প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বাবার পায়ের দুর্গন্ধ সইতে না পেরে অসুস্থ বাবাকে হত্যা করলো পুত্র

আসাদুজ্জামান বাবুল: [২] পিতাকে হত্যার দ্বায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিলো পাষন্ড পুত্র। বিচারকের কাছে হাসিমুখে নৃশংস হত্যাকান্ডের বননা দিলো পাষন্ড খুনি পুত্র।

[৩] বললো, গ্যাংরিন রোগে আক্রান্ত বাবার পায়ের দুর্গন্ধের যন্ত্রনা সইতে না পেরে পরিকল্পিতভাবে খাবারের সঙ্গেঁ উচ্চসম্পন্ন ঘুমের ঔষধ খাইয়ে বাবা আব্দুস সালাম মাতব্বরকে হত্যা করেছি। সুধু তাই নয়, আর কেউ যাহাতে বাবাকে খুজে না পায় সে কারনে বাবার বস্তাবন্দি লাশের সঙ্গেঁ ইট ঝুলিয়ে ওই বস্তা কুমার নদীতে ডুবিয়ে দিয়েছি। কিন্ত “পাপ ছাড়েনা বাপরে” কথাটি বাস্তবে রুপ নিলো আমার ক্ষেত্রে।

[৪] গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মুহম্মদ সাইদুর রহমান খাঁন সাংবাদিকদের বলেছেন,গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে অজ্ঞাত পরিচয়ের একজন পুরুষের লাশ উদ্ধারের দুই দিনের মাথায় হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত নিহতর ছেলে আব্দুস সালাম মাতব্বরকে আমরা গ্রেফতার করে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছি। পিতা হত্যার দ্বায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিও দিয়েছে খুনি পুত্র।

[৫] ১৬৪ ধারায় আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে সে পরিস্কারভাবে বলেছে, তিন মাস ধরে গ্যাংরিন রোগে আক্রান্ত হয়ে ঘরে বসে থাকা নিহত আব্দুস সালাম ও তার ছেলে হুমায়ুন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে একই ছাদের নিচে বসবাস করতেন। তার কথিতমতে হত্যাকান্ডের আগে বাবার পায়ের পচা দুর্গন্ধের যন্ত্রনা সইতে না পেরে তার স্ত্রী. সন্তানদের সঙ্গেঁ নিয়ে বাপের বাড়ী চলে যায়।

[৬] নানান সময়ে বাবার বিভিন্ন ফরমায়েশ শুনতে শুনতে ছেলে হুমায়ুন অতিষ্ট হয়ে পড়ে। গত ৭ আগষ্ট ভোর রাতে বাবা আব্দুস সালাম মাতব্বরের রোগের ব্যাথা বাড়ে। পরে ঘরে থাকা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাথানাশক অ্যালোপ্যাথিক ও হোমিও প্যাথিক ঔষধ অতিরিক্ত মাত্রায় খাইয়ে বাবার পায়ের ব্যাথা কমিয়ে আনে ছেলে হুমায়ুন। কিছুক্ষনের মধ্যে বাবা আব্দুস সালাম মাতব্বর চিরদিনের জন্য ঘুমিয়ে পড়ে।

[৭] নিশ্চিত বাবার মৃত্যু হয়েছে এমনটা ভেবেই ছেলে হুমায়ুন বাবার লাশ একটি বস্তার ভেতরে ভরে এবং বস্তার সঙ্গেঁ বেশ কয়েকটি ইট বেধে লাশ কাঁদে করে পাশের কুমার নদীয়ে ডুবিয়ে দেয়। গত ২ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে মুকসুদপুর উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের ভাজন্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের পাশে কুমার নদীতে কচুরীপানার ভেতরে বস্তাবন্দি নিহতর লাশের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে পুলিশ নিহতর লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করে।

[৮] গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর সিন্দিয়াঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আব্দুস সালামের মুকসুদপুর থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলা এর বরাত দিয়ে মামলার তদন্তকারী কমকর্তা ও পুলিশ ইন্সেপেক্টর মো, বাশার আমাদের এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, গোপালগঞ্জের জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র বিচারক মো, শরিফুর রহমানের কাছে পিতা হত্যাকান্ডের দ্বায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে নিহতর ছেলে হুমায়ুন মাতুব্বর। সম্পাদনা: সাদেক আলী

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত