প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আগুন জ্বলছে নিত্যপণ্যের বাজারে

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনা ও উত্তরের জেলাগুলোয় টানা বন্যার কারণে কর্মহীন দেশের অগণিত মানুষ। ভেঙে গেছে অনেক পরিবারের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড। সরকারি চাকরিজীবী ছাড়া অধিকাংশ নিম্ন আয়ের পরিবারের এখন নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। এ পরিস্থিতিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। আকাশচুম্বী সবজির বাজার। চাল, ডাল, ডিম, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে গুঁড়া দুধ- অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। কাঁচা মরিচ ও পিঁয়াজের দাম কমছেই না। করোনার কারণে একদিকে আয়ে ভাটা, অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মানিকদী বাজার, ভাসানটেক বাজার, কচুক্ষেত বাজার, মিরপুর-১ কাঁচাবাজার, আমতলা বাজার, ভাটারার ছোলমাইদ বাজার ও বাড্ডা বাজার সরেজমিন ঘুরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এমন চিত্র দেখা গেছে। এর মধ্যে বাজারভেদে বিভিন্ন পণ্যের দাম কেজিপ্রতি বেড়ে গেছে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। বিশেষ করে সবজির দামে সবচেয়ে বেশি হেরফের চোখে পড়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন

এদিকে সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে গতকাল খুচরা বাজারে মোটা চাল, খোলা সয়াবিন তেল, খোলা পাম অয়েল, ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল, পাম অয়েল সুপার, সব ধরনের ডাল, ছোলা, আলু, পিঁয়াজ, রসুন, শুকনা মরিচ, আমদানি আদা, এলাচ, ধনে, রুই মাছ, খাসির মাংসের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে পিঁয়াজের দাম বেড়েছে ৭০ শতাংশ; যা গত মাসে বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫৫ টাকায়।

অস্থির চালের বাজার : কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না চালের বাজার। সম্প্রতি খাদ্য ভবনের সম্মেলন কক্ষে দেশের চালকল মালিক, পাইকারি ও খুচরা চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে মিলগেটে প্রতি কেজি উৎকৃষ্টমানের মিনিকেট চাল ৫১ টাকা ৫০ পয়সা দরে ৫০ কেজির বস্তা ২ হাজার ৫৭৫ এবং মাঝারি মানের প্রতি কেজি ৪৫ টাকা দরে ৫০ কেজির বস্তা ২ হাজার ২৫০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। নির্ধারিত দরের বেশি বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন খাদ্যমন্ত্রী। তবে এর কোনো প্রভাব পড়েনি পাইকারি ও খুচরা বাজারে। দাম না কমে উল্টো বেড়েছে। এক মাসের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৪ থেকে ৬ টাকা। বর্তমানে খুচরা বাজারে ধরনভেদে প্রতি কেজি নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৬৪ টাকায়। মিনিকেট প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৬০, মোটা চাল ৪৪-৫০ ও আতপ চাল ৫৫-৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি ও খুচরা বাজারে দর নির্ধারণ না করায় চালের বাজার অস্থির। প্রতিদিনই বাড়ছে দাম। এক মাস আগে নাজিরশাইল (সরু) চালের দাম ছিল কেজি ৬৪ টাকা। গত সপ্তাহে তা ৬০ টাকায় নামে। গতকাল আবারও সে চাল বাজারভেদে কেজি ৬২-৬৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মোটা চাল (স্বর্ণা-চায়না-ইরি) এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৪২-৪৮ টাকায়। গতকাল ৪৪-৫০ টাকায়। এ ছাড়া কেজিপ্রতি পাইজাম ৫০, বিআর-২৮ চাল ৫০, মিনিকেট ধরনভেদে ৪৮-৬০ টাকায় বিক্রি হয়। সেনপাড়ার দোকানি জাকির হোসেন বলেন, চালের দাম পাইকারি বাজারেই বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারেও কেজিপ্রতি ৪-৫ টাকা বেড়েছে। তিনি বলেন, ১০ দিন আগেও মিনিকেট (২৫ কেজির) বস্তা কিনতাম ১৩৪০ টাকায়, এখন ১৩৯৫ টাকা। পাইজাম (৫০ কেজি) বস্তার দাম ছিল ২২৮০ থেকে ২৩২০ টাকা। এখন ২৩৮০ থেকে ২৪০০ টাকা। মোটা চাল খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৪১ টাকায়। তিনি বলেন, মাসের ব্যবধানে তেলের দাম ৩-৪ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া গুঁড়া দুধ কেজিতে ২০, ডিম ডজনে ১৫, আলু কেজিতে ৫ ও আদার দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে।

সবজি বাজারে আগুন : বাজারের প্রধান সবজিগুলোর মধ্যে শুধু গোল আলু, পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫০ টাকার নিচে। তবে লাল আলু প্রতি কেজি ৫০-৫৫ ও জাম আলু ৬০-৬২ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অধিকাংশ সবজির দাম ৭০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচটি সবজির দাম ১০০ টাকা স্পর্শ করেছে। বাকি সবজির বেশির ভাগেই প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার কাছাকাছি। গতকাল বাজার ও মানভেদে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হতে দেখা গেছে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকায়। কাঁচা মরিচের কেজি দীর্ঘদিন ধরেই ২০০ টাকার ওপরে। গতকাল বাজারভেদে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৯০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি। বাজারে নতুন আসা ধনেপাতা ১০০ গ্রাম ১৫-২০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কেজি পাকা টমেটো ১০০-১২০, গাজর ৬০-৮০, গোল সাদা ও লম্বা লাল বেগুন ৭৫-৮৫, গোল লাল বেগুন ১০০-১১০, বরবটি ৮০-১০০, করলা ৭০-৮০, উচ্ছে ৮০-৯০, পেঁপে ৪০, গোল আলু ৪০, পটোল ৭০-৭৫, ঢেঁড়স ৫৫-৬০, কচুর মুখি ৬০-৭০, ঝিঙ্গা ৬০-৬৫, শসা ৯০-১০০, কাঁকরোল ৬৫-৭০, আমদানি পিঁয়াজ ৭৫-৮৫, দেশি পিঁয়াজ ৮৫-১০০, দেশি রসুন ১১০-১২০, আমদানি রসুন ৯৫-১০০ ও প্রতি পিস লাউ ৫৫-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু ও পেঁপে বাদে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। আলুর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে কেজিতে ৪ টাকা। পেঁপের দাম স্থির রয়েছে।

মুরগির চেয়ে সবজির দাম বেশি : বাজারে অন্যান্য পণ্যের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম কমে মিলছে। গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। সে ক্ষেত্রে শিম, ধনেপাতা ও কাঁচা মরিচের চেয়ে কম দামে মিলছে মুরগি। গরুর মাংস গত সপ্তাহের চেয়ে সামান্য কমে বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬০০ টাকা কেজি। খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা। তবে অনেক সুপার শপ ও অনলাইন প্ল্যাটফরমে খাসির মাংস প্রতি কেজি ৯৪০ টাকায় বিক্রি হতেও দেখা গেছে। ডিমের দাম বেশ কিছুদিন ধরেই বাড়তি। গতকাল প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

পাইকারি বাজারেও সবজির ভিন্ন ভিন্ন দাম : গতকাল কারওয়ান বাজারে এক পাল্লা (৫ কেজি) বেগুন বিক্রি হয়েছে ৩০০, আলু ২০০, টমেটো ৫০০, ঢেঁড়স ২৫০, পেঁপে ১৫০, ঝিঙ্গা ২৫০, মুলা ২০০ থেকে ৩৭০, শিম ৭০০, পটোল ২৬০, করলা ৩৫০ টাকা। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব সবজির দাম পাল্লাপ্রতি বেড়েছে বেগুন ৫০ থেকে ১০০, আলু ৪০-৫০, টমেটো ১০০-১৫০, ঢেঁড়স ৫০, পেঁপে ৩০-৪০, ঝিঙ্গা ৭০-৮০, মুলা ১০০-১৫০, ৫০-৬০, করলা ৮০-১০০ টাকা। এদিকে মিরপুর-১ নম্বর পাইকারি বাজারে গতকাল ১ পাল্লা বেগুন বিক্রি হয়েছে ২৫০, আলু ১৮০, টমেটো ৪০০, ঢেঁড়স ২০০, পেঁপে ১৩০, ঝিঙ্গা ২৩০, মুলা ২০০-২৫০, শিম ৬০০-৭০০, পটোল ২৬০, করলা ৩৫০, শসা ৪০০, মরিচ ৯০০, কচুর মুখি ১৮০ এবং ধনেপাতার কেজি ১৩০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া ফুলকপি-বাঁধাকপি প্রতিটির ২৫, লাউ ৩৫-৪০, মিষ্টিকুমড়া প্রতি কেজি ২৫ টাকা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত