প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানিতে এলসি মার্জিন হার ন্যূনতম রাখার নির্দেশ

সোহেল রহমান : [২] অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক ও মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে পেঁয়াজ আমদানিতে এলসি (ঋণপত্র) খোলার ক্ষেত্রে মার্জিন বা নগদ জমার হার ‘ন্যূনতম পর্যায়ে’ রাখার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

[৩] বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলার জারির পর পরই তা সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত: ইতোপূর্বে (২ মার্চ) জারি করা এক সার্কুলারে পেঁয়াজসহ কয়েকটি নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এলসি মার্জিনের হার ন্যূনতম রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সেটি গত ৩০ মে পর্যন্ত বলবৎ ছিল।

[৪] নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক বাজারে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারেও পেঁয়াজের মূল্যে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে পেঁয়াজ আমদানি ঋণপত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে মার্জিনের হার ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার জন্য ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেয়া হলো।

[৫] সার্কুলারে আরও বলা হয়, পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে নতুন নির্দেশনা ‘অবিলম্বে’ কার্যকর হবে এবং এটি আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
ব্যাংক সূত্রগুলো মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, পেঁয়াজ আমদানিতে এলসি মার্জিন হার বা সার্ভিস চার্জ বা সুদের হার ৯ শতাংশের বেশি রাখা যাবে না।
আমদানিকারকরা যখন বিদেশ থেকে কোনো পণ্য আমদানি করতে চান, তখন তার পক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক পণ্যমূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে ‘লেটার অব ক্রেডিট’ (এলসি) ইস্যু করে। আর এলসি খোলার সময় আমদানি মূল্যের সম্পূর্ণ বা একটি অংশ নগদ অর্থে ‘মার্জিন’ হিসেবে জমা রাখে ব্যাংক। পণ্য খালাসের সময় আমদানিকারক অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে অথবা ব্যাংকের ঋণের মাধ্যমে পণ্য খালাস করে। এছাড়া এলসি খোলার জন্য আমদানিকারকের কাছ থেকে কমিশন বা সার্ভিস চার্জও নেয় ব্যাংকগুলো।

[৬] প্রসঙ্গত: সম্প্রতি ভারত আকস্মিকভাবে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর গতবছরের মত দেশে পেঁয়াজের দাম লাগামহীনভাবে বাড়তে শুরু করেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম রাতারাতি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আর দাম আরও বেশি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মানুষও প্রয়োজনের অতিরিক্ত পেঁয়াজ কিনতে শুরু করেছে।

[৭] পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যেই টিসিবি’র মাধ্যমে খোলা বাজারে ন্যায্য মূল্যে (প্রতি কেজি ৩০ টাকা) পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে গতবারের মতো বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পেঁয়াজ আমদানিতে আরোপিত ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারেরও সুপারিশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। প্রস্তাবটি বিবেচনা করা হবে বলে বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আশ্বস্ত করেছেন।

[৮] এদিকে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি জানান, আগামী মার্চ পর্যন্ত খোলা বাজারে ন্যায্য মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করবে টিসিবি। গত বছরের চেয়ে এবার দেশে প্রায় ১ লাখ টন পেঁয়াজ বেশি উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমানে দেশে পেঁয়াজের মজুদ আছে প্রায় ৬ লাখ টন। আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে দেশে ১০ লাখ টন পেঁয়াজ লাগবে। তাতে ঘাটতি থাকবে চার লাখ টনের মত।

[৯] বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এক মাস সময় পেলে তুরস্ক, মিয়ানমার, চায়না থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা যাবে। এক মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। একই সঙ্গে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পেঁয়াজ না- কেনারও আহবান জানান তিনি।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত