প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] খননকৃত নদীতে পানি প্রবাহ নেই, তদারকির অভাবে বনায়ন কেটে সাবাড়

এইচ এম শাহনেওয়াজ: [২] পুণঃখনন করার ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নদীতে এখনো পানির প্রবাহ শুরু হয়নি। এছাড়া তদারকির অভাবে নদীর দু’পাশের পাড়িতে রোপনকৃত বনায়ন কেটে জমি দখল করছে এক শ্রেণির প্রভাবশালীরা। তবে সংশ্লিষ্ঠরা বলছেন একটি মাত্র কালভাট না থাকা এই নদীর পানি প্রবাহ বন্ধের মূল কারণ। যার কারণে পুনরায় মরতে বসেছে প্রায় সাড়ে চার কোটি ব্যয়ে খননকৃত নারোদ নদী। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, নদীটি পুনঃখনন করায় এই এলাকায় বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি নিস্কাশন ও খরা মৌসুমে আবাদি জমি গুলোতে সেচ সুবিধার আশা করলেও তা ব্যাহত হচ্ছে।

[৩] বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন অফিস সূত্রে জানাগেছে, গত ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে বরেন্দ্র এলাকায় খাল ও নদীর পানি সংরক্ষন ও সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় দখল এবং ভরাট হয়ে যাওয়া নারোদ নদীটি পুণঃখননের উদ্যোগ নেয়া হয়। নারোদ নদী চারঘাট উপজেলার মুক্তারপুর বালুঘাট এলাকার পদ্মা নদী থেকে পুঠিয়া উপজেলার মধ্যে দিয়ে মুসাখাঁ নদী পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য। আর তা পুণঃখনন ও নদীর দু’পাড়ে বনায়ন কাজে বরাদ্দ ছিল চার কোটি ৩২ লাখ টাকা।

[৪] অবৈধ দখল মুক্ত ও বিলিন হয়ে যাওয়া নদীটি পুণঃখনন করে পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকলে খরা মৌসুমে এ অঞ্চলের এক হাজার ৬শ’ ৫০ হেক্টোর কৃষি জমি সেচের আওতায় আসতো। এছাড়া নিন্মাঞ্চলের জমি গুলোতে বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘদিন জমে থাকা অতিরিক্ত পানি নিস্কাশনে সহায়ক মাধ্যম তৈরি হত। তবে খননকৃত নদী থেকে পানি তুলে সেচ কাজে ব্যবহারে জন্য ইতিমধ্যে নারোদের ১৩ টি স্থানে সোলার প্যানেল ভিত্তিক অগভীর নলকুপ (ডিপ) স্থাপন করা হয়েছে।

[৫] কিন্তু চারঘাট-সারদা ট্রাফিক মোড়ের নিকট একটি কালভাট সংস্কার ও সম্প্রসারন করতে না পারায় পদ্ম নদী থেকে পানির প্রবাহ প্রায় বন্ধ রয়েছে। এছাড়া নদীর কয়েকটি স্থানে সড়ক পথ থাকলেও সেখানে কালভাট নেই। যার কারণে নদীর ওই স্থান গুলোতেও পানির শ্রোতধারা বন্ধ রয়েছে। ফলে পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় খননকৃত নদীর দুই পাড় ধসে তলদেশ আবারো ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

[৬] বালদিয়াড় এলাকার আরিফুল ইসলাম বলেন, নদীটি দখলমুক্ত করে পুণঃখনন করার প্রায় ৫ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু বিগত দিনে নদী ভরাট করে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা তৈরি করা রয়েছে। অথচ ওই রাস্তা গুলোর নিচে কালভাট না থাকায় বিলের পানি নদীতে নামলেও তা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এরমধ্যে খননকৃত নদীর কয়েকটি স্থানে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দখল করে মাছ চাষ শুরু করেছেন। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে নদীর দু’পাড়ে রোপনকৃত বিভিন্ন প্রকার গাছপালা কেটে সাবাড় করা হচ্ছে।

[৬] এ ব্যপারে বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পুঠিয়া অঞ্চলিক কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, নারোদ নদী দখলমুক্ত করে প্রায় ৫ বছর আগে পুণঃখনন করা হয়েছে। নদীর উপরে থাকা কয়েকটি রাস্তার নিচে পাইপের মাধ্যমে পানি যাতায়াতের ব্যবস্থা করা আছে। এছাড়া খরা মৌসুমে পদ্মা থেকে ডিপ মেশিনের মাধ্যমে নারোদ নদীতে পানি দেয়ার দাবি করেন তিনি। আর নদীর দু’পাড়ে রোপনকৃত বনায়ন কেটে সাবাড় হয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাছপালা কেটে ফেলা হচ্ছে এমন অভিযোগ এখনো পাইনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সম্পাদনা: সাদেক আলী

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত