প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] খিচুড়ি রান্না শিখতে দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণের ১৫ কোটি টাকার বরাদ্দ হচ্ছে

সাইদ রিপন : [২] বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিউজ হওয়ার পর আলোচিত খিচুড়ি রান্না শিখতে প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে কঠোর হচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন। পত্রিকায় নিউজ হওয়ার পর বিষয়টি আমলে নিয়ে দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণের খাতটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বাদ দিতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্পের আওতায় ডিম-খিচুড়ি, সবজিসহ অন্যান্য খাবার রান্না ও প্রসেসিং শিখতে প্রাথমিকভাবে বিদেশ যাত্রার জন্য ৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দেশে প্রশিক্ষণের জন্য আরও ১০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।

[৩] গত সোমবার প্রকল্পটি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা করেছে। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) আবুল কালাম আজাদ পিইসি সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় মূলত এই প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে। প্রকল্পটি ৫০৯টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। ফলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) একজন করে প্রশিক্ষণ দিলেও ৫০৯ জন হবে। এজন্য এই দেশে প্রশিক্ষণ খাত বাদ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে করোনার কারণে বিদেশ ভ্রমণ খাত বাদ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে করোনার কারণে ১ হাজার জনের প্রশিক্ষণও বাতিল করা হয়েছে স্বাস্থ্যবিধির কথা মাথার রেখে। এক হাজার সরকারি কর্মকর্তাকে খিচুড়ি রান্না শিখতে বা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব করেছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই)। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় এসব কর্মকর্তারা বিদেশ সফর করার কথা ছিল। বিদ্যালয়মুখী করার জন্য প্রাইমারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় এসব বাতিল করা হয়েছে।

[৪] বর্তমানে ৩৩ লাখের মতো শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। বিভিন্ন কারণে তারা স্কুলে যাচ্ছে না। খাবার বিতরণের ফলে শিশুরা স্কুলে যাবে এবং তাদের পুষ্টিগত সমস্যা নিরসন হবে বলে দাবি ডিপিইর। ১৯ হাজার ২৮২ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ের এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থীকে খাদ্য সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় সপ্তাহে তিনদিন শিক্ষার্থীদের দুপুরে খিচুড়ি-ডিম ও সবজি দেয়া হবে। বাকি তিনদিন দেয়া হবে পুষ্টিকর বিস্কুট। প্রাইমারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচি ভারতে চালু রয়েছে। এজন্য ৫ থেকে ৬ জনের একটা টিম ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যাবেন এবং স্কুল ফিডিং কার্যক্রম শিখবেন। তবে করোনার কারণে এই খাতও বন্ধ করা হয়েছে।

[৫] পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ফরটিফাইড বিস্কুট এবং পুষ্টিকর রান্না করা এই দুই ধরনের খাবারের মডালিটিজ কার্যকর করা হবে। জাতীয় ও মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, প্রোগ্রাম পর্যালোচনা কর্মশালা, ওরিয়েন্টেশন ওয়ার্কশপ এবং ইস্যুভিত্তিক প্রযুক্তিগত সেমিনার, প্রকল্পভুক্ত প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় খাদ্য এবং বিস্কুট সংরক্ষণ, বিতরণ ও মনিটরিংয়ের জন্য বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) নিয়োগ করা হবে। যেসব স্কুলে রান্না ঘর তৈরি করবে এবং রান্নার সরঞ্জামাদি সামাজিকভাবে জোগাড় করবে সেখানেই কেবল রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হবে। এক্ষেত্রে কতগুলো স্কুল তা করতে পারবে সে ধরনের কোনো তথ্যও এখানে উল্লেখ নেই প্রকল্পে।

[৬] প্রকল্পের ডিপিপিতে দেখা গেছে, শিশুদের খাবার বিতরণ খরচ ১ হাজার ৭১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় কিছু কিছু আইটেম বাবদ ৭ কোটি ৫০ লাখ, আসবাব পত্র বাবদ ২ টাকা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় একটি জীপ ও ছয়টি মাইক্রোবাস ক্রয় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। পেট্রোল, ওয়েল ও লুব্রিকেন্ট বাবদ ৮০ লাখ টাকা, যানবাহন ও যাতায়াত বাবদ ২০ লাখ টাকা, বিশেষভাবে যানবাহন মেরামত বাবদ দেড় কোটি চাওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন নির্দেশ দিয়েছে ব্যয়ের প্রস্তাব করার যৌক্তিকতা সভাকে অবহিত করতে হবে। অন্যথায় এ ব্যয় পুনঃনির্ধারণ করতে হবে।

[৭] ডিপিপিতে আরও দেখা গেছে, খাদ্য কেনা বাবদ ১৭ হাজার ১৮৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, খাদ্য বিতরণ ফি বাবদ ১ হাজার ৭১৮ কোটি ৫৮ লাখ, প্রাইজ কন্টিনজেন্সি খাতে ১৯০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্লেট কেনা বাবদ ১১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। তবে কতটি প্লেট কেনা হবে তার সংখ্যা উল্লেখ করেনি ডিপিই। ডিপিপিতে কি তথ্যের ভিত্ত্বিতে এসকল খাতের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে তা বোধগম্য হচ্ছে পরিকল্পনা কমিশনের। এই বিষয়টির যৌক্তিকতাসহ বিস্তারিত বিবরণ জানতে চেয়েছে কমিশন।

[৮] এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের প্রধান স্বপন কুমার ঘোষক বলেন, কেউ আমাদের কাছে একটি আবদার করলেই হবে না। আমরা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুশাসনের বাইরে যেতে পারবো না। বর্তমানে করোনা সংকট চলছে কোন প্রকল্পেই বিদেশ ভ্রমণের খাত রাখা হচ্ছে না। তাহলেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় কর্মকর্তারা বিদেশ সফর খাত কেন রাখবো? এই জন্য ৫ কোটি টাকা বাতিল করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত