প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজিয়া সুলতানা জেনি: শুরু হয়ে গেছে ফিফথ জেনারেশান ওয়ারফেয়ার

রাজিয়া সুলতানা জেনি: যুদ্ধের জেনারেশান চেঞ্জ হচ্ছে। এই মুহূর্তে রয়েছে পঞ্চম জেনারেশানে। আর এখানে যুদ্ধ হবে ইনফরমেশান আর পারসেপশান তৈরির মাধ্যমে। ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলার আগে, পূর্বের ৪ জেনারেশান নিয়ে একটু কথা বলেনি। প্রথম জেনারেশনের যুদ্ধ ছিলো, সম্মুখ যুদ্ধ। মুখোমুখি দুই সেনাবাহিনী। তরোয়াল, ঢাল, বর্শা এমন সব অস্ত্র নিয়ে অশ্বারোহী কিংবা পদাতিক বাহিনী মুখোমুখি যুদ্ধ করতো। ব্যাপারটা কবে শুরু হয়েছিলো জানি না। তবে চলেছিলো অনেকদিন। শেষ হয়েছিলো আগ্নেয়াস্ত্র আবিষ্কার এবং ব্যবহার শুরুর পরে। প্রথম জেনারেশান যুদ্ধের নীতি ছিলো, সম্মুখ যুদ্ধ। যার সেনা বড় কিংবা শক্তিশালী কিংবা রণ নৈপুণ্য বেটার, বিজয় তাদের। যুদ্ধ হতো বড় এক ময়দানে, মুখোমুখি। এমন যুদ্ধের স্টাইল এক সময় থেমে যায়। কারণ রাইফেল আবিষ্কারের পরে যোদ্ধাদের আর বিপক্ষ দলের যোদ্ধার মুখোমুখি হওয়ার প্রয়োজন হতো না। বেশ অনেকটা দূর থেকেই আক্রমণ করতে পারতো।

প্রয়োজন হতো নিজেকে লুকিয়ে রাখার কিংবা কোনো প্রটেকশানের পেছনে থাকার। ফলে দ্বিতীয় জেনারেশানের যুদ্ধগুলো হতো শক্তিশালী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে। যতো উন্নত মানের অস্ত্র ততো শক্তিধর সেই সেনা। তৃতীয় জেনারেশানের যুদ্ধে আগ্রেয়াস্ত্রের সাথে যুক্ত হলো এয়ার পাওয়ার। এনিমিলাইনের পেছনে নিজের সেনাকে পৌঁছে দেওয়া। শত্রু সেনাকে সামনে পেছনে দুদিক থেকে আক্রমণ করা। সেনাদের এয়ার ক্রাফটে করে নিয়ে গিয়ে প্যারাট্রপিং করে নামিয়ে দেওয়া। এছাড়াও এয়ার পাওয়ার ইউজ করে শত্রু সেনার সম্মুখ ভাগকে ক্ষতিগ্রস্থ করা, আর সেই সুযোগে নিজের সেনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এমন যুদ্ধও চললো, বেশ অনেকদিন। এরপর এবার শুরু হলো নতুন পদ্ধতি। সেনা আর নিজেরা লড়াই করতো না। আদর্শে উজ্জীবিত একদল মানুষকে দায়িত্ব দিয়ে দিতো, যাও ওই দেশে গিয়ে তাণ্ডব শুরু কর। বিভিন্ন দেশে যে সব গেরিলা গ্রুপ অপারেট করে, এমন নন স্টেট অ্যাক্টররা হচ্ছে এই চতুর্থ জেনারেশান যুদ্ধের আসল সৈনিক। আক্রমণকারী দেশের কাজ হচ্ছে। এই নন স্টেট অ্যাক্টরদের সাহায্য করা। তারাই তখন অন্য দেশের হয়ে যুদ্ধ করে।

বিভিন্ন দেশে যে সব বিদ্রোহী বাহিনী তৈরি হয়েছে। এসব হচ্ছে চতুর্থ জেনারেশান যুদ্ধের সৈনিক। কোনো না কোনো দেশের হয়ে এরা ভাড়া খাটছে। বোধহয় এই জেনারেশান যুদ্ধের দিনও শেষ হয়ে আসছে। পরের জেনারেশানের যুদ্ধের মূল হাতিয়ার হবে ইনফরমেশান আর পারসেপশান। সোশ্যাল মিডিয়া এখানে হাতিয়ার। দুটো কাজ করছে এসব মিডিয়া। প্রথম কাজ হচ্ছে পারসেপশান তৈরি করা। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মাঝে পারসেপশান তৈরি করছে, তোমরা আসলে নিগৃহীত। অত্যাচারিত। জেগে উঠো। আর দ্বিতীয়টা হচ্ছে ইনফরমেশান। একজন মানুষ কী পছন্দ করছে, কেমন ভিডিও দেখছে, কেমন লেখালেখি পড়ছে। সব তথ্য সংগৃহীত হচ্ছে। একটি এলাকার মানুষের মানসিকতা বুঝে, তৈরি হচ্ছে স্ট্র্যাটেজি। কেমব্রিজ অ্যানালাইটিকা খুব ছোট্ট পরিসরে কাজটা করেছিলো। ভারতের দুই রাজনৈতিক দলের কাছে গিয়েছিলো, বিভিন্ন ইনডিভিজুয়াল নেটে কী কী দেখে তার ডিটেইল আমাদের কাছে আছে।

সে সব বুঝে তাদের কাছে ক্যাম্পেইন করতে পার। যে উগ্র তাকে উগ্র অ্যাড দিয়ে এক্সাইট করো। যে লিবারেল তাকে লিবারেল অ্যাড দিয়ে, যে ফেমিনিস্ট, তাকে ফেমিনিস্ট অ্যাড দিয়ে। এখন আর পুরো গ্রুপকে টার্গেট না করে, ইন্ডিভিজুয়ালকে টার্গেট করা হচ্ছে। ব্যাপারটা শুধু আভ্যন্তরীণ না, আন্তর্জাতিকও। সোশ্যাল মিডিয়ার কাছ থেকে ডাটা নিয়ে, এখন যে কেউ বুঝে যাবে, আপনার মনে কী চলছে। কী চান আপনি। তারা খুঁজে নেবে, কে তাদের পটেনশিয়াল টার্গেট। নিজ দেশের ওপর বিরক্ত। বুঝে যাবে কে তাদের হয়ে নিজ দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে রাজী হয়ে যাবে। বাকীটা সোজা। কোনো দেশকে ভিতর থেকে ভেঙে দিলে, বাইরের আক্রমণ আট কাবার শক্তি এমনিতেই আর থাকে না। ব্যাটল লস্ট। ব্যাপারটা এই মুহূর্তে রূপকথার মতো শোনালেও, শুরু হয়ে গেছে। আমার আপনার সব ডাটা কালেক্ট করা শুরু করে দিয়েছে, বিভিন্ন দেশ। তৈরি হয়ে গেছে প্রচুর ডাটা ফার্ম। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব হবে নতুন জেনারেশান যুদ্ধের হাতিয়ার। বুঝবেনই না, আপনি কখন সৈনিক হয়ে গেছেন। যুদ্ধে নেমে পড়েছেন। টিল দেন, এনজয় দ্যা শো। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত