প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আসিফুজ্জামান পৃথিল: কূটনীতিতে সিনা টান করে চলাটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

আসিফুজ্জামান পৃথিল: বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্র বিষয়ক কার্যক্রম ছিলো খুবই উদ্ধত, দাম্ভিক আর সাহসী। বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করবেন তাজউদ্দিন আহমেদ। তার সঙ্গে রয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর ৩ তরুণ ব্যারিস্টারের একজন, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম। বিএসএফ এর প্রহরী তাদের আমন্ত্রণ জানালেন ভারতে প্রবেশের জন্য। তাজউদ্দিন দাঁড়িয়ে আছেন। পরনে তার লুঙ্গি আর গেঞ্জি। আমিরুল ইসলামেরও একই পোষাক। দুজনের পায়ে কাঁদা। আমিরুল ইসলাম জানালেন, তারা বাংলাদেশের জনগনের ভোটে নির্বাচিত। তাজউদ্দিন এসেছেন বাংলাদেশের দূত হয়ে। এই বিপদের দিনেও তিনি তো হালকা হয়ে যাননি। সুতরাং এমনি এমনি প্রবেশ শোভন কিছু নয়। এই শক্ত ডিপ্লোম্যাসি বাংলাদেশের শিশু সরকারকে বিরাট এক ব্যক্তিত্ব এনে দিয়েছিলো। পুরো ৯ মাস সেই ব্যক্তিত্বই বাংলাদেশকে আপারহ্যান্ডে রাখে। ও হ্যাঁ, তাড়া খেয়ে পালানো, লুঙ্গি-গেঞ্জি পরা, পা ভর্তি কাঁদা, স্পঞ্জের চটি পরা তাজউদ্দিন আহমেদকে সেদিন একজন সরকারপ্রধানের সম্মান দিয়ে, গার্ড অব অনার সহযোগেই ভারতে প্রবেশ করানো হয়েছিলো।

‘শাল বৃক্ষের মতো সিনা টান’ করে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের যাত্রা শুরু। চার্লস দ্য গলের মতো তাজউদ্দিন কখনও বলেননি তার সরকার নির্বাসিত। তার সরকার সবসময়ে প্রবাসী পরিচয়ে পরিচিত হতে চেয়েছে। এই সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন এমন একজন লোক, যিনি পাকিস্তানের সঙ্গে একটি ইউনিয়নে ব্যাপক আগ্রহী ছিলেন। এসময় বাংলাদেশ প্রথম স্বীকৃতি পায় ইসজরায়েল থেকে। তখনও প্রবাসী সরকারের বয়স আড়াই দিন। বাংলাদেশ সে স্বীকৃতি নেয়নি, তা আমরা জানি। প্রবাসী একটা সরকার, যাদের কোনও আশ্রয় নেই। পায়ের তলার জমিন মোটেও শক্ত নয়, তারা পড়ে পাওয়া ১৪ আনার মতো একটা স্বীকৃতিকে হেলায় ছড়ে ফেললো। কেনো? প্রগতিশীলতার চর্চা করা অনেকেই আজও এই ব্যাপারে হতাশ। অনেকে মনে করেন এটির পেছনে হাত ছিলো পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মুশতাক আহমেদের। এম আর আখতার মুকুল আর ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম আমাদের জানাচ্ছেন, এই সিনা টান করা সিদ্ধান্ত ছিলো তাজউদ্দিনের। তিনি একই এই সিদ্ধান্ত নেন। শুধু একবার ডেকে পরামর্শ নিয়েছিলেন চিফ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলীর। কেনো এই সিদ্ধান্ত?

এই সিদ্ধান্তের পেছনে ধর্মের কোনও যোগ নেই। সময়টা জাতীয়তাবাদী স্ফুরণের এ সময়ে কেউ ধর্ম নিয়ে টানাহেঁচড়া করতো না। কেনো? এর পেছনে ছিলো এক সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। ৫৫ বা ৬৭ সালের আরব ইজরায়েল যুদ্ধে পাকিস্তান আরব পক্ষকে সমর্থন দিয়েছিলো। ব্যাপারটা আসলে শুধু সমর্থনে সীমাবদ্ধ ছিলোনা। সোভিয়েতদের মাধ্যমে তুলনামূলক উদারপন্থী আরব রাষ্ট্রগুলো ভারী ও আধুনিক সমরাস্ত্র পেয়েছিলো। এর মধ্যে বিশেষত ছিলো এয়ার অ্যাসেট। পাকিস্তানি পাইলটরা অনারারি উপদেষ্টা হিসেবে আরব দেশগুলোতে যান, এগুলো চালানোয় সহায়তা করতে। এর বাইরে আরেকটি কারণ ছিলো। পাকিস্তানের অধিকাংশ এয়ার অ্যাসেট ছিলো মার্কিন। ইজরায়েলেরও তাই। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানি মূল্যায়ন খুবই মূল্যবান ছিলো। এই দলে চিলেন একাধিক বাংলাদেশি। এদের মধ্যে স্কোড্রন লিডার সাইফুল আজিম সরাসরি একাধিক যুদ্ধে অংশ নিয়ে অসামান্য বীরত্ব দেখান। বাংলাদেশ এই লেগেসি থেকে বের হতে চায়নি। আসলে হওয়া যেতোও না। এর পেছনে বহুবিধ কারণ আছে।

ইয়াম কিপ্পুর যুদ্ধের পর পাকিস্তান আওয়ামী লীগ ইজরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনে। এক্ষেত্রে পাকিস্তানে যে রেজ্যুলেশন পাস হয়, তাতে পূর্ণ মাত্রার সমর্থন দিয়েছিলো দলটি। আর বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল প্রেক্ষাপট ছিলো ছাইভষ্ম থেকে জন্ম নেয়া একটি রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্র কোনওভাবেই আরেকটি গণহত্যাকারী রাষ্ট্রকে সমর্থন দিতে পারে না, তার কাছ থেকে সমর্থন নিতে পারে না।

গণহত্যার বাইরে একটি অতীব জরুরী ইস্যু ছিলো, আরব দেশগুলোর সমর্থন। আরব দেশগুলোর মধ্যে প্রায় কোনওটিই আমাদের সমর্থন দেয়নি, সাদ্দাম হোসেনের ইরাকের নিরব সমর্থন ছিলো। কিন্তু নানান কারণে ইরাকও প্রকাশ্য সমর্থন দিতে পারেনি। প্রকাশ্যে শরণার্থীদের পক্ষে একমাত্র ইয়াসির আরাফাত কথা বলেছিলেন। যাই হোক, এতে একটি সামরিক সমস্যা দেখা দিতে পারতো। প্রকাশ্যে ইজরায়েলি স্বীকৃতি নিয়ে ওআইসি সদস্যভুক্ত আরব রাষ্ট্রগুলো মুিক্তযুদ্ধকে ধর্মযুদ্ধ ঘোষণা করে, আর্থিক ও সামরিকভাবে এই অঞ্চলে যুদ্ধে অংশ নিতো। মুক্তিযুদ্ধ বলে আদতে আর কিছু থাকতো না। ৪র্থ আরব-ইজরায়েল যুদ্ধের আড়ালে তা হারিয়ে যেতো।

তাজউদ্দিন আহমেদ নিশ্চিত ছিলেন বাংলাদেশ স্বাধীন হচ্ছেই। ২৫ মার্চের পর তার কখনওই মনে হয়নি, পরাজিত পক্ষে বাংলাদেশের নাম থাকবে। উনি খুব ভালো করে জানতেন, শুধু ইজরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে চলা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব না। কারণ যুক্তরাষ্ট্রও পক্ষে নেই। স্বাধীন দেশটির পূর্ণগঠনে প্রচুর জ্বালানী তেল লাগবে। এবং তা সস্তায়। এটি আরব দেশ ছাড়া আর কেউ কি দিতে পারবে? না পারবে না। বিজয়ের পর প্রায় তড়িঘড়ি করে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিলো ইরাক। এরপর তারা বেশ কয়েকবছর অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে বা প্রায় বিনামূল্যে বেশ ভালো পরিমাণ জ্বালানী তেল সরবরাহ করে।
ইজরায়েলকে স্বীকৃতি না দেয়া বাংলাদেশের জন্য কোনও সহজ সিদ্ধান্ত ছিলো না। মজার ব্যাপার ইজরায়েল পুরো মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের থেকে মুখ ফিরায়নি। বরং বেনামে বেশ ভালো পরিমাণ সহায়তা করেছে। এসময় ভারতের সঙ্গে প্রথমবার তেলআবিবের ঘণিষ্ঠতা তৈরি হয়। যা আজও বজায় আছে। বাংলাদেশ কিন্তু এইক্ষেত্রে আপোষ করেনি। বরং ইসজরায়েলকে কেন্দ্র করেই জন্ম নিয়েছে বাংলাদেশের মধ্যপ্রাচ্য নীতি।

অধিকাংশ মুসলিম দেশ ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি। কিন্তু পৃথিবীতে কোনও রাষ্ট্র নেই, যারা ইজরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে অস্বীকার করে না। সবাই মেনে নিয়েছে ইজরায়েল একটি রাষ্ট্র। সেই রাষ্ট্র শত্রু হতে পারে বা মিত্র হতে পারে বা কোনওকিছু নাও হতে পারে। কিন্তু ইশ্বর প্রতিশ্রুতভূমি কোন রাষ্ট্রের ভিত্তি হতে পারে, তা বাংলাদেশ কখনই স্বীকার করেনি। বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যারা ইজরায়েল নামের রাষ্ট্রটার অস্তিত্ব অস্বীকার করে। বাংলাদেশ মনে করে পুরো কেনান আসলে ফিলিস্তিনের। এই অবস্থান থেকে বাংলাদেশে এক চুলও নড়েনি কখনও।

স্বাধীনতার পর আমাদের বেশ ভুগতে হয়েছে। ওআইসির সদস্য হতে বাাঁধা এসেছে। আরব দেশগুলো বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে সময় নিয়েছে (ইরাক, সিরিয়া আর ফিলিস্তিন ব্যতিক্রম)। স্বাধীনতার পর ৪ বছর বাংলাদেশি নাগরিকরা নিজ দেশের পরিচয়ে হজ করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধু সৌদি বাদশাহকে বারবার অনুরোধ করেও কাজ হয়নি। ভারত নিজেদের পাসপোর্ট না ব্যবহার করতে দিলে এ সময় কারও হজ করা হতো না। সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের দিন।

বাংলাদেশ এরপরেও আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার চেষ্টা করে গেছে। দেশে বিশাল জনগোষ্ঠী বেকার। পেট্রো ডলার আরবদের অলস বানাতে শুরু করেছে। দেশে বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভ বলে কোনও কিছু নেই। গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়ায়নি তখনও। বাংলাদেশের বিশাল বড় শ্রমবাজার দরকার ছিলো। নিমগাছ রাজনীতি সে দুয়ার খুলে দিলো। (এটা আসলে লম্বা ঘটনা। আজ থাক। শুধু এটুকু বলে রাখি, আরাফার মরু ময়দানে আপনি প্রচুর নিমগাছ দেখতে পাবেন। জাতিনিম। এরসঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক রয়েছে।) কিন্তু সম্ভবত ১৯৯০ সালের ইরাক কুয়েত যুদ্ধই ছিলো মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশে প্রবেশের স্বর্গোদ্বার। সাদ্দাম জন্ম থেকে বাংলােেদশের বন্ধু। তার বামঘেঁষা আরব জাতীয়তবাদী বাথ পার্টির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধকালীন আওয়ামী জাতীয়তাবাদী কোরামের বিশাল মিল বিদ্যমান। গাঠনিক মিল আরকি। কিন্তু বাংলাদেশ তখন পশ্চিমে ঝুঁকছে। এই যুদ্ধে বাংলাদেশ মিত্রপক্ষে অংশ নিলো। দুটো ঘটনা ঘটলো। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের চাহিদা হুহু করে বাড়তে থাকলো, সেইসঙ্গে পুরোপুরি উন্মোচিত হয়ে গেলো মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার। বাংলাদেশের মধ্যপ্রাচ্য নীতি বেশ তদ্রুত বদলে গেছে। সাদ্দম-হাফিজ আল আসাদ বৃত্ত থেকে বের হয়ে বাংলাদেশ ঢুকে গেছে রাজপরিবার বৃত্তে। কিন্তু বাংলাদেশের ইজরায়েল নীতি বদলায়নি।

সম্প্রতি আরব দেশগুলোর ইসজারয়েল নীতি বদলাচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশে নিজের সিনা টান করে রেখেছে আবারও। তোপখানা আর শেরেবাংলা নগর এখন সতন্ত্র কেবলায় চলতে চায়। আরব দেশগুলো কি করলো তাতে কিচ্ছু এসে যায় না। এজন্য হুমকি পেয়েছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দিতে হবে। এই ব্যাপারে সৌদি আরব এখন এতোটাই মরিয়া, ডজন ডজন আন্তর্জাতিক আইন ভাঙার তোয়াক্কা করেনি। বরং এমন এক নোংরামি করেছে, যা কোনও সভ্য দেশ করতে পারে না। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে এক অসাধারণ মুভ নিয়েছে। কারণ এখন আমরা জানি, বাংলাদেশি শ্রমিকের ভালো বিকল্প খুঁজে পাওয়া মুশকিল। পরোক্ষ হুমকি হিসেবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, বাংলাদেশ বিকল্প বাজার খুঁজছে, আর নয় ব্ল্যাকমেইলিং। বরং ৩টি বিশাল স্পেশাল ইকোনমিক জোনসহ ১০০টি নতুন জোনে বিপুল অভিজ্ঞ কর্মী প্রয়োজন হবে। নিজ কর্মীদের কাজ দেবার সক্ষমতা আমাদের আছে।

মধ্যপ্রাচ্য নীতি যখন বদলে ফেলছে বাংলাদেশ, তখন একটি পুরাতন গল্প শোনাই। সাল ১৯৭১। পাকিস্তান, হেনরি কিসিঞ্জার মারফত মার্কিন প্রেসিডেন্টের কান ঝালাপালা করে দিয়েছে আধুনিক অস্ত্রের জন্য। তাঁদের দরকার শেরম্যান ট্যাঙ্ক, তাদের দরকার স্যাবরের পার্টস। যদি সম্ভব হয় কয়েক পিস সুপার স্যাবরও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সিআইএকে এই ব্যাপারে দায়িত্ব দিলেন। তারা একটি ফার্মকে ভাড়া করলো। মার্সেনারী ফার্ম। পুরোনো মেশিনারীর আড়ালে অসাধারণ ক্যামোফ্লাজ দিয়ে ভুমধ্যসাগর ডিঙিয়ে সেই জাহাজ চললো বঙ্গোপসাগর পানে। লিবিয় উপকূলে টহল দিচ্ছিল কোস্টগার্ডের একটি জাহাজ। তারা দেখতে পায় একটি জাহাজ সেখানে নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। আসলেই জাহাজটি নষ্ট ছিলো। ঠিক করার কাজ চলছিলো। কোস্টগার্ডের অধিনায়ক প্রস্তাব দেন মেকানিক দেবার। জাহাজের নাবিকেরা রাজি না হলে সেই অধিনায়কের সন্দেহ হয়। তিনি বিনা নোটিশে জাহাজে উঠে আসেন। তল্লাশিতে কিছুই মেলে না। বলা হয়নি, এই অধিনায়ক ছিলেন গাদ্দাফির বিপ্লবি বাহিনীর সদস্য। কোনও কারণে তিনি গাদ্দাফির বিরাগভাজন হন। তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় কোস্ট গার্ডের নগন্য এক জাহাজে। সবাই যখন চলে আসছে তার নজরে পড়ে বিশেষ এক যন্ত্রাংশ। তিনি চিনতে পারেন শেরম্যান ট্যাঙ্কের ট্যারেটটিকে। বেসরকারী কোম্পানিটির সদস্যরা ঝামেলায় না গিয়ে জাহাজটি সমার্পন করে।

ওয়াশিংটনে তখনই সিআইএ’র প্রধান হেনরি কিসিঞ্জারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি জানান, নেভি সিলকে পাঠিয়ে এখনই এই জাহাজ উদ্ধার করা যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেলে কেলেঙ্কারিও হতে পারে। অবশ্য গাদ্দাফি ততক্ষণে জাতীয় টেলিভিশনে বীরদর্পে ঘোষণা করেছেন, তার বাহিনী একটি ইজরায়েলি অস্ত্রবাহী জাহাজ আটক করেছে। তিনি নিজে ছিলেন পাকিস্তানের পক্ষে। কিন্তু না জেনে পাকিস্তানের কোমড় তিনিই ভেঙেছিলেন। যাহোক। সিআইএর প্রস্তাবে ইতিবাচক মত দেন কিসিঞ্জারও। এসময় তার সেক্রেটারি জানায় বিশেষ এক ফোন এসছে। কিসিঞ্জার, যার জন্ম এক উহুদী পরিবারে, এসে জানান, জোর করে জাহাজ দখলের আইডিয়া বাতিল। পূর্বদেশীয় বন্ধৃরা ফোন করে এই ব্যাপারে চুপ থাকতে অনুরোধ করেছে।

এই গল্প কেনো বললাম? শুধু এটুকু বলার জন্য কূটনীতি বিষয়টা এমন না, কেউ বিশাল সাহায্য করলে তার সঙ্গে বন্ধুত্বই হবে। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস সিনা টান করে চলা। বঙ্গতাজ আমাদের তা শিখিয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে আমাদের ফুলে ওঠা সিনা অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিথিল হয়নি। আর আজকাল সিনা শক্ত করার দিন। শালবৃক্ষের মতো ঋজু হয়ে ওঠার দিন। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত