প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চট্টগ্রাম মহানগরীতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফের চলছে ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা

জুয়েল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : [২] যদিও এসব ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এরপরও এখন আগের নিয়মেই প্রকাশ্যে ট্রাফিক পুলিশের চোখের সামনে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কয়েক হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা। অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে নগরবাসী। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনাও।

[৩] নগরবাসীর ভাষ্য, নগরীতে প্রচুর নিবন্ধনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। এর আধিক্য সবচেয়ে বেশি নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের কমবেশি সব পড়া-মহল্লাতেই। এর বাইরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও এসব যান চলতে দেখা যায়। অথচ অবৈধ রিকশা উচ্ছেদে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ কিংবা ট্রাফিক পুলিশ এখন কোনো ভূমিকাই নিচ্ছেন না।

[৪] সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা চকবাজার, বহদ্দারহাট, নতুন ব্রীজ থেকে কোতোয়ালী-কালামিয়া বাজার, বহদ্দারহাট, অক্সিজেন এলাকা, দুই নম্বর গেইট, আন্দরকিল্লা থেকে চকবাজার, নিউজ মার্কেট এলাকা, আগ্রাবাদ, সিইপিজেড এলাকা, আগ্রাবাদ কাস্টমস এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবাধে ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা চলতে শুরু করেছে।

[৫] অথচ সিএমপির ঘোষণায় ছিল সিএমপির ১৬ থানা এলাকায় যদি একটি রিকশাও দেখা যায় তাহলে ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সরাসরি জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে শুধু রিকশা জব্দ নয়, যেসব গ্যারেজে এসব রিকশা রাখা হয় ও ব্যাটারির চার্জ দেওয়া হয় সেসব গ্যারেজ মালিককেও আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোমর বেঁধে মাঠে নেমেও ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

[৬] জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) তালিকাভুক্ত বৈধ রিকশার সংখ্যা মাত্র নয় হাজার ১২৪টি। আবার চসিকে নিবন্ধিত নয়—নগরীতে এমন ৩০ হাজার রিকশা চলাচলের তথ্য দিয়েছে চসিক ও ট্রাফিক পুলিশ। এসব রিকশামালিক চালক সমিতির মাধ্যমে স্থানীয় থানা পুলিশ ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ‘ম্যানেজ’ করে আবার নগরীর রাস্তায় চলতে শুরু করেছে এসব রিক্সা।

[৭] ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা চলাচল বন্ধ করা কেন সম্ভব হচ্ছেনা প্রশ্নে চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর জোনের ট্রাফিক ইন্সেপেক্টর (টিআই) মশিউর রহমান বলেন, এসব ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। প্রতিদিন জব্দ করা হচ্ছে এসব রিকশা। পাশাপাশি এদের জরিমানাও করা হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

[৮] উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম মহানগরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ করার জন্য দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত