প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] এমসি কলেজ ছাত্রবাসে গণধর্ষণ: আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে তিন ধর্ষকের নাম বললেন সাইফুর-অর্জুন

সিলেট প্রতিনিধি: [২] জেলার মুরারীচাঁদ কলেজ (এমসি কলেজ) ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণী গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মী রাজন ও আইনুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার রাত একটায় সিলেটের ফেঞ্জুগঞ্জের কচুয়া নয়াটিলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৯ এর একটি দল।

[৩] সোমবার আদালতে জামিন শুনানিতে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী অংশ নেননি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট খোকন কুমার দত্ত।

[৪] সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জোর্তিময় সরকার বলেন, এ পর্যন্ত তিনজনকে গণর্ধষণের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডে নিয়েছে। গ্রেফতার অপর তিনজনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওদের ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না। ওদেরকে আমরা এখনো পাইনি। যারা তাদের ধরেছেন তাদের কাছে এখনও রয়েছে। আমাদের কাছে এলে আমরা তাদের আদালতে হাজির করে আইনি পদক্ষেপ নিব।

[৫] সোমবার বেলা ১১ টা ৪০ মিনিট। কড়া পুলিশ প্রহরায় প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে নিয়ে আসা হয় সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্করকে। দুজনই এমসি কলেজে তরুণী ধর্ষণ মামলার আসামি। এর মধ্যে সাইফুর প্রধান আসামি। আদালতে হাজির করার আগেই আদালত চত্বরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ। সাইফুর ও অর্জুনকে আদালত চত্বরে হাজির করার পর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই বিক্ষোভ করেন উপস্থিত জনতা। এই দুই আসামিকে নিয়ে আসার পর আদালতে চত্বরে শতাধিক জনতা জড়ো হন। তারা দুই আসামিকে দেখা মাত্রই ‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই’ শ্লোগান শুরু করেন। ‘জানোয়ার, জানোয়ার’ বলেও শ্লোগান দিতে দেখা যায় অনেককে। কেউ কেউ ‘মার, মার’ বলেও হাঁক দেন। তবে পুলিশ তৎপর থাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

[৬] জনতার এই ক্ষোভের মধ্যেই পুলিশ নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে সাইফুর ও অর্জুনকে সিলেট মহানগর হাকিম ২য় আদালতে হাজির করে।

[৭] এসময় আদালতে কাঠগড়ায় দাড়িয়ে থাকায় গণধর্ষণ মামলার আসামি সাইফুর ও অর্জুন ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করে বক্তব্য দেন। তারা বলেন, ‘আমরা অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই। রাজন , আইনুল ও তারেক গৃহবধূকে গণধর্ষণ করেছে।’

[৮] গণধর্ষণের ঘটনায় শনিবার সকালে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর স্বামী বাদি হয়ে দায়ের করা মামলায় ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে তারেক, অর্জুন, রনি, মাসুম ও রবিউলের নাম উল্লেখ করেন। তবে রাজন ও আইনুল এজাহারভুক্ত আসামি নয়। এর মধ্যে রাজনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে এবং তাকে সহায়তা করায় আইনুলকে রোববার রাতে ফেঞ্চুগঞ্জের কচুয়া নয়াটিলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব ৯ এর একটি দল। এখন পর্যন্ত মাসুম ও তারেককে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

[৯] প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আটকে রাখে দুজন।

[১০] তরুণীর স্বামীর দায়ের করা মামলায় আসামিরা হলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার শাহ মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৫), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের রবিউল হাসান (২৫) ও কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুমকে (২৫)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আর ৩ জনকে আসামি করা হয়।

[১১] পুলিশের এক সূত্র জানায়, এখনও পলাতক রয়েছেন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫) ও তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮)। তাদের গ্রেফতারে মাঠে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

সর্বাধিক পঠিত