেন, সরকারের সব ধরনের দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। এদিকে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সীমিত আকারে বিএনপি’র সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করলেও মহানগর কমিটি নিয়ে কোনো নির্দেশনা পাননি দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

জানা যায়, বিগত এক দশক থেকে ঢাকা মহানগর কমিটির নেতৃত্বে যারাই এসেছেন প্রত্যেকে নিজের অনুসারী সৃষ্টি করেছেন।

পরে থানা বা ওয়ার্ড কমিটি করতে গেলেও এর প্রভাব দেখা যায়। এসব কারণেই দীর্ঘদিন আটকে থাকে ওয়ার্ড ও থানা কমিটি। বর্তমান কমিটিতেও এই প্রথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৮ই এপ্রিল ঢাকা মহানগর বিএনপিকে উত্তর ও দক্ষিণ দুইভাগে ভাগ করা হয়। দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে দক্ষিণের সভাপতি, কাজী আবুল বাশারকে সাধারণ সম্পাদক এবং উত্তরে এমএ কাইয়ুমকে সভাপতি, আহসান উল্লাহ হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭০ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। গঠনতন্ত্রের নিয়মানুযায়ী এই কমিটির এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ। এদিকে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে উত্তরের সভাপতি কাইয়ুমকে নিয়ে। কারণ সভাপতি করার আগে থেকে একটি হত্যা মামলার কারণে তিনি চার বছর ধরে বিদেশে রয়েছেন। এ অবস্থায় একজন নেতাকে কী করে মহানগরীর মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি কমিটির সভাপতি করা হলো তা দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীর মাঝে রয়েছেন ক্ষোভ ও হতাশা। গত ২২শে জুন ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম নকিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি সহ-সভাপতি ছিলেন। অভিযোগ ওঠে, গঠনতন্ত্র বহির্ভূত সহ-সভাপতি থেকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুবরণ করলে বা কোনো কারণে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। এক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। এ নিয়ে দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।

অনেকেই বলছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সফলতা আনতে হলে রাজধানীতে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। বিএনপি’র প্রতি মানুষের যে সর্মথন আছে, নেতৃত্বের দুর্বলতার কারণে তা কাজে লাগাতে পারেনি। ফলে নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তরুণ নেতাদের হাতে দায়িত্ব দিলে অচিরেই ঘুরে দাঁড়াবে মহানগর বিএনপি। কেন্দ্রের পাশাপাশি থানা এবং ওয়ার্ডেও তারুণ্য নির্ভর নেতৃত্ব আনতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি’র এক নেতা বলেন, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি নির্বাচনের ফলাফলের ভোটে দেখা গেছে, কোন কোন ভোটকেন্দ্রে দলের মেয়র প্রার্থী ভোট পেয়েছে কম আর কাউন্সিলরের ভোট বেশি। আবার কোথাও মেয়র প্রার্থী ভোট বেশি পেয়েছে আর কাউন্সিলর প্রার্থী কম। এটা তৃণমূল নেতাদের মধ্যে সামঞ্জস্যহীনতারই প্রতিফলন। স্থানীয় অনেক নেতাই বিভিন্ন সুবিধার বিনিময়ে বিরোধী পক্ষের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে চলছেন। যদিও তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী গত কয়েক বছর ধরে বাসায় ঘুমাতে পর্যন্ত পারেন না মামলা হামলার কারণে। কিন্তু এসব বিষয় নিয়ে ইউনিটের পদধারী নেতারা কিছুই ভাবেন না।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হয় । তারা বলেন, মহানগরের দুই অংশের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই ওয়ার্ড ও থানা লেভেলে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তেমন কোনো যোগাযোগ রাখেন না। বিভিন্ন মামলা- হামলার শিকার হওয়া নেতারা তাদের কাছে গেলে কোনো সহায়তা পর্যন্ত করেন না। অথচ তাদের থেকে আমরাই বেশি এই সরকারের রোষানলের শিকার। এছাড়া এই করোনাকালে আমাদের অনেক নেতাকর্মী খুব অসহায় জীবন-যাপন করছেন। কিন্তু অনেক এলাকায় দলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা দূরের কথা ফোন দিয়ে কোন খোঁজ খবর নেয়নি কেউ। আর বড় পদে যারা রয়েছেন তারা তাদের মন মতো থানা ও ওয়ার্ড কমিটিতে নেতা নির্বাচন করে দেন। এর মধ্যে অনেকে কোনো বলয়ের না হওয়ায় তারা কোনো কমিটিতেই আসতে পারেন না। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নজর দেয়ার আহ্বান জানান তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, আমাদের কমিটি দেয়ার পর থেকে কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচি স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করেছি। সরকারে পক্ষ থেকে বার বার বলা হয়েছে বিরোধী দলের কাউকেই মাঠে নামতে দেয়া হবে না। তারপরেও আমরা সব প্রোগ্রাম চ্যালেঞ্জের সঙ্গে করে আসছি। আর আমাদের কমিটির হওয়ার পর কেন্দ্র থেকে বড় ধরনের আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হয়নি। আর যেহেতু বড় ধরনের আন্দোলনের ঘোষণা আসেনি সেহেতু আমাদের সক্ষমতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নাই। তবে দল যখনই আন্দোলন-সংগ্রামের ডাক দিবে আমরা প্রস্তুত রয়েছি এই সরকারে বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার।
অভিযোগ রয়েছে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছ থেকে মহানগরীর নেতারা আন্দোলন সংগ্রামে কোনো ধরনের সহযোগিতা পান না এমন প্রশ্নে সোহেল বলেন, এটা ঠিক নয়। আমাদের যার কাছ থেকে যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন কেন্দ্রীয় নেতারা আমাদের সেটা করে আসছেন। আমরা ওনাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছি বলেই সফলতা অর্জন করেছি। সফলতা বলছি এই কারণে যে, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে আমরা সাংগঠনিকভাবে অনেক শক্তিশালী। আমরা ইতিমধ্যে দক্ষিণে তিনটি বাদে সবগুলো থানা কমিটি দিয়েছি। এছাড়া বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড কমিটিও দিয়েছি। করোনা পরিস্থিতির কারণে কমিটি গঠন নিয়ে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। এটা তুলে দিলে খুব শিগগিরই বাকি কমিটিগুলো করা হবে।

দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার বলেন, সরকারের দমন-পীড়ন, মামলা-হামলার কারণে আমরা ঠিকমতো কাজ করতে পারিনি। সভাপতি বাইরে থাকলে সাধারণ সম্পাদক থাকেন জেলে। আবার সাধারণ সম্পাদক বাইরে থাকলে সভাপতি থাকেন জেলে। এভাবেই আমাদের সময়টা চলে গেছে।

ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম নকি বলেন, ঢাকা উত্তরে আমাদের ২৬ থানা কমিটি এবং ৫৪টি ওয়ার্ড কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। দলীয় কর্মকাণ্ড কেন্দ্রের নির্দেশনা মোতাবেক চালিয়ে যাচ্ছি। এটা ঠিক আমরা সরকার পতনের আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছি। জনসমর্থন কাজে লাগাতে পারিনি। তবে মহানগর বিএনপি’র যে কর্মী-সমর্থক আছে তাতে আমরা যেকোনো সময় ঘুরে দাঁড়াবো বলে বিশ্বাস করি।মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত