প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জবিতে অর্ধ কোটি টাকার বৈদ্যুতিক যন্ত্র অকেজো থাকায় আর্থিক ক্ষতি

রকি আহমেদ: [২] জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের বিদ্যুৎ সাপ্লায়ের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র (পিএফআই) অকেজো হয়ে রয়েছে। যন্ত্রটি অকেজো থাকায় প্রত্যেক মাসে বিদ্যুৎ বিল বাবদ অতিরিক্ত ২০-৩০ হাজার টাকার চার্জ বিল প্রদান করতে হচ্ছে। এতে আর্থিক ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

[৩] পুরাণ ঢাকার রায় সাহেব বাজারে অবস্থিত বিদ্যুৎ এর নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস ডিপিডিসি সূত্রে জানা যায়, যেকোন বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান, কারখানা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদ্যুতের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র পিএফআই (পাওয়্যার ফ্যাক্টর ইম্প্রুভমেন্ট) না থাকলে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিলের সাথে ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে একটি চার্জ বিল ধার্য করা হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা কিছু দিন ভালো থাকতে আবার কিছু দিন অকেজো থাকতে দেখা যায়। যার কারণে ব্যবহারের উপর প্রতি মাসে এ চার্জ বিল ধার্য হচ্ছে। এসময় ডিপিডিসি অফিস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার সাহা দেখাশোনা করেন বলে তার সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

[৪] এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপন সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর ধরে যন্ত্রটি অকেজো রয়েছে। এর আগে এটি ঠিক করার জন্য নিজের পরিচিত ব্যক্তিকে টেন্ডার পাইয়ে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী (ইলেক্ট্রিক্যাল) অপূর্ব কুমার সাহা। কিন্তু কয়েক লাখ টাকার সেই কাজ অপূর্ব নিজে করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। যন্ত্রটি ঠিক করার কয়েকদিন পরে তা আবার অকেজো হয়ে যায়। এদিকে এটা অকেজো থাকার কারণে ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে প্রতি মাসে অতিরিক্ত চার্জ বিল দিতে হচ্ছে।

[৫] পিএফআই অকেজো থাকার বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার সাহার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ঠিক করার জন্য কয়েক বছর আগে দুইবার রিটেন্ডার করা হয়েছিল। কিন্তু টেন্ডার না হওয়াই কোন কাজ হয়নি। টেন্ডার হয়েছিল কিনা ফাইল দেখতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি আর কোন কথা বলতে চাই না।

[৬] এদিকে অকেজো থাকা বিদ্যুতের গুরুত্বপূর্ণ এ যন্ত্র সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মো. সেলিম খান বলেন, “আমি দায়িত্ব পালন করছি কয়েক মাস হলো। আমি এ বিষয়ে জানি না। আমার আগের প্রধান প্রকৌশলী সুকুমার চন্দ্র সাহা ও ইলেক্ট্রিক্যাল প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার জানতে পারে। তবে এটা অকেজো আছে কিনা আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।”

[৭] অন্যদিকে যন্ত্রটি অকেজো থাকায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্টার প্রকৌশলী মোঃ ওহিদুজ্জামান বলেন, “আমি এবিষয়ে জানি না। আপনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এটা অকেজো আছে কিনা দেখে আমি চিফ ইন্জিনিয়ার ও ভিসি স্যারের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিব।”

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত