প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে ৯৩ হাজার কার্বাইন বানানোর প্রস্তাব দিল আমিরাত

রাশিদ রিয়াজ : ভারতে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত এ ধরনের প্রস্তাব দিয়েছেন। আবুধাবির কারাকাল ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ক্লোজ কোয়ার্টার ব্যাটেল কার্বাইন কেনার জন্য আরব দেশের সঙ্গে যে চুক্তি হওয়ার কথা ছিল ভারতের, তাকে মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের আওতায় আনতে। আমিরাত থেকে এধরনের স্বয়ংক্রিয় অত্যাধুনিক ও মারণ ক্ষমতার কার্বাইন কেনার কথা হয় ২০১৮ সালে। পরে এই চুক্তি আর হয়নি। ভারত এখন বিদেশি কোম্পানি থেকে অস্ত্র কেনার বদলে দেশটিতে যুদ্ধান্ত্র বানাতে বেশি উদ্যোগী। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে। এর আগেও জঙ্গি বিমান, সাবমেরিন সহ নানাধরনের যুদ্ধাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে ফ্রান্স কিংবা রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগেই এগিয়েছে ভারত। বর্তমানে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ভারতীয় সেনার জন্য পিনাকা মিসাইল তৈরি করছে দেশেরই কয়েকটি সংস্থা। টাইমস অব ইন্ডিয়া/জেরুজালেম পোস্ট

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্প্রতি আমিরাতের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ায় আমিরাত অস্ত্র তৈরি প্রযুক্তিতে আরো এগিয়ে যাবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। কারাকাল ইন্টারন্যাশনাল উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নেতৃস্থানীয় অস্ত্র রফতানি তৈরি কোম্পানি হিসেবে পরিচিত। এর আগেও জার্মানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পিস্তল বানিয়েছে কারাকাল। যুক্তরাষ্ট্রে কারাকাল ইউএসএ অস্ত্র তৈরি করছে। পিস্তল, সাবমেশিন গান, এ্যাসাল্ট রাইফেল ও স্নাইপার রাইফেল বানাতে জুড়ি নেই কারাকালের। কারাকাল ভারতকে জানিয়েছে ক্লোজ কোয়ার্টার ব্যাটেল কার্বাইন কেনার জন্য আরব দেশের সঙ্গে যে চুক্তি হওয়ার কথা ছিল ভারতের, তাকে মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের আওতায় আনলে ভারতেই দেশটির সেনাবাহিনীর জন্য কার্বাইন তৈরি করতে পারবে তারা।

কারাকালের অত্যাধুনিক কার্বাইন ব্যবহার করে অনেক দেশই। ভারতের ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বলছে কারাকাল যে কার্বাইন তৈরি করে কার-৮১৬ তার ২০ শতাংশ যন্ত্রপাতিই ভারতে তৈরি হয়। তবে কারাকাল প্রস্তাব দিয়েছে, তাদের বিশেষ প্রযুক্তিতে কার্বাইনের আপডেটেড ভার্সন তারা বানাতে চায় ভারতে বসেই। কোম্পানির সিইও হামাদ আল আমেরি বলেছেন, জরুরি ভিত্তিতে ভারতীয় সেনার হাতে কার্বাইন তুলে দিতে চায় তারা। ভারতের বাহিনীতে কার্বাইনের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। পুরনো আমলের রাইফেল বাতিল করে অত্যাধুনিক কার্বাইন ভারতীয় সেনার শক্তি আরও বাড়াবে বলেই মত আমেরির। ৯৩ হাজার ৮৯৫টি কার্বাইন তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে কারাকাল।

কারকালের তৈরি সিকিউবি কার্বাইন প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে। ৯এমএম ব্রিটিশ স্টার্লিং আইএআই সাব মেশিন গানের বদলে এই কার্বাইন ব্যবহার করবে ভারতীয় বাহিনী। আবু ধাবির কারাকাল ইন্টারন্যাশনালের তৈরি ক্লোড কোয়ার্টার ব্যাটল কার্বাইন হল কার ৮১৬। এধরনের কারবাইন ২০১৫ সালে তৈরি করে কারাকাল। একে কারকাল সুলতানও বলে। কারকাল কার্বাইনের ব্যারেলের দৈর্ঘ্য তিন রকমের। কমপ্যাক্ট অ্যাসল্ট রাইফেল ২৬৭ এমএম, কার্বাইন ৩৬৮ এমএম ও অ্যাসল্ট রাইফেল ৪০৬ এমএম।
৩.৪ কিলোগ্রাম ওজনের এই কার্বাইন যে কোনও পরিস্থিতিতে ও পরিবেশেই ব্যবহার করা যায়। হ্যান্ডি হওয়ায় সহজে বয়ে নিয়ে যাওয়াও সম্ভব। ভারতে যে সিকিউবি কার্বাইন পাঠাচ্ছে আমিরাত তার দৈর্ঘ্য ৮৩৩ এমএম থেকে ৯২২ এমএম। ক্যালিবার ৫.৫৬ এমএম। প্রতি মিনিটে ৭৫০ থেকে ৯০০ রাউন্ড ফায়ার করা যায় এই কার্বাইন থেকে। যার পাল্লা প্রায় ৫০০ মিটার। স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ. প্যারাট্রুপাররা এই ধরনের কার্বাইন ব্যবহার করে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে আছে এসএএফ কার্বাইন ২এ১। এই কার্বাইনের প্রযুক্তিও পুরনো হয়ে গেছে। জার্মানির তৈরি হেকলার অ্যান্ড কোচ এমপি৫ রয়েছে ভারতীয় বাহিনীর হাতে। অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ইসরায়েলের তৈরি একাধিক শক্তিশালী অ্যাসল্ট রাইফেলও রয়েছে। সম্প্রতি দ্বিতীয় দফায় সিগ সর অ্যাসল্ট রাইফেলের জন্য আমেরিকার দ্য স্মল আর্ম ম্যানুফ্যাকচারারের সঙ্গে চুক্তি করেছে ভারত। গত বছর ডিসেম্বরে প্রথম দফায় সিগ সর অ্যাসল্ট রাইফেল আসে নর্দার্ন কম্যান্ডের হাতে। অমেঠীর অস্ত্র কারখানায় ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি একে-২০৩ রাইফেলও রয়েছে সেনাবাহিনীর হাতে।

সর্বাধিক পঠিত