প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী: শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য দীর্ঘায়ু এবং অব্যাহত নেতৃত্বদানের কামনায়

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী: আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন। তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। তিনি এখন করোনা দুঃসময়ে আমাদের রাষ্ট্রের হাল ধরে আছেন। একটানা ১২ বছর তিনি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মতো সমস্যা সংকুল দেশের সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। একজন মানুষের পক্ষে বিরতিহীনভাবে এতো বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করা মোটেও সহজ কাজ নয়। সেই কঠিন ও জটিল কাজটি তিনি আপন স্বভাবসুলভ হাসিখুশি মুখে পালন করে যাচ্ছেন, সেটি আমরা দেখে আসছি। তার এই টানা ১২ বছরের শাসনকালে বাংলাদেশ অভুতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি এখন পৃথিবীর রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে অন্যতম একজন আলোচিত এবং সম্মানিত সরকার প্রধান। তার দৃঢ়তা, দূরদর্শিতা, রাষ্ট্রচিন্তা, কর্মতৎপরতা এবং মানুষের প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার প্রবণতা আমাদের ভীষণভাবে উদ্বেলিত করে। এই বয়সেও তিনি ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে চলছেন। সে কারণেই আমরা জাতীয় জীবনের অনেক দুর্যোগ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমান করোনার সংক্রমণ বৈশ্বিক সমস্যা। এটিও এখন পর্যন্ত তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সীমাহীন সমস্যার মধ্যেও মোটামুটি সন্তোষজনকভাবে মোকাবেলা করে অগ্রসর হচ্ছে বলে প্রায় সকল মহলেই স্বীকার করছে।

যখন করোনার সংক্রমণ আমাদের দেশে শুরু হয় তখন এর চিকিৎসায় আমাদের ডাক্তার, হাসপাতাল, সরঞ্জামাদি এবং অভিজ্ঞতার কিছুই ছিলো না। সরকার প্রধান হিসেবে তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে করোনা চিকিৎসার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেন। ফলে বাংলাদেশ শুধু চিকিৎসা ক্ষেত্রেই নয় অর্থনীতি, মানুষের জীবন ও জীবিকাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ফলে অর্থনীতি যেভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা ছিলো সেভাবে সংকট তৈরি হতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এই দুঃসময়ে দেশ ও জাতিকে তার সর্বোচ্চ দিয়ে সেবা করে যাচ্ছেন, অনুপ্রাণিত করছেন অন্যদেরও। তিনি যেকোনো বিবেচনায় দেশকে অনেক বড় ধরনের সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটাতে দিনরাত কাজ করে চলছেন। ১৭ বা ১৮ কোটি মানুষের এই দেশে করোনা সংক্রমণ, বারবার বন্যার আক্রমণ, নদী ভাঙন, আম্পানের মতো দুর্যোগ কাটিয়ে উঠার জন্য রাষ্ট্রের সকল সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। সে কারণে বাংলাদেশ এসব বিপর্যয় কাটিয়ে উঠার সাফল্য একের পর এক দেখাতে পারছে।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের এক ক্রান্তিকালে রাজনীতির হাল ধরেছেন। বঙ্গবন্ধুর শূন্য আসনে তাকে বসতে হয়েছে। তিনি পঁচাত্তর পরবর্তী বিপরীত স্রোতের মুখে রাজনীতির হাল ধরেছেন। টানা ১৫ বছর তাকে আন্দোলন সংগ্রামের ভেতর দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের শক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগকে জাগিয়ে তুলতে ফেরেছিলেন। তার পদে পদে ছিলো বাঁধা, জীবন নাশের হুমকি। সবকিছুকে অতিক্রম করে তিনি পিতার মতো সাহস নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসেন। সেই শাসনকালে তিনি দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরিয়ে আনার সাফল্য অর্জন করেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ ও সংবিধানের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের মাধ্যমে পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু করার পথ পরিষ্কার করলেন। দেশ পরিচালনায় তিনি সাফল্য দেখাতে সক্ষম হলেন, ভাঙাতে পারলেন মানুষের ভুল ধারণা। শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম দীর্ঘদিনের সংকট থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ ফেল, গঙ্গার পানি চুক্তির মাধ্যমে ভারতের কাছ থেকে ন্যায্য হিস্যা আদায় করে নিলেন। কিন্তু ২০০১-২০০৬ সালে বিরোধী পক্ষ রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে তার প্রাণনাশের চেষ্টা করেছিলো।

কলঙ্কজনক ২১ আগস্ট প্রমাণ করে বাংলাদেশে পঁচাত্তরের ঘাতকরা শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ এবং অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তিকে নির্মূল করতে কতোটা সক্রিয় রয়েছে। তাদের সেই গোপন ষড়যন্ত্র গোটা ৫ বছর বাংলাদেশ দেখেছে, শাহ এম এস কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টারসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে প্রাণ দিতে হয়েছে। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কেন্দ্র করে বাংলাদেশে একাত্তরের পরাজিত শক্তি এবং পঁচাত্তরের সুবিধা ভোগকারি শক্তি রাষ্ট্রের গোপণ সকল অপশক্তিকে ব্যবহার করে সরকার উৎখাত, জ্বালাওপোড়াও আন্দোলন, নির্বাচন ভণ্ডুল করাসহ নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে যা বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে আবার পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডের ধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছে। এই অপশক্তির মূল টার্গেটে আছেন শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্যগণ তথা বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার ও রাজনীতির ধারকবাহকগণ। এই অপশক্তিকে মাথা তুলে দাঁড়াতে না দেওয়ার রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক নেতৃত্বদানের ওপর। সে কারণে আমরা শেখ হাসিনার আজকের এই জন্মদিনে ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বদানের কামনা করছি।

লেখক : শিক্ষাবিদ

সর্বাধিক পঠিত