প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নুরী জাহানারা: হেফাজতের ১৩ দফা আপনাদের কাছে অসাম্প্রদায়িক মনে হচ্ছে?

নুরী জাহানারা: শফীর লাশকে বাম্বু দিয়ে শাহবাগে শুটকি দেওয়া উচিত! তার মৃত্যু যেভাবে হয়েছে, তার রাজনীতি থেকে প্রস্থান যেভাবে হয়েছে, তা থেকে সন্দেহ করি, শরিয়াহ্ রাজনীতির বিষয়ে বাবুনগরী ও জামায়াত গং নতুন কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। লোকটি বেঁচে থেকে দেশকে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন করেছে। তার পটল তোলার পরও দেশের মাটি খুঁড়ে চলা গণহত্যাকারীরা অনুসারীরা তাদের ক্ষমতার লক্ষ্যে পৌঁছতে আরেক রাস্তা অবলম্বন করবে। শফীর জাতপাত, ধর্ম বিষয়ক সাম্প্রদায়িকতা, ব্লগার হত্যার পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের জন্য নিরলস কাজ করে যাওয়া এবং ইসলামিক ফিলোসফিকাল নাজিজম না হয় বাদই দিলাম, এক রাজাকার চরমপন্থী ইসলামী নেতা দেশের খেটে খাওয়া নারীদের হাজার হাজার মানুষের সামনে সেক্স ওয়ার্কার উপাধী দিতে দ্বিধা করেনি। নারী মাত্রই তার কাছে এমন জিনিস যা দেখলেই মুখে লালা ঝরে। সেই মানুষটিই নাকি অসম্প্রদায়িকতার বাতিঘর। সাব্বাশ। এই না হলে গণমাধ্যম। বাংলাদেশ প্রতিদিন, এখন আপনাদেরই দিন। নারীর বিরুদ্ধে শফী ও তার নেতৃত্বে চালিত হেফাজতের ১৩ দফা আপনাদের কাছে অসাম্প্রদায়িক মনে হচ্ছে তাই না? ওদিকে চুটিয়ে তসলিমা নাসরিনের পোস্ট পেলেই লুুফে নিয়ে ছাপাচ্ছেন দেদারসে। শ্লার ন্যাংটো হয়ে যাবে বাবা, ন্যাংটোই থাকোÑ মাঝে মধ্যে আবার কাপড় পরা কেন?

দেশের জনগণের মধ্যে নারী ৪৯ শতাংশ, শতকরা ৩ শতাংশ অন্য ধর্মসম্প্রদায়, শতকরা ১ ভাগেরও কম শরিয়াহমুখী পাবলিক, লিবারেল অর্থনীতি চায় কিন্তু ধর্মে মুসলমান এমন চিন্তার মানুষ, যারা গণতন্ত্রকে রাজনীতির পথ হিসেবে মেনে নেন, তারাও ধরুন বাকি যারা আছে তাদের সিংহভাগ, মানে ছোট একটিদল রেখে দিলাম যারা বামপন্থা চাইবে। তো এই হিসেবে শরিয়া দাবি করা জামায়াত ও হেফাজতের অনুসারীদের জায়গা কতোখানি? কতো অংশের জন্য শফী অসাম্প্রদায়িক। দেশকে তাহলে এই তথাকথিত চরম ইসলামের পথে টেনে নিয়ে যাচ্ছে কারা? শফীরা, না রাষ্ট্রের সম্পদ লুটেরা? দেশে যা কিছু অপকর্ম ঘটে, তার পেছনে তিনটে চারটে গোষ্ঠী থাকে, অযোগ্য, অকর্মন্য রাজনৈতিক নেতা, চৌর্যবৃত্তিধারী আমলা, চতুরে বেণিয়া ও আত্মাবিক্রীত গণমাধ্যম ও তার সাংবাদিক। দেশ ও সমাজকে আজ এই ভঙুর অবস্থায় আনার পেছনে এদের সুচিন্তিত পরিকল্পিত আঁতাত রয়েছে। উত্তর বঙ্গে যখন বামপন্থীদের সাথে কথোপকথনের রাস্তায় না গিয়ে স্রেফ টেররিস্ট হিসেবে কচুকাটা করা হয়েছিলো তখন আমাদের গণমাধ্যম তাদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী হিসেবেই পাবলিকের কাছে তুলে ধরেছিলো। উত্তরবঙ্গে কী মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির প্রজেক্ট সফল হয়েছিলো? দেশের মানুষকে তা কি মুনাফা দিয়েছিলো?

এই গণমাধ্যমেই ধুমসে ব্লগার হত্যার নিউজ বিক্রি হতো এবং ওই একই পত্রিকা খবরের চেয়ে বড় করে জামায়াতের প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ছাপাতো, টেলিভিশন চ্যানেলগুলো, সেই খবরের মাঝখানেই জামায়াতি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রদান করতো। মানে ওই খবরের জন্যই তারা জামায়াতের অর্থ নিয়েছে। এথিক্যাল পতনে ও আত্মা বিক্রির বৃত্তিতে এদের ছাড়াতে পেরেছে আর কেউ? দেশের পুলিশদের বেতন দেওয়া হয় পাবলিকের টাকায়। এক নারীবিদ্বেষী, হত্যার উসকানি দাতা, দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বিরোধিতাকারী রাজাকারের লাশ পাহারা দিতে পাবলিকের টাকায় পোষা পুলিশকে পাঠায় সরকার। সরকারের কি জাস্টিফিকেশন আছে? ঈষৎ সংক্ষেপিত। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত