প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দরিদ্র মানুষের আচরণ পরিবর্তনে ৪০ কোটি টাকা চাইছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর

সাইদ রিপন : করোনার দোহাই দিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি’ প্রকল্পের নামে হরিলুটের প্রকল্প প্রস্তাব করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছে, একই ধরনের প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব করছে স্থানীয় সরকার বিভাগের এ সংস্থাটি। উদাহরণ দিয়ে তারা বলেন, কয়েকমাস আগে সারাদেশে নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে পাশ হয়েছে। এরপর শুধু গোপালগঞ্জের জন্য নিরাপদ পানি দিতে আলাদা একটি প্রকল্প প্রস্তাব রয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এর মধ্যেই আবার এ প্রকল্পটি। তাহলে দেখা গেলো একই ধরনের প্রকল্প একটু ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে প্রস্তাব করছে সংস্থাটি। ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি’ প্রকল্পের ডিপিপিতে দেখা গেছে, এ প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের বিহ্যাভিয়ার চেঞ্জ কমিউনিকেশন ক্যাম্পেন আল্টাপুওর সিলেকশন খাতে ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। দরিদ্র মানুষের আচরণ পরিবর্তনে করতে নানা ক্যাম্পেইনে এসব টাকা ব্যয় হবে। কি ধরনের আচরণ পরিবর্তন করা হবে জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিকল্পনা সার্কেল) আনোয়ার ইউসুফ এ প্রতিবেদককে সুনির্দিষ্ট কোনকিছু বলতে পারেনি।

এছাড়া প্রকল্পের ডিপিপিতে একটা হাত ধোয়া বেসিনের দাম ধরা হয়েছে ২ লাখ টাকা। বিভিন্ন মার্কেট ঘুওে দেখা গেছে, বাজারে ভালো মানের বেসিনের সেট ৬ হাজার টাকা পড়বে। থাই বেসিন সেট ১২ হাজার টাকায় পাওয়া যায়। অন্যদিকে সব
থেকে দামি বেসিন সেট হচ্ছে জার্মান প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা। এগুলো সাধারণত পাবলিক প্লেসে ব্যবহার হয় না। অথচ পাবলিক প্লেসের জন্য একটা বেসিনের জন্য অস্বাভাবিক ব্যয় ধরা হয়েছে। এ বিষয়ে আনোয়ার ইউসুফ বলেন, যেখানে মানুষের সমাগম থাকবে, সেখানেই বেসিন দেওয়া হবে। তবে এ প্রকল্প শেষে এ বেসিনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার কাছে থাকবে এমন প্রশ্নে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

ডিপিপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৪২৫টি হাত ধোয়ার স্টেশন স্থাপন করা হবে। এগুলো স্থাপনে মোট ২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার আবদার করা হয়েছে। ফলে প্রতিটা কেন্দ্র নির্মাণ বাবদ খরচ পড়ে ২ লাখ টাকা।
প্রকল্পটির জন্য মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ১ হাজার ৮৮৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে ১ হাজার ৮৩২ কোটি ২৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা ঋণ হিসেবে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংকের অঙ্গভুক্ত প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) ও এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি)। অনুমোদনের পর প্রকল্পটি চলতি বছর থেকে ২০২৫ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পটি জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এবং বিদ্যালয়ে গুণগতমানের ওয়াশ পরিষেবাগুলি বাড়িয়ে মূলত পানি বাহিত রোগ প্রতিরোধে এবং বর্তমান কোভিড-১৯ মহামারীসহ সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সময়েও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখবে। পাশাপাশি আচরণগত পরিবর্তনও প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে উন্নতমানের ওয়াশ সুবিধা এবং যথাযথ হ্যান্ড ওয়াশিং গুরুত্ব দেয়া হবে।
স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আচরণগত পরিবর্তন এবং তাদের যথাযথ ব্যবহার জীবাণু এবং ভাইরাসের বিস্তাররোধের মূল চাবিকাঠি হয়।

পরিকল্পনা কমিশন এ প্রকল্পের ওপর গত ১৯ আগস্ট প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোন খাতে কি পরিমাণে ব্যয় হবে তার বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। সামগ্রিকভাবে কোন খাতে ব্যয় না চেয়ে নির্দিষ্টভাবে কোন আইটেমের দাম কতো তা জানতে চেয়েছে কমিশন। তবে স্টেশনে কি কি কাজ বা অবকাঠামোগত সুবিধা থাকবে বা নির্মিত হবে সেই বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় প্রজেক্ট ম্যানপাওয়ার খাতে প্রায়
তিন কোটি টাকা ধরা হয়েছে। পাঁচ বছরে ৯ জনের জন্য এ তিন কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সাবেক লীড ইকনোমিষ্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, করোনার জন্য সরকারের চলতি খরচের পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর খরচ কমাতে ইতোমধ্যেই অর্থমন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করেছে। কিন্তু সরকারের নির্দেশনার পরও অনেক কর্মকর্তা বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না। এজন্য এগুলো নিয়ন্ত্রণে আরও শৃঙ্খলা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, যে কোন উন্নয়নই পরিকল্পনামাফিক করা উচিত। টেকসই উন্নয়ন করতে হলে সবার আগে পরিকল্পনা করা উচিত। টেকসই পরিকল্পনা না হলে জনগণ প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে। আর লাভবান হবে ঐ সমস্ত সরকারি কর্মকর্তারা।
আরেক প্রশ্নে ড. জাহিদ বলেন, প্রকল্পের ডিপিপির ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করে না। আগে নিয়ম ছিল বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পে কেনাকাটার আগে বিশ্বব্যাংক থেকে অনুমোদন করানো লাগতো। এ প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগে বিধায় এখন কেনাকাটার পরে বিশ্বব্যাংক দেখে। ঐ সময় যদি তারা কোন অনিয়ম পায় তাহলে বিশ্বব্যাংক ঐ প্রকল্পের ঋণ
ফেরত নিয়ে অন্য প্রকল্পে বিনিয়োগ করে। এতে দেখা যায়, পরবর্তীতে প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নেই বাস্তবায়ন হয়ে যায়।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত