প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাসুদ রানা: আরও একটি নির্বোধ উচ্চারণ, ‘করপোরেট সংস্কৃতি’

মাসুদ রানা: বাংলাদেশের অনেক লেখক ও বক্তাকে ‘কর্পোরেট সংস্কৃতি’ বলে একটি এ্যাংলোবাংলা কথা ব্যবহার করতে দেখা যায়। নেতা থেকে শুরু করে কবি পর্যন্ত প্রায় সবাই ‘কর্পোরেট সংস্কৃতি’ নিয়ে কথা বলেন। এক ব্যক্তি মিডিয়ার জগতে তার মেধার মূল্য দেওয়া হচ্ছে না বলে আক্ষেপ করে একটি লেখা লিখেছেন, যেখানে তিনি মূল্যপ্রাপ্তদের ‘গাধা’, ‘ছাগল’ ইত্যাদি বিশেষ্য দিয়ে বিশেষায়িত করেছেন। আর এ-দুরবস্থার জন্য তিনি দায়ী করেছেন ‘কর্পোরেট সংস্কৃতি’কে।

সন্দেহ নেই, ‘কর্পোরেট সংস্কৃতি’ বলতে এর ব্যবহারকারীগণ ‘কর্পোরেট কালচার’ বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই কর্পোরেট সংস্কৃতি বা কর্পোরেট কালচার বলতে কী বোঝায়, অর্থাৎ এর অর্থ কী, তা কি তারা জানেন? আমার ধারণা, ‘কর্পোরেট সংস্কৃতি’ হচ্ছে ‘সিভিল সোসাইটি’ বা ‘সুশীল সমাজ’-এর মতোই বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে আকর্ষণীয় শব্দজোট, যার অর্থ অনেকের কাছেই অস্পষ্ট ও ভ্রান্তবোধিত। আর এটিও একটি সাংস্কৃতিক ফেনোমেনন বটে।

না-বুঝে শব্দের ব্যবহার আমাদের জাতির লোকদের একটি সাংস্কৃতিক প্রবণতা। নতুন ও চমকপ্রদ শব্দ দেখে বা শুনে না বুঝেই এর যথেচ্ছ ব্যবহার করার একটি হুজুগ আমাদের প্রায় মজ্জাগত। তাই আজকাল প্রায় কাউকেই আর ‘বিনম্র শ্রদ্ধা’ ছাড়া শ্রদ্ধাই প্রকাশ করতে দেখা যায় না। ১৯/০৯/২০২০। লণ্ডন, ইংল্যান্ড। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত