প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে ধর্ষণ, কারাগারে সাবেক স্বামী

সাতকানিয়া প্রতিনিধি: [২] চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের পাহাড়তলী আলীনগর এলাকায় তালাক দেয়া স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার সাবেক স্বামীকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। আসামিকে তালাক দেয়া স্ত্রীর বাবার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তার নাম মিজানুর রহমানকে (৩২)। এ ঘটনায় ধর্ষিতা ও তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বাদি হয়ে সাতকানিয়া থানায় গত মঙ্গলবার রাতে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে।

[৩] মামলার এজাহারে ধর্ষিতা উল্লেখ করেছে, ২০১১ সালে আমার সাথে জনৈক আবদুল আজিজ নামের একজনের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের কয়েক বছর পর জীবিকার তাগিদে আজিজ বিদেশে চলে যায়। তখন তিনি সাতকানিয়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের ছমদর পাড়ার মৃত আবু তাহেরের পুত্র মিজানুর রহমানের সিএনজি ট্যাক্সিযোগে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া আসা করতো।

[৪] ট্যাক্সি চালক মিজান কৌশলে তার মোবাইল থেকে মেমোরী কার্ডটি নিয়ে ফেলে। পরে মিজান মেমোরী কার্ডে থাকা ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে আমার স্বামীর কাছে পাঠায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবদুল আজিজ আমাকে তালাক দেয়। আমি তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর সিএনজি ট্যাক্সি চালক মিজান আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়।

[৫] আমি তার প্রস্তাবে রাজি হই এবং গত বছরের ৬ আগষ্ট আমাদের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর মিজান আমাকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দিতে রাজি না হওয়ায় মিজান আমাকে মারধর করে এবং বিয়ের মাত্র ১ মাস ৫ দিনের মাথায় তালাক দেয়। আমাকে তালাক দেয়ার পর সাবেক স্বামী মিজান বিভিন্ন সময়ে আমাকে ফোন করে বিরক্ত করতো। অবৈধ সম্পর্কের প্রস্তাব দিতো।

[৬] তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিবাহের পরবর্তী সময়ে দুইজন মিলে তোলা অন্তরঙ্গ কিছু ছবি আত্মীয়-স্বজনদের নিকট পাঠিয়ে দেয়। পরে বিষয়টি আমি এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদেরকে জানায়। তখন বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করার জন্য এলাকার লোকজন মিজানকে ডাকলেও সে সাড়া দেয়নি। তার অবৈধ প্রস্তাব এবং আত্মীয়-স্বজনকে ছবি পাঠানোর বিষয়ে বিচার দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে মিজান।

[৭] ঘটনার দিন সকালে আমি বাড়ির সামনে কাজ করছিলাম। এসময় মিজান আমার বাড়িতে গিয়ে উঠানে আমাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। তখন আমি চিৎকার দিতে চাইলে সে আমার মুখ টিপে ধরে। পরে ধর্ষণ করে চলে যাওয়ার সময় আমি তাকে টেনে ধরি এবং চিৎকার দিই। আমার চিৎকার শুনে আশপাশে থাকা বড় ভাই এসে তাকে দেখার পর আটক করেন। পরবর্তীতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত বলার পর সাতকানিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ধর্ষক মিজানকে গ্রেপ্তার করে।

[৮] সাতকানিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান ধর্ষিতার সাবেক স্বামী। এখন থেকে প্রায় এক বছর আগে মিজান স্ত্রীকে তালাক দেয়। কিন্তু ঘটনার দিন সে তালাক দেয়া স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ধর্ষিতা বাদি হয়ে সাতকানিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত