প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গোয়ালন্দে আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় পুলিশী তল্লাশীর প্রতিবাদ

কামাল হোসেন: [২] রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজরুল ইসলাম মন্ডলের বাসায় দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশী তল্লাশীর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।

[৩] সম্মেলনে পুলিশী তল্লাশীর প্রতিবাদ ও তল্লাশীতে নেতৃত্বদানকারী গোয়ালন্দ থানার ওসি আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা কর্মকান্ডের অভিযোগ এনে তার বদলীর আদেশ কার্যকর করার দাবী জানানো হয়।

[৪] সাংবাদিক সম্মেলনে গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান মিয়া, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজরুল ইসলাম মন্ডলসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব ঘোষ। শেষে সাংবাদিকরা বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাইলেও কোন প্রশ্ন করার সুযোগ দেয়া হয়নি।

[৫] লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, দৌলতদিয়া ঘাটে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে সম্প্রতি ফলের ট্রাক, গরুর ট্রাকসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহনে অবৈধভাবে চাঁদাবাজীসহ নানা ধরণের কাজ বন্ধ করা হয়। কিন্তু ওসি আশিকুর রহমান নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা পার্টির সন্ত্রাসীদের দিয়ে ঘাটে চাঁদাবাজীসহ অবৈধ পন্থায় অর্থ আদায় করে চলেছে। এ ছাড়া তিনি উপজেলা পরিষদের স্থগিত থাকা উপ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষ অবলম্বন করে আসছেন। নজরুল মন্ডল গত পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন। এবারো তিনি সম্ভাব্য প্রার্থী। তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ওসি তল্লাশীর নামে হয়রানী করেছে।

[৬] এ প্রসঙ্গে ওসি আশিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে আমি নজরুল মন্ডলের বাসায় ফোর্সসহ গিয়ে তার বৈধ অস্ত্র, গুলি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে যাচাই করি। কিন্তু নজরুল মন্ডল অস্ত্রের কাগজপত্র দেখাতে দেরী করায় তল্লাশী কাজে বিলম্ব হয়। পরে অবশ্য কাগজপত্র, অস্ত্র ও গুলি প্রদর্শন করলেও অনুমোদিত ৫০টি গুলির মধ্যে ৩টি গুলি কম পাওয়া যায়। যার সঠিক ব্যাখ্যা সে দিতে না পেরে সুযোগ বুঝে বাড়ীর পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।

[৭] তিনি আরো বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে নজরুল মন্ডলের নেতৃত্বে তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে পণ্যবাহী যানবাহন ও নদীতে বালিবাহী বলগেটে চাঁদাবাজী করতো। আমি আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাদের সকল অপকর্ম বন্ধ করে দেই। যে কারণে তারা আমার উপর ক্ষিপ্ত। আমাকে মনিটরিং করার জন্য আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তাই চরমপন্থীদের দিয়ে আমার চাঁদাবাজী করানোর প্রশ্নই আসে না।

[৮] ওসি আশিক প্রশ্ন রেখে আরো বলেন, আমি ৮ মাস আগে গোয়ালন্দে যোগ দেই। ক্ষমতাসীন উপজেলা আওয়ামীলীগের নের্তৃবৃন্দ এতোদিন আমার বিরুদ্ধে কেন কোন পদক্ষেপ নেননি? মূলত তারা বিশেষ মহলের ইন্ধনে এবং নজরুল মন্ডলের নানা অপকর্ম ঢাকতে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ এনেছে। বদলী কার্যকরের প্রসঙ্গে তিনি জানান, আমি ইতিমধ্যে বুধবার বিকেলেই থানার চার্জ ওসির (তদন্ত) উপর ন্যাস্ত করেছি।

[৯] নজরুল মন্ডল দাবী করেন, তার অস্ত্র, গুলি ও অস্ত্রের কাগজপত্র সব ঠিক আছে। ঘাটে আমি বা আমার ভাই চাঁদাবাজী বা অন্য কোন অপরাধের সাথে কখনই যুক্ত ছিলাম না। ওসি বিশেষ মহলের ইঙ্গিতে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। সম্পাদনা: সাদেক আলী

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত