প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ঘাতকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ধানক্ষেত থেকে অটোরিকশা চালকের লাশ উদ্ধার

বগুড়া প্রতিনিধিঃ [২] বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের জোরগাছা এলাকায় ধানক্ষেত থেকে ঘাতকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর অটোরিকশা চালক মোঃ মিনহাজ উদ্দীন (২৬) এর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

[৩] বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের জোরগাছা এলাকায় ধানক্ষেত থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় ছিনিয়ে নেয়া অটোরিকশাটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

[৪] গত ২৯সেপ্টেম্বর সকালের দিকে অটোরিকসা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তিনি। এদিকে অটোরিকসা চালক মিনহাজকে হত্যার পর তাঁর লাশ গুম করে ছিনতাইয়ের নাটক মঞ্চস্থ করেন ঘাতক মো. রাব্বী হাসান (২৫)। এমনকি নিজেই ৯৯৯-ফোন করে তারা ছিনতাইয়ের কবলে পরে আহত হয়েছেন বলে দাবি করে ঘটনা জানায়। একইসঙ্গে চিকিৎসার জন্য শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ করতে যান তিনি। কিন্তু তার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে আটক করা হয়। ঘাতক রাব্বী হাসান একই উপজেলা ও ইউনিয়নের বোহালগাছা গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।

[৫] লাশ উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দেন মানবিক পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম (বার)। এসময় উপস্থিত ছিলেন শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান, শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম আবুল কালাম আজাদসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা। নিহত অটোরিকশা চালক মিনহাজ জেলার ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের বিশ্ব হরিগাছা গ্রামের মোজদার আলীর ছেলে।

[৬] থানা সূত্রে জানা যায়,অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিতেই মিনহাজকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাই আগে থেকেই ক্রেতাও ঠিক করে রেখেছিল ঘাতক রাব্বী। আর সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত মঙ্গলবার সকালে ভাড়ার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। এরপর ওই অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করেন তারা।

[৭] একপর্যায়ে রাত নেমে এলে জুসের সঙ্গে চেতনা নাশক ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয় তাকে। তবে বিষয়টি বুঝতে পেরে চালক মিনহাজ ঘাতক রাব্বীর হাতে কামড় দেন। এনিয়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি তাঁর লাশ গুম করতে ওই ফাঁকা মাঠে ধানক্ষেতের মধ্যে ফেলে দেয়া হয়। আর অটোরিকশাটি নিয়ে চলে যায় ঘাতক রাব্বী।

[৮] কিন্তু অটোরিকশাটি চোরাই ভেবে ক্রয় করতে অস্বীকৃতি জানায় শেরপুর শেরুয়া বটতলা বাজার এলাকার সুমন নামের এই ক্রেতা। এতে বিপাকে পড়ে যান ঘাতক রাব্বী। শেষে উপায়অন্ত না পেয়ে অটোরিকশাটি ফেলে রেখে নিজেই আইনের আশ্রয় নিতে থানায় যায়। আরও জানা যায়, ঘাতক রাব্বী পুলিশকে বলে, অটোরিকশা যোগে ঘটনার রাতে তারা দু’জন বাড়ি যাচ্ছিল। পথিমধ্যে শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর করতোয়া ব্রীজের কাছে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। ছুরিকাঘাত করে তাদের সবকিছু ছিনিয়ে নেয় তারা। তবে কৌশল অবলম্বন করায় প্রাণে বেঁচে যান তিনি। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় কোন রকমে রক্ষা পেয়েই ৯৯৯-এ ফোন করেন। তাদের পরামর্শে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর থানায় যান। কিন্তু তার এসব কথাবার্তায় নানা গড়মিল লক্ষ্য করা যায়।

[৯] শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ গাজিউর রহমান এ প্রতিবেদক-কে বলেন, থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ করতে আশা রাব্বীর কথাবার্তায় নানা গড়মিল থাকায়, তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে সব খুলে বলেন। অটোরিকশা চালক মিনহাজকে নিজেই ছুরিকাঘাতে হত্যার করেছে বলে স্বীকার করেন। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সুঘাট ইউনিয়নের আওলাকান্দি এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিনতাই হয়ে যাওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। সেইসঙ্গে তার দেয়া তথ্যনুযায়ী ধানক্ষেত থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে এই হত্যাকাণ্ডটি সর্ম্পকে আরও জিজ্ঞাবাদ প্রয়োজন। এজন্য আদালতে রিমাণ্ড চাওয়া হবে বলে জানান। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলা প্রক্রিয়াধীন।সম্পাদনা : জেরিন আহমেদ

সর্বাধিক পঠিত