প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. আতিউর রহমান: শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে রাষ্ট্রনায়ক থেকে বিশ্বনেতা হয়ে উঠছেন

ড. আতিউর রহমান: পঁচাত্তরে ঘাতকের বুলেটে সপরিবারে নিহত হয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেসময় এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলো বাংলাদেশ। আমাদের সৌভাগ্য যে, স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে কঠিন চ্যালেঞ্জ সেই মোকাবেলায় তারই কন্যা শেখ হাসিনাকে আমরা পেয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে রাষ্ট্রনায়ক হয়ে উঠেছেন। একটা সময় ছিলো তিনি শুধুই রাজনীতিক ছিলেন। এখন সামগ্রিকভাবে নেতৃত্বকে একটা বহুমাত্রিকতায় এনে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ধীরে ধীরে বিশ^ নেতাও হয়ে উঠছেন। তিনি সবসময় গণমুখী থেকেছেন। একটা গতিময় নেতৃত্বে এগিয়ে নিতে চাইছেন- প্রশাসন ও দলকে। যখন পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, সেটাও করছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বড় শক্তি হলো সাধারণ মানুষ। তিনি তাদের ভালোবাসেন। তারাও তাকে ভালোবাসে। সাধারণ মানুষের জন্যই তিনি কাজ করেন। তার অপর শক্তিটা হচ্ছেÑ তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যা। মুজিবকন্যা হিসেবে তিনি খুব শক্তি পান। খুব দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেও পারেন তিনি। কোথাও কোনো ভুল হলে বুঝতে পারেন, দ্রুত তা শুধরে নিতে পারেন।

শেখ হাসিনার সাফল্যের শেষ নেই। গত দশ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার তিনগুণেরও বেশি বড় হয়েছে। এখন তা তিনশ বিলিয়ন ডলার, ২০০৯ সালে যা ছিলো একশ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। মাথাপিছু আয় ছিলো সাতশ ডলার, সেটা এখন প্রায় দুই হাজার ডলার। রপ্তানি ছিলো ১৫ বিলিয়ন ডলারের আশপাশে, এখন ৪০ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভ ছিলো ৬-৭ বিলিয়ন ডলার, এখন প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধির হার ছিলো ৫ শতাংশ, এখন ৮ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে, করোনা কারণে এ বছর কিছুটা কম হবে। এই অঙ্কগুলোই বলে দেয় অর্থনীতিকে তিনি কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এটা সম্ভব হয়েছে সমাজের নিচের দিকের মানুষগুলোর জন্য তিনি কাজ করেছেন বলেই।

৯৬ সালে দীর্ঘ একুশ বছর পর রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব পায় আওয়ামী লীগ। দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই শেখ হাসিনা সেই আরাধ্য কাজগুলো আবারও শুরু করলেন। জাতির জনককে হত্যার পর অপশক্তিগুলো অনেক হৃষ্ট-পুষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ’৯৬ সালে ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ শুরু করতে পারেননি, তবে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছিলেন। বিচার হলেও তা কার্যকর করে যেতে পারেননি। অনেক সংস্কার তিনি শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি। ২০০১ সালের পর যদি তিনি আরেকটি টার্ম রাষ্ট্রপরিচালনা করতে পারতেন তাহলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, তার চেতনার বাংলাদেশকে তিনি অনেক দূর নিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু মাঝখানে একটা ছন্দপতন ঘটল। ২০০৯ সালে আবারও তিনি এদেশের রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব পেলেন জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত হয়ে। ক্ষমতায় এসে তিনি আবারও অসমাপ্ত কাজগুলো করছেন। অনেক বড় বড় কাজ তিনি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছেন। তবে বাস্তবায়ন এতো সহজ ছিল না তার জন্য। কারণ শত্রু তো এখনো রয়েই গেছে।
বাংলাদেশ অনেকদিক দিয়ে সফল এই অর্থে যে, দেশের দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমেছে। সামাজিক উন্নয়ন ঘটেছে। মানুষের জীবনের আয়ু বেড়েছে। যেগুলো বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের সামনে এখনো সীমাহীন চ্যালেঞ্জ। তবে বঙ্গবন্ধুকন্যা চেষ্টা করে যাচ্ছেন সব প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে। যারা বঙ্গবন্ধুকে পছন্দ করে না, যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল না তারা কিন্তু বসে নেই। বিভিন্ন রূপ ধারণা করে চেষ্টা করছে কোনোভাবে তাকে অস্বস্তিতে ফেলা যায় কিনা। আমাদের এখন চেষ্টা করে যেতে হবে যে, বঙ্গবন্ধুকন্যা যেন একটা স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে পারেন।

আমাদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছেÑ বঙ্গবন্ধু যে রকম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন তা গড়ার ক্ষেত্রে কোনো আপোস করা যাবে না। যারাই এখানে বাধা হয়ে দাঁড়াবে তাদের সঙ্গে কোনো আপোস করা যাবে না। বঙ্গবন্ধুর, স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়তে গেলে যে ধরনের অবকাঠামো দরকার, অবকাঠামো উন্নয়ন বাস্তবায়নে যেন কেউ প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকা। সময় মতো যেন উন্নয়নমূলক কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হয়। যে সব মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে প্রচুর গলদ রয়ে গেছে, তা দূর করতে হবে। যে রকম শিক্ষাব্যবস্থা বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন তা দাড় করাতে হবে। যে রকম চেহারা দিতে চেয়েছিলেন সমাজ ও গণতন্ত্রকে সে রকম একটা সমাজ যাতে আমরা তৈরি করতে পারি সেজন্য সকল পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করেই বঙ্গবন্ধুকন্যাকে এগোতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনাই একমাত্র যোগসূত্র বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমাদের। এই যোগসূত্র রক্ষা করতে হলে তার হাতকে আমাদের শক্তিশালী করতে হবে।

বঙ্গবন্ধুর আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে দিয়েই বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এ কারণেই সম্ভব যে, বঙ্গবন্ধু কী চেয়েছিলেন তিনি খুব ভালো করেই বোঝেন। কারণ অন্য যে কারোর চেয়েই তিনি বঙ্গবন্ধুকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সুতরাং শেখ হাসিনাকে আমাদের অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। যে যেখানেই থাকি না কেন, সেখান থেকেই সমর্থনটা দিয়ে যেতে হবে। আমরা যদি প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে তাকে সমর্থন দিই তাহলে তিনি বাংলাদেশকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবেন। তার সেই সামর্থ্য, সাহস আছে।

পরিচিতি: সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

 

 

 

 

 

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত