প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ধর্ষনকান্ডে ক্ষোভে উত্তাল সিলেট,আদালতে উঠলেন নির্যাতিতা তরুণী

হাসান শামীম : [২] স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে ধর্ষণের শিকার হওয়া তরুণী আলাদাতে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। রোববার দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম ৩য় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নিলার কাছে তার জবানববন্দি দেন। এদিকে শুক্রবার রাতে ঘটা এ ঘৃণ্যকান্ডের প্রতিবাদে সিলেটে ক্ষোভ প্রতিবাদ অব্যাহত আছে। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমসি কলেজে তরুণী গণধর্ষণের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে মহানগর পুলিশ কার্যালয় অভিমুখে ‘পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশেনের মেয়র ও কাউন্সিলররা।

[৩] এ ছাড়াও শহরে বিক্ষোভ মানববন্ধন করেছেন নানা শ্রেনী পেশার মানুষ। ইতিমিধ্যে দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে সুনামগঞ্জ থেকে সাইফুর রহমান ও হবিগঞ্জ থেকে অর্জুন লস্কর নামে দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় শনিবার ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ৯জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ধর্ষিতার স্বামী।বাকিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত আছে।

[৪] সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারি কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী তরুণী আদালতে উঠার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, রবিবার দুপুরে পুলিশ আক্রান্ত তরুণীকে ওসমানী হাসপাতাল থেকে আদালতে নিয়ে আসে। দেড়টার দিকে তিনি আদালতে ওই রাতের ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আদালতে তার জবানববন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার এক দম্পতি। ছাত্রলীগের ৫/৬ জন নেতাকর্মীকে তাদের ধরে ছাত্রাবাসে নিয়ে আসে। সেখানে দুজনকেই মারধর করে তারা। পরে স্বামীকে বেঁধে রেখে তার সামনেই স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের শিকার তরুণী বর্তমানে ওসমানী হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি আছেন।

[৫] এদিকে রোববার দুপুরে নগর ভবনে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে কাউন্সিলদের নিয়ে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় এমসি কলেজের তরুণী গণধর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান কাউন্সিলররা। জরুরী সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে নাগরিক প্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, অভিভাবক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে এমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হবে। সভা শেষে নগর ভবন থেকে প্রতিবাদী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট মহানগর পুলিশ কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা করেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও কাউন্সিলরবৃন্দ।

[৬] নগরীর উপশহরস্থ মহানগর পুলিশ কার্যালয়ে গিয়ে পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়ার সাথে বৈঠক করেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও সিসিকের কাউন্সিলররা। পবিত্র নগরী সিলেটে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা মহানগরবাসীর জন্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আধ্যাত্মিক মর্যাদার এই নগরীকে আমরা স্মার্ট পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করছি। কিন্তু এই নগরীতে একজন পর্যটক যদি এমন নিকৃষ্ট ঘটনার শিকার হন তবে, আমরা জনপ্রতিনিধি হয়ে লজ্জিত না হয়ে পারি না। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত সন্তু, কাউন্সিলর রেজাউল হাসান লোদী, কাউন্সিলর তৌফিক বকস, কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান, কাউন্সিলর সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান, কাউন্সিলর এবিএম উজ্জলুর রহমান, কাউন্সিলর মো. আব্দুর রকিব তুহিন, কাউন্সিলর মো. ছয়ফুল আমীন, কাউন্সিলর আব্দুল মুমিন, কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন তাজ, কাউন্সিলর মোস্তাক আহমদ, কাউন্সিলর এস এম শওকত আমীন তৌহিদ, কাউন্সিলর আব্দুল মুহিত জাবেদ, সংরক্ষিত কাউন্সিলর শাহানারা বেগম, শাহানা বেগম শানু, মাসুদা সুলতানা, রেবেকা বেগম রেনু, কুলসুমা বেগম পপি, নাজনিন আক্তার কণা । সম্পাদনা : জেরিন আহমেদ

সর্বাধিক পঠিত