প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্বকৃত নোমান: নারীবাদ মানে কোনো বিশেষ পোশাকের প্রতি ঘৃণা নয়

স্বকৃত নোমান: ঢাকা শহরে বিস্তর যৌনকর্মী রয়েছেন, যাঁরা লোকচক্ষু থেকে নিজেদের আড়াল করতে বোরকা পরে ফ্লাটে ফ্লাটে যান। তাই বলে আমি বলতে পারি না, ‘এই তুমি বোরকা পরে যৌনকর্মীর কাজ করো কেন?’ কোনো মাওলানা রমনা পার্কে এসে প্রেমিকাকে নিয়ে বসে থাকলে বা চুমু খেলে আমি বলতে পারি না, ‘এই তুমি মাওলানা মানুষ, এখানে কী করো?’ কোনো মাদ্রাসাপড়ুয়া ছাত্র পাঞ্জাবি-টুপি পরে সিনেমা হলে গেলে আমি বলতে পারি না, ‘এই তুমি মাদ্রাসায় পড়ো, সিনেমা দেখতে এসেছ কেন?’ এসব বিধি-নিষেধ চাপিয়ে দেয় মোল্লারা। হামেশা তারা মানুষকে চোখ রাঙায়, ভয় দেখায়। একজন আধুনিক, প্রগতিশীল মানুষ কখনো চোখ রাঙান না, ডিক্টেট করেন না, ভয় দেখান না। তিনি কখনো কাউকে বলেন না, ‘এই তুমি বোরখা পরে ক্রিকেট খেলতে এসেছ কেন? বোরখা পরে সুইমিংয়ে এসেছ কেন? বোরখা পরে পার্কে এসেছ কেন? বোরকা পরে বার-এ এসেছ কেন?’

নারীবাদ মানে কোনো বিশেষ পোশাকের প্রতি ঘৃণা নয়। বেগম রোকেয়া সুন্দর শাড়ি পরে, মাথায় ঘোমটা দিয়ে, মদ-সিগারেট না খেয়েও নারীবাদী ছিলেন। আবার জিন্সের প্যান্ট-শর্টস পরলে বা মদ-সিগারেট খেলে যে নারীবাদী হওয়া যাবে নাÑ এমন কোনো কথা নেই। নারীবাদ মানে চোখ রাঙানি নয়, হুকুম করা নয়, মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা নয়। নারীবাদ মানে নারীর ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তোলা। এই শক্তিকে জাগিয়ে তোলা গেলে নারী এমনিতেই বোরকা ফেলে দেবে। ‘অবরোধবাসিনী’ থেকে ‘মুক্তবাসিনী’ হয়ে উঠবে।

মোল্লারা যেভাবে বোরকাহীন নারীর শরীর নিয়ে অশ্লীল কথাবার্তা বলে, কোনো নারীবাদী যদি বোরকাপরা কোনো নারীর শরীর নিয়ে একই রকমের অশ্লীল মন্তব্য করেÑদুজনের মধ্যে কোনো ফারাক নেই। দুজনেই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। একজন প্রগতিশীল মানুষের কাছে, একজন উদার মনের মানুষের কাছে, একজন নারীবাদীর কাছে পোশাক কোনো গুরুত্ব বহন করে না। নুড বিচে কেউ বস্ত্রহীন বসে থাকলে তার কিছু যায়-আসে না। কেউ শাড়ি, বোরকা, সালোয়ার-কামিজ, জিন্সের প্যান্ট বা শর্টস পরলে তার কিছু যায়-আসে না। সে পোশাক নয়, পোশাকের ভেতরের মানুষটিকে দেখে। মানুষটিই তার ভজন-সাধন।

কেউ শাড়ি পরলে আমার কী সমস্যা? কেউ বোরকা পরলে আমার কী সমস্যা? কেউ প্যান্ট-শর্টস পরলে আমার কী সমস্যা? পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো কোনো আদিবাসী নারী প্রায় বস্ত্রহীন থাকে, তাতে আমার কী সমস্যা? সমস্যা তখনই, যখন কেউ আমাকে শাড়ি পরতে বাধ্য করতে, বোরকা পরতে বাধ্য করে, প্যান্ট-শর্টস পরতে বাধ্য করে। কিংবা না পরতে হুকুম করে, চোখ রাঙায়, ভয় দেখায়। সেই বাধ্যকারী হোক কোনো ব্যক্তি বা কোনো সমাজ। তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই প্রগতিশীল, নারীবাদী, উদার মনের মানুষদের কাজ। একজন মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলে ক্রিকেট খেলছে, এটা প্রগতির লক্ষণ। একজন অবরোধবাসিনী মা স্টেডিয়ামে এসে সন্তানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলছেন, এটা সমাজ অগ্রগতির লক্ষণ। ফেসবুক থেকে

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত