প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পটিয়ায় বাইপাস সড়কে ১০ মাসে ২০ জনের মৃত্যু

মোহাম্মদ শাহজাহান: [২] চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাইপাস সড়কের জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০০ শত কোটি টাকা। পৌর সদরের ইন্দ্রপোল এলাকা থেকে চক্রশালা গিরিশ চৌধুরী বাজার পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার বাইপাস মহাসড়ক নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ২০১৯ সালের ১৬ অক্টোবর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ সড়ক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী জননেএী শেখ হাসিনা ।

[৩] তবে অপরিকল্পিতভাবে সড়ক নির্মাণ ও মহাসড়কের ক্রসিংগুলো অপরিকল্পিত কারণে এতো দুর্ঘটনা ও প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত দশ মাসে এই সড়কে প্রাণ হারিয়েছে ২০ জন এবং আহত হয়েছেন কয়েক শতাধিক মানুষ। বাইপাসে বাতি না থাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে অহরহ।

[৪] সর্বশেষ গত ৩০ আগস্ট বিকেলে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা একটি মালবাহী ট্রাক বাইপাস বাকখালী মোড়ে দুই বাইসাইকেল আরোহী মামাত-ফুফাত ভাইকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তারা দুজনই প্রাণ হারিয়েছে। সড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। এসব দুর্ঘটনার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের ত্রুটি জনসাধারণের অসাবধানতা ও অসচেতন তাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ প্রসাশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে অপরিকল্পিতভাবে সড়ক নির্মাণ ও মহাসড়কের ক্রসিং গুলো অপরিকল্পিত ।

[৫] যে কারণে এতো দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। আর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলছেন দুর্ঘটনারোধে গাড়ির উচ্চগতি বন্ধে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। সড়কে ৬টি ঝঁকিপূর্ণ পয়েন্ট রয়েছে। পয়েন্টগুলোতে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। পয়েন্টগুলো হচ্ছে আনোয়ারা রাস্তার মাথা, বৈলতলী সড়ক, ভাটিখাইন, কচুয়াই ইউনিয়নের ফারুকী পাড়া, পৌর সদরের বাকখালী, করল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রাস্তা ।

[৬] এছাড়া সড়কে বাতি ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে। কিশোর গ্যাং অভিনব ফাঁদ বুনে রয়েছে। সন্ধ্যার পর সড়ক দিয়ে কেউ চলাচল করলে তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে সব কিছু।

[৭] স্থানীয়রা বলেন, চট্টগ্রাম-কক্্রবাজার আরাকান সড়কের যানজট নিরসনে বাইপাস সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা সড়ক বিভাগের পরিকল্পনায় কিছু ত্রুটিও রয়েছে। সড়ক বিভাগের পরিকল্পনায় কথা তুলে তারা বলেন, পৌরসভার যে লিংক রোডগুলো (সংযোগ সড়ক) ওপর দিয়ে বাইপাস সড়কটি নির্মাণ হয়েছে।

[৮] সেই লিংক রোডগুলোর প্রবেশমুখ অপরিচ্ছন্ন ও বন্ধ। মহাসড়ক নিয়ে কোনো যানবাহন আসছে কিনা, লিংক রোড থেকে সেটি দেখা যায় না। যার কারণে লিংক রোড দিয়ে বাইপাস সড়কে মুহুূর্তেই দুর্ঘটনায় পড়তে হয়। অধিকাংশ দুর্ঘটনা এভাবেই হয়েছে। দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার উপায় কি এমন প্রশ্নে তারা জানান, লিংক রোডের সংযোগ মুখের স্থাপনাগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে।

[৯] মহাসড়ক দিয়ে কোনো যানবাহন আসছে তা যেন দেখা যায়। এছাড়া জনসাধারণকে সচেতন হতে হবে। মহাসড়কে উঠে শতভাগ স্প্রিডে গাড়ি চালানো যাবে না। এছাড়া গাড়ি চালকদের গতিরোধে পুলিশের মোবাইল টিমকে আরো জোরদার হতে হবে। প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে দুর্ঘটনা কমে আসবে।

[১০] কচুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম ইনজামুল হক জসিম জানিয়েছেন, বাইপাস সড়কটি নির্মাণ হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে মহাসড়কের ক্রসিংগুলো অপরিকল্পিত। এখন সেগুলো মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। মূলত এ কারণেই বাড়ছে দুর্ঘটনা।

[১১] হাইওয়ে পুলিশের ওসি বিমল চন্দ্র ভৌমিক জানিয়েছেন, বাইপাসে পথচারী ও যাএীরা সতর্ক হলে এ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব । চালক ও জনগণের সচেতনতা শতকরা ৮০ ভাগ কমাতে পারে। এদিকে পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরী বাইপাস সড়কটি ছয় লাইন উন্নতকরণ করার পরিদর্শন করেন। সম্পাদনা: সাদেক আলী

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত