প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: জন্মদিনে বলতে চাই আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শেখ হাসিনার বিশাল কর্মযজ্ঞের কথা

দীপক চৌধুরী: সারল্যে ভরা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত জীবন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর বাঙালিকে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউই এতটা আপন করে ভালোবাসেনি এটা প্রমাণিত সত্য। মেধা-মনন, সততা, কঠোর পরিশ্রম, সাহস, ধৈর্য্য, দেশপ্রেম ও ত্যাগের আদর্শে গড়ে উঠেছে শেখ হাসিনার আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। এ দেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা এক আদর্শবাদী দূরদর্শীসম্পন্ন নেত্রী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। আপাদমস্তক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শেখ হাসিনা একজন খ্যাতিমান লেখকও। মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র, এদেশের গণতন্ত্র হত্যাকারী, গণতন্ত্রের বিরোধিতাকারী সামরিক স্বৈরাচার ও স্বৈরশাসন, তথা জীবন থেকে নেওয়া বহু বিষয় নিয়ে তিনি বিপুল সংখ্যক গ্রন্থ লিখেছেন। রাজনীতির ব্যস্ততায় তিনি বাঁধা থাকলেও একই সঙ্গে রাজনীতি ও প্রিয় পাঠকদের কথা মনে রেখে তিনি মানুষের জন্য লিখেছেন। আমরা জানি, লেখক হিসেবে শেখ হাসিনার প্রাণবন্ত উপস্থিতি পাঠকমহলকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করে থাকে। তাঁর ‘সহে না মানবতার অবমাননা’ গ্রন্থের একটি প্রবন্ধের শুরুতেই লিখেছেন, ‘একজন মানুষের মৌলিক অধিকার হচ্ছে তার জীবন-জীবিকা, মানসিক শান্তি, জীবনের নিরাপত্তা ও সামাজিক নিরাপত্তা। বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান অধিকারের নিশ্চয়তা মানুষের প্রধান কাম্য।’ সম্ভবত ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ( একুশের বইমেলায় পাওয়া গিয়েছিল) বইটি বের হয়েছিল। তিনি যে কতটা দূরদর্শীসম্পন্ন, মানবিক, উদার এবং প্রয়োজনে কঠোর তা এই সরকার পরিচালনায় এসবের দেখা মিলে।

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা। স্বাধীন বাংলাদেশে ’৭৫ পরবর্তী সময়ে ইতিহাসের সফল রাষ্ট্রনায়ক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশরত্ন শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন আজ। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে শেখ হাসিনা ছিলেন জ্যেষ্ঠ সন্তান। তার কনিষ্ঠ ভাই-বোন হলেনÑ শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা এবং শেখ রাসেল। গ্রামবাংলার ধূলোমাটি আর সাধারণ মানুষের সাথেই বেড়ে উঠেছেন শেখ হাসিনা । গ্রামের সাথে তাই তাঁর নিবিড় সম্পর্ক।

সুবিশাল অর্জনে সমৃদ্ধ শেখ হাসিনার কর্মময় জীবন। এক কথায় বলতে গেলে তিনি জীবন সংগ্রামী একজন জননেতা। বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা ও আস্থার জায়গা। এদেশের মানুষের একমাত্র আশা-ভরসার স্থান। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নতুন পর্যায়ের বাংলাদেশের ইতিহাসের নির্মাতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেধা-মনন, সততা, নিষ্ঠা, যোগ্যতা আজ প্রমাণিত। তাঁর কল্যাণমুখী নেতৃত্বে সেই বাংলাদেশ নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলছে। বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এটা এখন তো পরিষ্কার যে, শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর শুধু রক্তের উত্তরাধিকার নন, তিনি আদর্শেরও যথার্থ উত্তরাধিকার। বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি জাতি এক ও অভিন্ন সত্তা। ১৯৭৫ সালে পাকিস্তানিদের এদেশীয় প্রেতাত্মারা দলটিকে ধূলোয় মিশিয়ে দিতে চেয়েছিল কিন্তু তা-ও সফল হয়নি। ’৭৫-এর পটপরিবর্তনের অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী প্রতাপশালী বিএনপি শেখ হাসিনার সামনে দাঁড়াতে পারছে না, তার কারণও এখানেই নিহিত। এখন দেশিয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র করে পার পাওয়া মুশকিল। রাজনীতি এখন মানবতা কেন্দ্রিক, উন্নয়ন কেন্দ্রিক, অগ্রগতি কেন্দ্রিক। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এ বিশাল কর্মযজ্ঞের আয়োজক। গণমাধ্যমে দেখলাম, জাতির এই আনন্দক্ষণকে দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদরা তাঁর জন্য বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন, এই জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন শেখ হাসিনার জন্য পরম ভাগ্যেরও। কারণ, আর কোনো সরকার হয়তো এভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে কোনো পদক্ষেপই নিত না। তবে হাঁ কোভিড-১৯ এর কারণে বাধা এসেছে। জনকল্যাণের কথা চিন্তা করে জাতির পিতার কন্যা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি দীর্ঘদিনের আরাধ্য বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা স্থগিত করতে। শেখ হাসিনার সময়োচিত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে এখনও বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঘটেনি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ৮ মার্চ দেশে যখন প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়, সেদিনই গণভবনে তৎক্ষণাৎ সভা ডেকে ‘মুজিববর্ষ’-এর সব অনুষ্ঠান স্থগিত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে ২০২১ও জন্মশতবার্ষিকী।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়ার পরপরই দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ‘ রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর)’-এ ‘কন্ট্রোল রুম’ খুলে রোগটি মোকাবেলায় প্রস্তুতি শুরু করা হয়। যদিও এটা এখন আর সেরকম নেই। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও খোলা হয় ‘কন্ট্রোল রুম’। যা বলতে চাই, এই যে দূরদর্শিতা, তা কেবলই শেখ হাসিনার মধ্যে পাওয়া যায়। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা থেকে শুরু করে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে তিনি নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং করোনা মহামারির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। একই সাথে দরিদ্র মানুষকে ত্রাণ সহযোগিতার পাশাপাশি জীবিকা ও অর্থনীতি বাঁচাতে নিয়েছেন কার্যকরী পদক্ষেপ। দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ধরে রাখতে কৃষি ও শিল্পসহ অর্থনৈতিক খাতগুলোতে সময়োপযোগী প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। যা বিশ^ অর্থনীতিতে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিগণিত হয়। যার কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)’র প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৯ থেকে বিগত এক দশকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের বিনির্মাণের অভিযাত্রায় যুক্ত হয়েছে অজস্র সাফল্য-স্মারক। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জটিল ইস্যু ছিটমহল সমস্যার সমাধান, ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি ও সমুদ্রবক্ষে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ব্লু ইকোনমির নতুন দিগন্ত উন্মোচন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশ জয়, সাবমেরিন যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন নতুন উড়াল সেতু, মহাসড়কগুলো ফোর লেনে উন্নীত করা, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৬৪ ডলারে উন্নীত, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.২ শতাংশে উন্নীত করা, দারিদ্র্যের হার হ্রাস, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাওয়া, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঘাতকদের শাস্তি হয়েছে, ফাঁসি কার্যকর হয়েছে, দেশের বাইরে থাকা কয়েক ঘাতককে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য সম্পন্ন করা, সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ-সুবিধার আওতায় আনা, যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন, স্বাক্ষরতার হার ৭৩.৯ শতাংশে উন্নীত করা, বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া, মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করা ও স্বীকৃতি দান, মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন, প্রত্যেকটি জেলায় একটি করে সরকারি/বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, নারী নীতি প্রণয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, প্রযুক্তির ব্যবহার চালুসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে কালউত্তীর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

নিভৃত পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। মাতার নাম বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। তিনি বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান। শৈশব কৈশোর কেটেছে বাইগার নদীর তীরে টুঙ্গীপাড়ায় বাঙালির চিরায়ত গ্রামীণ পরিবেশে, দাদা-দাদির কোলে-পিঠে। পিতা শেখ মুজিবুর রহমান তখন জেলে বন্দি, রাজরোষ আর জেল-জুলুম ছিল তাঁর নিত্য সহচর। রাজনৈতিক আন্দোলন এবং রাজনীতি নিয়েই শেখ মুজিবুর রহমানের দিন-রাত্রি, যাপিত জীবন। বাঙালির মুক্তি আন্দোলনে ব্যস্ত পিতার দেখা পেতেন কদাচিৎ।

শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয় টুঙ্গীপাড়ার এক পাঠশালায়। রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় কিশোর বয়স থেকেই বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার রাজনীতিতে পদচারণা। ধানমণ্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে বসবাস শরু করেন ১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর। এ সময় শেখ হাসিনা ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন ঢাকার বকশী বাজারের পূর্বতন ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভানেত্রী (ভিপি) পদে নির্বাচিত হন। একই বছর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭৩ সালে শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কারাবন্দি পিতার আগ্রহে ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়ার সাথে শেখ হাসিনা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের কিছুদিন পর শুরু হয় বাঙালি জাতির ১১-দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান। শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ নেত্রী হিসেবে তাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ইডেন হোটেলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল অধিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতির এক ক্রান্তিলগ্নে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ডাক আসে দেশ-মাতৃকার হাল ধরার। সামরিক শাসকদের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। জেল-জুলম, অত্যাচার কোনোকিছুই তাঁকে টলাতে পারেনি এক বিন্দু।এরপর দীর্ঘ ২১ বছর ধরে সামরিক জান্তা, স্বৈরশাসন ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে চলে একটানা অকুতোভয় সংগ্রাম।

১৯৯৬ সালের ১২ জুনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ হাসিনার প্রথমবারের (১৯৯৬-২০০১) শাসনকাল চিহ্নিত হয় ’৭৫ পরবর্তী সময়ের স্বর্ণযুগ হিসেবে। ২০০১ সালের ষড়যন্ত্র ও কারচুপির নির্বাচনের পর বিএনপি-জামাত অশুভ জোট ক্ষমতা গ্রহণ করে। এ সময় দমন-নিপীড়নের মাধ্যমে জোট সরকার সারাদেশে কায়েম করে ত্রাসের রাজত্ব। হত্যা করা হয় ২১ হাজার দলীয় নেতা-কর্মীকে। ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট তদানীন্তন বিএনপি-জামাত জোটের সরকারি মদদে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে চালানো হয় পরিকল্পিত নারকীয় গ্রেনেড হামলা; যার প্রধান লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। গুরুতরভাবে আহত হলেও আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। তবে এই হামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী নিহত হন। চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন অসংখ্য নেতা-কর্মী। বাংলাদেশ পরিণত হয় এক মৃত্যু উপত্যকায়। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের মদদে সারাদেশে ধর্মীয় জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের ব্যাপক উত্থান ঘটে। আর তাদের এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান অকুতোভয় শেখ হাসিনা। ১/১১-এর পর শুরু হয় নতুন ষড়যন্ত্র। আসে জরুরি আইন। শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য হাজির করা হয় ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’। শেখ হাসিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফিরে আসার সময় বেআইনীভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। কিন্তু সাহসিকা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সরকারি নিষেধাজ্ঞা, ষড়যন্ত্র ও মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে ২০০৭ সালের ৭ মে ফিরে আসেন প্রিয় স্বদেশ ভূমে। কিন্তু এর মাত্র দু’মাস পর ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই নিজ বাসভবন সূধাসদন থেকে শেখ হাসিনাকে দানবীয় কায়দায় গ্রেফতার করা হয়। জাতীয় সংসদ এলাকায় একটি অস্থায়ী কারাগারে তাঁকে বন্দি করে রাখা হয়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অর্জিত হয় ঐতিহাসিক বিজয়। এককভাবে আওয়ামী লীগই লাভ করে তিন চতুর্থাংশের বেশি আসন। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। গঠিত হয় মহাজোট সরকার। দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও শক্তিশালী ভীত রচিত হওয়ায় জনপ্রিয়তার অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যান শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। এরপর ২০১৮-এর ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হলো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অবিশ্বাস্য বিজয়লাভ করে সরকার গঠন করেন শেখ হাসিনা। মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার আজ সফলতার সাথে টানা তৃতীয় মেয়াদে চতুর্থবারের মতো দেশ পরিচালনা করছেন। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে দেশবাসী আজ সুফল পাচ্ছে। অমিত সম্ভাবনার দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে এক অপ্রতিরোধ্য গতিতে। প্রভুর কাছে প্রার্থনা করি, বঙ্গবন্ধুকন্যা যেন সুন্দরভাবে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে তাঁর মনের মতো গড়ে তুলতে পারেন।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

সর্বাধিক পঠিত