প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অমি রহমান পিয়াল: গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে শিষ্ঠাচারের বাইরে কখনো যায়নি আওয়ামী লীগ

অমি রহমান পিয়াল: ১৯৭৯ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে আগ্রহী হয়। জেনারেল জিয়ার কাছে তাদের নেতারা মালেক উকিল আসাদুজ্জামান প্রমুখ দুটো আব্দার করলেনÑ ঢাকায় তাদের কোনো অফিস নেই। পুরানা পল্টনের অফিস আর নেই। তাদের যেন নেতাকর্মীদের বসবার জন্য একটা অফিস দেওয়া হয়। দ্বিতীয় আবদার ছিলো কাদের নিয়ে তারা ইলেকশন করবে। নেতারা সব বিভিন্ন দুর্নীতি, সন্ত্রাসী মামলায় জেলেÑ তাই গণতন্ত্রের স্বার্থে তাদের মুক্তি দিলে তাদের অনেকেই আওয়ামী লীগ থেকে নমিনেশন দিলে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। জেনারেল জিয়া দুটো প্রস্তাব গ্রহণ করলেন। তারা ১৯৭৯ পার্লামেন্টে অংশ নিলেন। ৩৯টা সিট পেলেন। জিয়ার সরকারকে বৈধতা দিলেন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে যে অফিস, এটা জিয়ারই অবদান।৭৯ সালের সেই পারলামেন্টেই ৮১ সালে জিয়া শহিদ হওয়ার পর আনীত শোক প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আওয়ামী লীগের সদস্যরা বক্তব্য দিয়েছিলেন।

আসল গল্প : প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগের অফিস স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে অন্তত আটবার। পুরান ঢাকার কে এম দাশ লেনের রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আত্মপ্রকাশ করে আওয়ামী লীগ। শুরুর দিকে শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বাসায় বসে দল পরিচালনার নীতি-কর্মসূচি গ্রহণ করা হতো, কোনো অফিস ছিলো না। ১৯৫৩ সালে কানকুন বাড়ি লেইনে অস্থায়ী একটি অফিস ব্যবহার করা হত। ১৯৫৬ সালে পুরান ঢাকার ৫৬, সিমসন রোডের ঠিকানায় যায় আওয়ামী লীগের অফিস। ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৯১, নবাবপুর রোডে দলীয় অফিস নেন। এর কিছু দিন পর অস্থায়ীভাবে সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলের গলিতে বসা শুরু করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। পরে পুরানা পল্টনে দুটি স্থানে দীর্ঘদিন দলের অফিস ছিল।

৭৯ সালে জিয়া যখন রাজনীতি প্রকাশ্য করার ঘোষণা দেন, তখন আমেনা বেগম-মালেক উকিলদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগও দল হিসেবে নিবন্ধন করে, পুরানা পল্টনের ঠিকানা দিয়ে। এটা কষ্ট করে নির্বাচন কমিশনের কাগজপত্র ঘাটলেই পাওয়া যাবে। এখানে জিয়ার দয়া কিংবা মায়ার কোনো ব্যাপার ছিলো না। সব দলই আবেদনের সময় ঠিকানা দিয়েছে অফিসের। শেখ হাসিনা ফেরার পর তাকে ৩২ নম্বরেই ঢুকতে দেয়নি জিয়া সরকার। সম্পত্তি বুঝে নিতে দেয়নি। জিয়া মরার পর ৭ জুন সে অধিকার ফিরে পান তিনি। আর দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের কার্যালয় নতুন জায়গায় নেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা হয় ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ। আর সেখানেই স্থায়ী ভবনে নির্মিত আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়, যা ৯৯ বছরের লিজ নেওয়া। তো ফালতু গল্প বানাইলে তো হবে না। বাকি রইলো জিয়ার মৃত্যুর পর সংসদে শোক প্রস্তাব। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে শিষ্ঠাচারের বাইরে কখনো যায়নি আওয়ামী লীগ। সভানেত্রী শেখ হাসিনাও জিয়ার মৃত্যুর পর উল্লাস জানিয়ে কোনো বার্তা দেননি। শোক বার্তাই দিয়েছেন। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত