প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ব্যবসায় অংশিদারিত্বের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ১

সুজন কৈরী : [২] ছদ্মবেশ ধারণ করে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকারকে চাকরি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে শেয়ারের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ চক্রের একজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অর্গানাইজড ক্রাইম (এসআইএন্ডও) ইউনিট। গ্রেপ্তার অভিযুক্ত হলেন- মোঃ কবির হোসেন ওরফে বারন ওরফে ড. মশিউর রহমান (৫৫)।

[৩] পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তি প্রতারণার শিকার একজন ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার এজাহার নামীয় ২ নম্বর আসামি। তদন্তকালে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে কবিরকে আশুলিয়ার পলাশবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনিসহ মামলার অপর আসামিরা ভুক্তভোগীর চাকরির পদ মর্যাদা ও অবস্থান সম্পর্কে জেনে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ছদ্ম পরিচয় দিয়ে ভিকটিমকে ওসাকা গ্রæপ অব কোম্পানীতে চাকরি ও কোম্পানীর শেয়ারের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ২৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

[৪] বুধবার এক সংবাদ পিবিআই জানিয়েছে, প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী পেশায় অবসর প্রাপ্ত ব্যাংকার। রাজধানীর মনিপুরে থাকেন। গত বছরের ৫ সেপ্টম্বর ভুক্তভোগী মনিপুর মসজিদ থেকে যোহরের নামাজ পড়ে ৬০ ফিট রাস্তায় বের হওয়ার গ্রেপ্তার কবির হোসেন ও চক্রের আরও একজন সদস্য একটি প্রাইভেট কার থেকে নেমে সালাম দেন। ভুক্তভোগীর কাছে কবির নিজেকে ড. মশিউর রহমান বলে পরিচয় দেন এবং তাদের ওসাকা গ্রুপ অব কোম্পানীতে এক্সিকিউটিভ পদে চাকরির প্রস্তাব দেন। এরপর কবির তাদের ফোন নম্বর ও ভুয়া একটি ভিজিটিং কার্ড দেন। পরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর কবির হোসেন ফোন করে মামলার বাদীকে অফিসে বায়োডাটাসহ যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় ভুক্তভোগী মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিংয়ের ইকবাল ক্যাটারীংয়ের সামনে যান। সেখান থেকে বাদীকে এগিয়ে তাদের অফিসে (নবোদয় হাউজিংয়ের ৮ নম্বর রোড, ১২ নম্বর বাড়ি, ইকবাল ক্যাটারীংয়ের পিছনে ৩ তলা) নিয়ে যান। অফিসে যাওয়ার পর কবির হোসেন ভুক্তভোগীর বায়োডাটা দেখেন এবং তা হাল নাগাদ করে ছবিসহ পরের দিন যেতে বলেন। কথামতো পরদিন সকালে ওই অফিসে যান ভুক্তভোগী। অফিসে বসার কিছুক্ষণ পর চক্রের আরও একজন সদস্য গিয়ে বসেন এবং দেলোয়ার হোসেন বলে নিজেকে পরিচয় দেয়। এরপর মাথায় হেড-ক্যাপ ও চোখে কালো চশমা পরিহিত চক্রের আরও একজন নিজেকে ‘ইন্ডিয়ান’ লোক পরিচয়ে যান এবং হিন্দি ভাষায় কথা বলেন। তারা ভুক্তভোগীকে ব্যবসায়ীক পার্টনার ও কোম্পনীতে এক্সিকিউটিভ পদে চাকরির প্রস্তাব দেন। চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন কৌশলে প্রতারনার জালে আটকে ফেলেন ভুক্তভোগীকে। একপর্যায়ে ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কবির হোসেনকে ভুক্তভোগী ১ লাখ টাকা দেন। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর নগদ ১৪ লাখ এবং ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা কবির হোসেনসহ চক্রের অন্য সদস্যদের কাছে দেন। কিন্তু এরপর থেকে ভুক্তভোগী চক্রের সদস্যদের মোবাইল ফোন বন্ধ পান। সন্দেহ হওয়ায় ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে মোহাম্মদপুরের ওই অফিসে গিয়ে দেখেন অফিস বন্ধ। পরে নীচে নেমে দাড়োয়ানের কাছ থেকে জানতে পারেন চক্রটি বাসা ছেড়ে চলে গেছে।প্রতারক চক্রের মাধ্যমে তিনি প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী আদাবর থানায় মামলা করেন। এরপর মামলাটি পিবিআই তদন্ত শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে চক্রের একজন সদস্যতে গ্রেপ্তার করা হয় জানিয়ে পিবিআই বলছে, তদন্তকালে সংস্থাটি জানতে পারে, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি একেক সময় একেক ছদ্ম নামে পরিচয় দেয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির আশুলিয়ার পলাশবাড়ি এলাকায় ২টি ছয়তলা বাড়ি ও একটি খালি প্লট রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঢাকায় বিভিন্ন রকম প্রতারণামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত। তার সাথে ঢাকায় সংঘবদ্ধ কয়েকজন সদস্য রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত