প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বাংলাদেশ কখনই জঙ্গিবাদকে আশ্রয়, প্রশ্রয় দেয়নি, দিবেও না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সুজন কৈরী : [২] স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, বাংলাদেশ কখনোই জঙ্গিবাদকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়নি, দেবেও না। বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে।

[৩] বুধবার বিকেলে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) পরিদর্শন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. কামরুল আহসানসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।

[৪] সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কখনই জঙ্গিবাদকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়নি, দিবেও না। বর্তমান সরকার জঙ্গীবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। এটা শুধু মুখের কথা নয়, সরকারের বিভিন্ন কমিটমেন্ট এবং গৃহীত কার্যক্রমের ফলে এটা দৃশ্যমান বাস্তবতা। জঙ্গিবাদ দমনে প্রধানমন্ত্রী আপসহীন এবং আন্তরিক। তিনি পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

[৫] মন্ত্রী আরও বলেন, হলি আর্টিজান হামলার পর দ্রুততম সময়ে সামগ্রিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে আমরা অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট সৃষ্টি করেছি, আইনগত শক্তিশালী ভিত্তিভ‚মির উপর দাঁড় করিয়েছি। অত্যন্ত স্বল্পসময়ের মধ্যে বিশেষায়িত এ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠাকালীন প্রতিক‚লতা সত্তে¡ও জনমানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে, বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। তিনি এই ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার করেন।

[৬] সভায় সিনিয়র সচিব জনাব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। সরকার বাংলাদেশ পুলিশকে একটি আধুনিক ও তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সব ধরনের কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট হিসেবে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। এটিইউ’র সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি বর্তমানে সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।

[৭] আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, বাস্তবতার নিরিখেই জঙ্গীবাদের উত্থানের প্রেক্ষিতে এই ইউনিটটির জন্ম। বিশ্বে যখন জঙ্গীবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল তার প্রভাব বাংলাদেশেও এসে পড়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দ্রæততম সময়ের মধ্যে এটিইউর জন্ম হয়। সরকারের একটি অগ্রাধিকারমূলক ইস্যু হচ্ছে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমন। বিগত এক দশকে বাংলাদেশ পুলিশ জঙ্গীবাদকে একটি সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসতে পেরেছে।

[৮] তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যেই এটিইউ অনেক ভালো কাজ করেছে। জঙ্গীবাদ মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও গুরুত্বের সাথে দেখছি।

[৯] সভাপতির বক্তব্যে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. কামরুল আহসান বলেন, ইতোমধ্যে সরকারের আন্তরিকতায় দেশব্যাপী সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমনে অ্যাপেক্স বডি হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিয়ে ‘এন্টি টেররিজম ইউনিট বিধিমালা-২০১৯’ তৈরী হয়েছে। এটিইউ’র প্রত্যেক সদস্য তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় আন্তরিক ও নিরাপদ স্বদেশ গঠনে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

[১০] এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট পরিদর্শন করেন।

[১১] পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয় এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের প্রধান ও অনুষ্ঠানের সভাপতি মো. কামরুল আহসান।

 

সর্বাধিক পঠিত