প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কক্সবাজারের মাদক সিন্ডিকেট ভাঙতে, পুলিশের ভাবমূর্তি ফেরাতে ইতিবাচক পরিবর্তন চাই: ডিআইজি আনোয়ার হোসেন

বিপ্লব বিশ্বাস: [২] করোনাভাইরাসের শুরু থেকে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল পুলিশ সদস্যরা। তখন সবাই তাদের প্রশংসা করে। এখন কক্সবাজারে হারানো সেই সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা। সেজন্য কক্সবাজারের পুলিশকে আমরা ঢেলে সাজাতে চাই।’

[৩] এত দিন কি তাহলে পরিবেশটা নেতিবাচক ছিল-জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এত দিন পুরো পরিবেশটা নেতিবাচক ছিল না, তবে কিছু সংকট ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। আমরা সংকট কাটিয়ে উঠতে চাই। এত দিন মানুষের অভিযোগ ছিল, কিছু পুলিশ সদস্য ঘুরে ফিরে কক্সবাজারে দায়িত্ব পালন করছেন। ওই অভিযোগটি আমলে নিয়ে আমরা কক্সবাজারে মোট এক হাজার ৪৮৭ জনকে বদলি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বদলি শেষে কিছু শূন্যপদ নিয়োগসহ মোট এক হাজার ৫০৭ জন পুলিশকে যুক্ত করা হবে কক্সবাজারে।’

[৪] ঘুরে ফিরে কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনের কারছে পুলিশ। এ ছাড়া কক্সবাজারে ইয়াবা বা মাদক সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে জনবল ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ

[৫] কক্সবাজারের মাদক সিন্ডিকেট ভাঙতে, পুলিশের ভাবমূর্তি ফেরাতে এবং সামগ্রিকভাবে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সেখানকার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত মোট এক হাজার ৪৮৭ জনকে বদলি করা হবে। শুক্রবার পর্যন্ত এই বদলির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৪৭ জনে। বদলি শেষে কিছু শূন্যপদ পূরণসহ মোট এক হাজার ৫০৭ জন পুলিশ সদস্যকে কক্সবাজার জেলা পুলিশে যুক্ত করা হবে।

[৬] পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের নবনিযুক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আনোয়ার জানান ‘আমরা একটি ইতিবাচক পরিবর্তন চাই। কক্সবাজারের পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা বারণে কিছু পুলিশ সদস্য মাদকের সিন্ডিকেট মেইনটেইন করেন কি না জানতে চাইলে ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এত বিশাল সংখ্যক পুলিশকে বদলি করা হচ্ছে। তার মানে দাঁড়াল, এখন কক্সবাজারে যারা ইতোমধ্যে যোগদান করেছেন বা করবেন তারা কিন্তু সবাই নতুন। সিন্ডিকেট মেইনটেইনের কথা যদি বলেন, সেক্ষেত্রে নতুনরা তো সিন্ডিকেটে জড়িত না। সুতরাং নতুনদের পুলিশের পক্ষ থেকে সেভাবেই নির্দেশনা দেওয়া হবে। যাতে তারা মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকে। মাদকের কোনো সিন্ডিকেট থাকলে আমরা তা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেব। কক্সবাজারে নতুন করে কোনো অবৈধ সিন্ডিকেট যাতে দাঁড়াতে না পারে আমরা সেই চেষ্টাই করব।’‘আমরা কক্সবাজারে নতুন করে শুরু করতে চাই।

[৭] যেভাবে হয়েছে, যা হয়েছে, ওই ঘটনাটার (মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ড) কথা যদি আমরা বলি, মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। একটি তদন্ত কমিটি রিপোর্টও দিয়েছে। সুতরাং ওই দিকে আমি আর যেতে চাই না। আমি সামনের দিকে তাকাচ্ছি। আগামী দিনগুলোর জন্য আমরা কক্সবাজারকে একেবারেই নতুন করে ঢেলে সাজাচ্ছি। একই সঙ্গে কক্সবাজার নানা দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। সুতরাং আমাদের সবার মধ্যে একটা সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন এবং আছে। আমরা যেন কক্সবাজারের সব মানুষের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা নিয়ে কাজ করতে পারি, সেই চেষ্টা করে যাব।’ বলছিলেন ডিআইজি আনোয়ার হোসেন।

[৮] পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ও কক্সবাজার পুলিশের সূত্রগুলো জানিয়েছে, কক্সবাজারের পুরো সেটআপ পরিবর্তন করে পুলিশের সুনাম ফিরিয়ে আনতে যা যা করার দরকার সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গত ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাতে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ রোডে পুলিশের গুলিতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহত হওয়ার পর পুলিশের ভাবমূর্তির সংকট দেখা যায়। ওই ঘটনায় সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ারের করা হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ১১ জন পুলিশ সদস্য জেলহাজতে রয়েছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত