প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘ফান্ডের নথি আইছে মাল লইয়া আসেন’

ডেস্ক রিপোর্ট : ‘ফান্ডের নথি আইছে, মাল লইয়া আসেন। তাড়াতাড়ি আসবেন, নথি কিন্তু আইটক্যা যাইবো’- সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) ঠিকাদারদের কাছে এভাবেই হুমকিস্বরূপ ফোন করেন উচ্চমান সহকারী মোল্লা মো. হাফিজুর রহমান। সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে যিনি সিএএবির সদস্য অর্থের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। বিমানবন্দরের উন্নয়নমূলক কাজের বাজেট বা প্রশাসনিক আর্থিক অনুমোদন বা ফান্ডের নথি অনুমোদনের ফাইল দপ্তরে জমা পড়তেই তার ফোন যায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কাছে। নিরুপায় হয়ে ব্যবসায়ীরাও পূরণ করেন সেই অন্যায় আবদার।

অবশেষে মো. হাফিজুর রহমানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছেন ঠিকাদাররা। তার সীমাহীন ঘুষবাণিজ্যের বিরুদ্ধে সিএএবি চেয়ারম্যান ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। গত ২০ আগস্ট দায়ের করা ওই অভিযোগের বিষয়ে সম্প্রতি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিএএবি। অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ প্রসঙ্গে গত ২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির

প্রশাসনিক শাখা থেকে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়- সিএএবির সদস্য অর্থের ব্যক্তিগত সহকারী মো. হাফিজুর রহমানের (উচ্চমান সহকারী) বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগপত্র পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে অভিযোগ তদন্তে উপপরিচালক (রাডার অ্যান্ড নেভ এইড) মো. আব্দুন নাসিরকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাকে বর্ণিত অভিযোগগুলো তদন্তপূর্বক সুস্পষ্ট মতামতসহ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় ওই চিঠিতে। এ প্রসঙ্গে মো. আব্দুন নাসির বলেন, ‘ঠিকাদারদের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তাদের অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

সিএএবি প্রধানের দপ্তরে দাখিল করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়- বিমানবন্দরের উন্নয়নমূলক কাজের বাজেট বা প্রশাসনিক আর্থিক অনুমোদন বা ফান্ডের নথি অনুমোদনের জন্য সদস্য অর্থের দপ্তরে যাওয়ার আগে তার পিএর (উচ্চমান সহকারী হাফিজুর রহমান) কাছে আসে। নথি আসার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ফোন করে হাফিজুর রহমান বলেন- ‘ফান্ডের নথি আইছে, মাল লইয়া আসেন। তাড়াতাড়ি আসবেন, নথি কিন্তু আইটক্যা যাইবে।’ বছরের পর বছর ধরে আমাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে তিনি এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এত দিন প্রতিবাদ করিনি কারণ তিনি যদি সত্যিই ফান্ডের নথি আটকে দেন এই আশঙ্কায়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি চাকরির পাশাপাশি টেন্ডারবাজি করেন উচ্চমান সহকারী হাফিজুর রহমান। বিভিন্ন নামে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বা ওই প্রতিষ্ঠানের প্যাডে তিনি বিভিন্ন টেন্ডারে অংশ নেন। এমনকি তিনি যে টেন্ডারে অংশ নেন সেই কাজ থেকে আমাদের অংশগ্রহণ করতে নিষেধ করেন। আর অংশগ্রহণ করলে কাজের ফান্ডের নথি আটকে দেওয়ার হুমকি দেন। তাই এ বিষয়ে এত দিন আমরা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছিলাম না। তবে অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে সিএএবির উচ্চমান সহকারী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঠিকাদারদের অভিযোগের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে আমি লিখিত বক্তব্য পেশ করেছি। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে যা শাস্তি হয় মাথা পেতে নেব।’বিডি নিউজ, যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত