প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ঢাকার অশেপাশে হাজার হাজার অবৈধ সংযোগ ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে তিতাসের ক্রাশ অভিযান

শাহীন চৌধুরী: [২] রাজধানী ঢাকার আশেপাশে হাজার হাজার অবৈধ সংযোগ নিয়ে বিপাকে পড়েছে তিতাস। দফায় দফায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারির সহযোগিতায় আবার প্রতিষ্ঠিত করা হয় সংযোগ। কিন্তু নারায়নগঞ্জের মারাত্মক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির পর নড়েচড়ে বসেছে তিতাস। এ কারণে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে তিতাস শুরু করতে যাচ্ছে ক্রাশ অভিযান। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

[৩] সূত্রমতে, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা তিতাসের একটি চলমান প্রক্রিয়া। গত এক সপ্তায় সাভার, অশুলিয়া, গাজীপুর এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। নারায়নগঞ্জে গ্যাস দুর্ঘটনার পর ধরা পরে শুরু ওই জেলাতেই প্রায় ৫ হাজার অবৈধ সংযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নরসিংদী, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, সাভার, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ, মাণিকগঞ্জ মিলিয়ে এই অবৈধ সংযোগ ৫০ হাজারের কম নয়। আর অবৈধ সংযোগের কারণেই বাড়ছে দুর্ঘটনা।

[৪] এদিকে অবৈধ সংযোগের কারণে গত ২০১৪-২০১৫ অর্থবছর থেকে পরপর চার বছর ক্রমাগত কমতে থাকা সিস্টেম লস হঠাৎ করেই গত অর্থ বছরে এক লাফে পাঁচ গুণ বেড়ে গেছে। বিষয়টির গ্রহণযোগ্যাতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে কিছুদিন আগে প্রদত্ত এক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য হচ্ছে- ‘গ্রহণযোগ্য’ সিস্টেম লস হওয়া উচিৎ ছিল ২৩৮ কোটি টাকা। সেখানে দেখানো হয়েছে ৭৭০ কোটি টাকা।

[৫] দু বছর আগে আবাসিকে নতুন সংযোগ দেওয়া বন্ধের সময়ও গ্রাহক সংখ্যা এক লাফে ৩৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার তথ্য দিয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষ বলেছিল, ম্যানুয়াল পদ্ধতি থেকে ডাটাবেইজে হালনাগাদের কারণে এই সংখ্যা বেড়ে যায়। তখনও তিতাসের সেই যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম। নানা অভিযোগ পেয়ে তদন্ত চালিয়ে তিতাসে দুর্নীতি ও অনিয়মের ২২টি উৎস চিহ্নিত করার কথা কিছুদিন আগে জানায় দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

[৬] গত বছরের ২২ ডিসেম্বর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০১৮-১৯ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। এতে দেখানো হয়, পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সিস্টেম লস হয়েছে ২০১৮-১৯ বছরে। এবছর সিস্টেম লসে পড়েছে ১০০৩ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস, যা তিতাসের কেনা মোট গ্যাসের ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। এই গ্যাসের মূল্য ৭৬৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

[৭] সিস্টেম লস বেড়ে যাওয়ার ব্যাখ্যায় তিতাসের আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর বিইআরসির আদেশ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর হতে বিলড কনজাম্পশনের পরিবর্তে অ্যাকচুয়াল কনজাম্পশন বিবেচনা করা হয় এবং হাইয়ার হিটিং ভ্যালুর সমতুল্য গ্যাসের পরিমাণ গ্যাস বিক্রির হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করার ফলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গ্যাস বিক্রয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত গ্যাসের পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় সিস্টেম লস (অংশ বিশেষ) এর বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে।

[৮] জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকার দীর্ঘদিন আবাসিকে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখার কারণেই অবৈধ সংযোগ বেড়েছে। আর এ কারণে যেমন দুর্ঘটনা বেড়েছে তেমনই বেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির সিস্টেম লস। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য অবৈধ সংযোগের সাথে তিতাসের যেসব কর্মচারি জড়িত তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে।

[৯] এ প্রসঙ্গে তিতাসের ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মির্জা মাহবুব হোসেন আমাদের অর্থনীতিকে বলেন, বর্তমানে অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে আমাদের যে অভিযান চলছে তাতে শিগগিরই আমরা এই অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারব। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটির সিরেস্টম লসও কমে যাবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ক্যাবের উপদেষ্টা শামসুল বলেন, শুধু সিস্টেম লসই নয, তিতাস গ্রাহককে গ্যাস সরবরাহও কম করে। তাদের যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করার কথা, তারা তা করে না। চাপ কমসহ বিভিন্ন কারণে গ্রাহকরা তাদের মূল্য অনুযায়ী গ্যাস পান না। গ্যাসের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং গ্রাহকরা যেন না ঠকে, সেজন্য ২০১৫ সালে তিতাসকে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।

 

সর্বাধিক পঠিত