প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাবনা ৪ আসনের আ. লীগের নির্বাচনী সভায় সংঘর্ষ, আহত ২৫

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা-৪ আসনের উপ-নির্বাচনের দলীয় প্রতিনিধি সভায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনার পর উপজেলা ও পৌর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানার ওসি শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, ধাক্কাধাক্কির ঘটনা থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের শুরু।

“দফায় দফায় দু’গ্রুপের সংঘর্ষে দুইজন ছুরিকাহতসহ ২৫ জন আহত হয়েছে। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা করেনি জানিয়ে ওসি বলেন, “আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি।

আহতের মধ্যে পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক মালিথা রয়েছেন। গুরুতর আহত দুইজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গত ২ এপ্রিল সাংসদ শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মৃত্যুতে পাবনা-৪ আসন শূন্য হয়। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে তা সম্ভব হয়নি। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর এ আসনে উপনির্বাচন হতে যাচ্ছে।

সংঘর্ষের পর উদ্ভুত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল সাংবাদিকদের জানান, ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে কিছু বিষয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। তার জেরেই এই অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

“আমরা ইতিমধ্যেই ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত করেছি।” সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দলীয় ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস তেন তিনি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপনির্বাচন উপলক্ষে ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী প্রতিনিধি সভায় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামালসহ অতিথিদের বরণ করতে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন ঈশ্বরদীর নেতারা। এ সময় সামনে দাঁড়ানো নিয়ে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক মালিথার কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়। এক পর্যায়ে উভয় নেতার সমর্থকরা লাঠি-সোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এ হামলার ঘটনায় বিবাদমান দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন, জামাত-শিবির অনুসারীরা আসন্ন নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে একের পর এক অপতৎপরতা চালাচ্ছে। অপ্রীতিকর ঘটনার পেছনে তারাই দায়ী বলে দাবি মিন্টুর।
আহত সাধারণ সম্পাদক ইসহাক মালিথা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আবুল কালাম আজাদ মিন্টু নোংরামি করে আসছে। মাঝে মধ্যেই দলীয় কার্যালয়ের একক দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

“আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সামনেই পরিকল্পিতভাবে পৌর মেয়র এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। ঘটনাগুলো স্বচক্ষেই কেন্দ্রীয় নেতারা দেখেছেন। নিশ্চয়ই তারা এ বিষয়ে তদন্ত করবেন।

পৌর মেয়রের শাস্তি দাবি করে তিনি আরো বলেন, “যদি আমি ঘটনার দায়ী হই তাহলে আমার যে শাস্তি দেবেন তা আমি মাথা পেতে নেব।”

এ সংঘর্ষের ঘটনায় ঈশ্বরদী শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সর্বাধিক পঠিত