প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পদ্মানদীতে তৃতীয় দফা পানি বৃদ্ধির কারণে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে

মো. ইউসুফ মিয়া: [২] পদ্মানদীতে তৃতীয় দফা পানি বৃদ্ধির কারণে তীব্র স্রোত দেখা দেয়ায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের ২০০ মিটার এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পদ্মানদীর ভাঙ্গার কারণেই হুমকির মুখে পড়েছে ২ ও ৩ নম্বর ফেরি ঘাট। ভাঙন ঠেকাতে জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে যে কোন মুহুর্তে গত বছরের মতো ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে পদ্মানদীর ভাঙ্গনের এলাকায় ব্যাপক ক্ষতিরলক্ষন।

[৩] পদ্মানদীর ভাঙ্গনের সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দৌলতদিয়ার লঞ্চ ঘাট থেকে ৩নম্বর ফেরি ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ মিটার এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ২ নম্বর থেকে ৩ নম্বর ফেরি ঘাটের প্রায় ২০০ মিটার এলাকার কয়েক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে বেশি। ২ নম্বর ঘাটের এ্যাপ্রোচ সড়কের মাথার অংশ বিশেষ ভেঙে বিলীন হয়েছে। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে ভাঙনে বিলীন হয়ে যায় দৌলতদিয়ার ১ ও ২ নম্বর ফেরিঘাট।

[৪] বর্ষা পরবর্তীতে দুটি ঘাট সংস্কার কাজ করে প্রস্তুত করা হয়। এবছর নতুন করে ২ নম্বর ঘাটের এ্যাপ্রোচ সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে সড়কের মাথায় ইটের আদলা ভর্তি বস্তা এবং বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হলেও বিলীন হয়েছে। ঘাটের এক পাশে বিভিন্ন বলগেট বোঝাই পণ্য নামাতে দেখা যায়।

[৫] ৩ নম্বর ফেরিঘাট সংলগ্ন সিদ্দিক কাজী পাড়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কারণে ৩নম্বর ফেরি ঘাটও হুমকিতে পড়েছে। ভাঙন থেকে কয়েক গজ দূরে ৩ নম্বর ঘাট দিয়ে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা করছে। দ্রুত ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ৩ নম্বর ঘাটটি চরম ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

[৬] ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙনের কারণে আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছে ফেরি সেক্টরের লোকজন। ফেরি ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ায় ফেরি ঘাট রক্ষা ও যানবাহন পারাপারে বিপর্যয় আসতে পারে এ আশঙ্কা করছেন তারা। এছাড়া ফেরি ঘাট সংলগ্ন সিদ্দিক কাজী পাড়ার বাসিন্দাদের মাঝেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

[৭] সিদ্দিক কাজী পাড়ার মোকবুল শেখ বলেন, গত বছর ১ নম্বর ফেরিঘাট মজিদ শেখের পাড়ায় ভাঙনে ভিটেমাটি বিলীন হলে ৩নম্বর ফেরি ঘাটের কাছে এসে ঘর তুলি। এবছর এখানেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন যদি বাড়তে থাকে তাহলে বিকল্প উপায় বের করতে হবে। কিন্তু কোথায় যাব তা ভেবে পাচ্ছি না। এ নিয়ে এখানকার প্রায় ১০০ পরিবার বাড়তি দুশ্চিন্তায় আছি।

[৮] স্থানীয় ২নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন, লঞ্চ ঘাট থেকে ৩নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রতি বছর ভাঙন দেখা দেয়। এবারও লঞ্চ ঘাট থেকে ১ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার মজিদ শেখের পাড়ার প্রায় ৫০০ পরিবার এবং ২-৩ নম্বর ফেরি ঘাট এলাকার সিদ্দিক কাজী পাড়ার প্রায় ৩০০ পরিবার ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের বিপর্যয় হতে পারে। রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

[৯] বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মেরিন আব্দুস সাত্তার বলেন, প্রতি বছর সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসে ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। জরুরী ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকানো না হলে গত বছরের মতো এবার ফেরিঘাট বিলিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জরুরীভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বিআইডব্লিউটিএকে জানিয়েছি।

[১০] বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নিজাম উদ্দীন পাঠান বলেন, বন্যার আগ পর্যন্ত লঞ্চঘাট থেকে ৬ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যায়ে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলেছি। বন্যা পরবর্তী সময়ে লঞ্চঘাট থেকে ৩ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ মিটার এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ২০০ মিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে উর্দ্বোন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলেই কাজ শুরু করা হবে। সম্পাদনা: সাদেক আলী

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত