প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ডিজিটাল সেবায় নজির স্থাপন করলেন এনআইডি ডিজি

সাইদ রিপন: [২] করোনা মহামারীতে স্থবির বিশ্বে বিভিন্ন প্রয়োজনে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) গুরুত্ব অনেকগুণ বেড়েছে। এ সময়ে সরকারি-বেসরকারি বেশিরভাগ অফিস বন্ধ থাকলেও পুরোদমে এনআইডি সেবায় নিয়োজিত ছিল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

[৩] জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সেবাটি নিশ্চিত করতে এ অনুবিভাগের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েও সফলভাবে এনআইডির অনলাইন সেবা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন। মাত্র ৪৮ জন কর্মকর্তা দিয়ে ১১ কোটি কার্ডধারীকে আইডিইএ প্রকল্পের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে বিভাগটি।

[৪] এ বিষয়ে এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম বলেন, গত ২৬ এপ্রিল থেকে সরকারের সাধারণ ছুটির করনে এনআইডি সেবা নিশ্চিতে বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যাই। কিন্তু চীনে কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পরই আমি এনআইডি সেবা নিয়ে ভাবতে থাকি। আমার টিমের বিস্তৃত চিন্তায় বর্তমানে এ বিশাল চ্যালেঞ্জটি উতরে এখন সাফল্যের দোড় গোড়ায় পৌঁছে গেছে সেবা। দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে ঘরে বসেই এনআইডির সকল সেবা নিতে পারছেন সর্বসাধারণ। এখন পর্যন্ত অনলাইন সেবায় কেউ দুর্নীতির গন্ধও পায়নি বলে জানিয়েছেন, এনআইডি মহাপরিচালক।

[৫] সরেজমিনে দেখা গেছে, করোনার আগেও এনআইডির সবধরনের সমস্যা সমাধানে সকাল থেকে সন্ধা অবধি নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) সেবাপ্রার্থীদের ভিড় লেগেই থাকতো। কিন্তু লকডাউনে অনলাইনে সেবা চালুর পর থেকে একধরনের জনমানব শূণ্যে পরিণত হয়েছে ইটিআই ভবন। বর্তমানে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকদিন ইটিআই ভবন ঘুরে এনআইডির সেবায় নিয়োজিত থাকা কর্মকর্তারা ছাড়া কোন লোকজন চোখে পড়েনি।

[৬] এ বিষয়ে এনআইডি মহাপরিচালক বলেন, এনআইডি সেবা মানুষের দাড়প্রান্তে পৌঁছে দিতে আমাদের চেষ্টা ছিল। বর্তমানে আমরা মানুষের দাড়প্রান্তে নয়, হাতের মুঠোয় সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। এ কাজটি করতে আমাদের যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। এখন কাউকে এনআইডির সকল সেবা পেতে উপজেলাও যেতে হচ্ছে না। কয়েকমাস আগেও প্রধান কার্যালয়ে দেড় থেকে কিলোমিটার লাইন থাকতে, কিন্তু এখন লাইন তো দূরের কথা কোন মানুষই দেখা যায় না। এই অনলাইন সেবাটা চালু করতে আমরা কার্ড মেনেজমেন্ট সফটওয়্যার ডেভেলপ করেছি। বর্তমানে এ সফটওয়্যারের মাধ্যমেই মানুষের হাতের মুঠোয় সেবাটা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

[৭] এ সেবার ফলেই দুর্নীতির সব শেকড় বা পথগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। কেউ অনলাইনে আবেদন করলে যদি কাগজপত্র ঠিক থাকে তাহলে কারেকশন মাইগ্রেশনের জন্য তাকে কিন্তু আসতে হচ্ছে না। ঐ অ্যাপের মাধ্যমেই ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে পারছে। আর যারা নতুন ভোটার হচ্ছে তারা অনলাইনে সব তথ্য দিয়ে আবেদন করছে, শুধু ছবি ও আইরিশ ছাপ দিতে একবার আসতে হচ্ছে।

[৮] এক প্রশ্নে তিনি বলেন, নতুন যারা তাদের কার্ড সাথে সাথেই দিয়ে দিচ্ছি। আর যাদের সংশোধনীর প্রস্তাব আসে সেগুলোর তথ্য যাচাই-বাছাই করে দিতে কিছু সময় লাগে। তবে কাগজপত্র ঠিক না থাকলে একটু বিলম্ব হয়। তবে খুব দ্রুতই এ সেবাটা একটা টাইম লাইনের মধ্যে নিয়ে আসবো। ছোট-খাট সংশোধনের জন্য আমরা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পাসওয়ার্ড ও আইডি দেওয়া হয়েছে। তারপর যে সংশোধনগুলো থাকে সেগুলো জেলা ও তারপরের সংশোধনগুলো আঞ্চলিক পর্যায়ে এবং এরপরই যেগুলো বেশি জটিল সেগুলো ‘ঘ’ শ্রেণীতে করে আমরা অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছি। এ সিস্টেমটা শুধু মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে করা হয়েছে। আগে মাত্র ১৫ জন দিয়ে সারাদেশের মানুষকে সেবা দেওয়া লাগতো, কিন্তু এখন ১৫ জনের পরিবর্তে আমাদের ১০ আঞ্চলিক অফিসে ২০ জন অতিরিক্ত আঞ্চলিক কর্মকর্তার পাশাপাশি অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন ও উপজেলা কর্মকর্তাদেরও কাজে লাগাচ্ছি। আগে যে কাজটা ১৫ জন করতো, এখন সেটা প্রায় সাড়ে ৭শ ৮শ কর্মকর্তাকে সম্পৃক্ত করে সংশোধনের কাজটা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান করছি। তবে এ কাজটা করতে একটু সময় লাগবে। কারণ নতুন সফটওয়্যার, অনেকে জানে না, তবে আমার আশা পরবর্তী তিনমাসের মধ্যে আমরা একটা ড্রাইভ দিয়ে সব পর্যায়ের সংশোধনের কাজ শেষ করতে পারবো।

[৯] আরেক প্রশ্নের উত্তরে ডিজি বলেন, এ্যাকচুয়ালি যখন চীনে কারোন হচ্ছিল, তারপর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছিল, তখনই কিন্তু আমি উদ্যোগ গ্রহণ এবং পরিকল্পনা করে ফেলি। যদি বাংলাদেশে হয়, তাহলে কি করবো। সে ক্ষেত্রে আমরা পদক্ষেপ নিতে শুরু করি। সরকার ২৬ এপ্রিল বন্ধ ঘোষণা করলে ২২, ২৩ ও ২৪ এপ্রিল আমরা মিটিং করি। মিটিংয়ের মূল বিষয় ছিল করোনাকালীন দুর্যোগে কিভাবে এনআইডি সেবাটকে স্লো না থেকে ত্বরান্বিত করা যায়। সে লক্ষে আমরা টিম গঠন করি এবং ২৪ ঘন্টা সেবা দিতে পর্যায়ক্রমে শিফট ওয়াইজ ডিউটি করি। অনলাইন সেবা আরও ভালোভাবে দিতে আমরা পর্যায়ক্রমে দিনে-রাতে অনেক মিটিং করেছি। আমরা মাত্র একমাসের মধ্যেই সবাইকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দ্রুততম সময়ে এ সেবাটা নিশ্চিতে সফল হয়েছি। সরকার যেদিন সারাদেশে লকডাউন শুরু হয় আমরাও সেদিন এ সেবাটা চালু করি। ২৬ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ লাখ ১৫ হাজার লোক অনলাইনে সেবা নিতে রেজিষ্ট্রেশন করেছে। এর মধ্যে এনআইডি ডাউনলোক করেছে প্রায় ২৫ লাখ ৩৫ হাজার নাগরিক। নতুন ভোটারের জন্য নিবন্ধন করেছেন
প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার নাগরিক। হারানো আবেদন প্রায় ৪১ হাজার এবং সংশোধন আবেদন প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার।

[১০] উল্লেখ্য, করোনার প্রকোপের কারণে সরাসরি সেবা প্রদানের পরিবর্তে অনলাইনে এনআইডি সেবা অব্যাহত রেখেছে নির্বাচন কমিশন। অনলাইনের মাধ্যমে যারা এনআইডি পাননি, তারা নিজেরাই ইসির ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ডাউনলোড করে নিতে পারছেন। এছাড়াও নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন, ঠিকানা পরিবর্তন ও এনআইডি উত্তোলন সংক্রান্ত সেবার আবেদনও জমা দেওয়া যাচ্ছে অনলাইনে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত