প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকার চলচ্চিত্র পেয়েছে শ্রেণী সংগ্রামের ৩ চরিত্র জয়গুন, নবিতুন, গোলাপী

ইমরুল শাহেদ : চলচ্চিত্রের সীমিত প্রদর্শনের ক্ষেত্র নিয়ে নির্মাতাদের মধ্যে এক হতাশা কাজ করলেও সরকারি, বেসরকারি, এনজিওসহ বিভিন্ন দিক থেকেই এই শিল্পে বিনিয়োগ হচ্ছে। নাটক বানিয়ে লোকসান দিতে দিতে এক শ্রেণীর নির্মাতা চলচ্চিত্রে বিনিয়োগের জন্য প্রযোজকদের নিয়ে আসছেন। এক শ্রেণীর নির্মাতা বিভিন্ন তথ্যচিত্র নির্মাণ করতে করতে হয়ে যাচ্ছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বিনিয়োগকারী। কিন্তু সকলেরই লক্ষ্য হলো লাভসহ বিনিয়োগ ঘরে তুলে আনা।

সেই লক্ষ্যপূরণের জন্য যা করা প্রয়োজন তা তারা করেন না। প্রযুক্তিনির্ভর এই শিল্পটিকে বুঝে উঠার আগেই অনেকে নির্মাতা হয়ে যাচ্ছেন। ফলে চলচ্চিত্রের নির্মাণশৈলীতে নেমে এসেছে এক ধরনের বন্ধ্যাত্ব। শুধু নির্মাণ, বিষয়বস্তু নির্বাচন ও তার সুষ্ঠু বিন্যাসের ক্ষেত্রে যেমন বন্ধ্যাত্ব রয়েছে তেমনি সৃজনশীলতা প্রায় হারিয়ে গেছে সাহিত্যের ক্ষেত্রেও।

কিন্তু একটা সময়ে এদেশের সাহিত্য দারুণভাবে সমৃদ্ধ ছিল। সেই ভাÐার থেকেই নির্মিত হয়েছে সূর্য দীঘল বাড়ি, সারেঙ বৌ এবং গোলাপী এখন ট্রেনের মতো কালজয়ী চলচ্চিত্র। এই তিনটি ছবিতে প্রতিফলিত হয়েছে বাংলার তিন সংগ্রামী নারী – জয়গুন, নবীতুন ও গোলাপী। আবু ইসহাক রচিত সূর্য দীঘল বাড়ির জয়গুন গ্রামবাংলার সর্বহারা নারীদের একজন।

বৈশিষ্ঠ্যমন্ডিত এই চরিত্রটিতে অভিনয় করে ডলি আনোয়ার সৃজনশীলতার বিরল ভাÐারে একটা স্থান করে নিয়েছেন। শহিদুল্লাহ কায়সার রচিত সারেঙ বৌ ছবির নবিতুন চরিত্রে অভিনয় করে মিষ্টি মেয়ে হিসেবে খ্যাত অভিনেত্রী কবরীও সৃজনশীলতার ভাণ্ডারে স্থান করে নিয়েছেন। আমজাদ হোসেন রচিত ধ্রুপদী এখন ট্রেনে অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে গোলাপী এখন ট্রেনে ছবিটি। গোলাপী চরিত্রে অভিনয় করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা ববিতা।

তিনি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অংশনি সংকেত উপন্যাস নিয়ে একই নামের ছবি নির্মাণ করেন অস্কার পাওয়া চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। এই ছবির অনঙ্গ বৌ চরিত্রে অভিনয় করে ববিতা বিশ্ব চলচ্চিত্রের অঙ্গনে একটা স্থান করে নিয়েছেন। শ্রেণী সংগ্রামের প্রতিভূ বৈশিষ্ট্যমন্ডিত গোলাপী চরিত্রে অভিনয় করে ববিতা হয়ে উঠেছেন অনন্য। কিন্তু আজ আর সেই চরিত্র যেমন সৃষ্টি হচ্ছে না, তেমনি একজন ডলি আনোয়ার, কবরী বা ববিতারও কেউ আসতে পারছেন না।

ব্যবসায়ের কথায় যদি আসা হয়, তাহলে দেখা যাবে এই তিনটি ছবি ব্যবসা ক্ষেত্রেও ব্যাপকভাবে সফল হয়েছে। কিন্তু এখন দর্শক নাকি ভালো ছবি দেখতে চায় না বলে, নোংরা ওয়েব সিরিজ তৈরি হয়। প্রযুক্তি আমাদের উন্নতির দিকে যেতে বলে, নাকি নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হতে বলে, সেই প্রশ্নই এখন সকলের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত