প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পাইপলাইনে ৬টি লিকেজ পেয়েছে তিতাস

[২] মো. তৌহিদ এলাহী : নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্যাসের লিকেজ অনুসন্ধানে তৃতীয় দিনেও খোঁড়াখুঁড়ি করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এতে গ্যাস লাইনে ৬ টি ছিদ্রের সন্ধান পেয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

বিস্ফোরণের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান সংস্থাটির জেনারেল ম্যানেজার (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. আব্দুল ওহাব তালুকদার বুধবার রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

[৩] তিনি বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনার পর তিতাসের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। রোববার থেকে আমরা ফিজিক্যালি তদন্ত শুরু করি। এবং আজ (বুধবার) আমরা আমাদের তদন্ত শেষ করেছি। আজকে (বুধবার) মসজিদের উত্তর ও পুর্বপাশের টোটাল মাটি কেটে গ্যাসের সংযোগ লাইন বের করা হয়। পূর্বপাশে আমরা কোন লিক পাইনি। উত্তর পাশে আমরা ৬টি লিক পেয়েছি। এবং চারটি ক্ল্যাম লাগিয়ে লিকগুলো রিপিয়ার করার পরে আমরা গ্যাস ছেড়েছি। সম্পুর্ণ প্রেশারে গ্যাস ছাড়ার পর আমরা মসজিদের ভেতর তিন-চার ইঞ্চি পানি দিয়ে ভরে দিয়েছি।

[৪] এসময় আমাদের সঙ্গে এনএসআই, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এব তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।অনুসন্ধানে পাওয়া ৬টি লিকেজ মেরামত করে সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ গ্যাস লাইনে গ্যাস সররবাহ চালু করে মসজিদের ভেতরে পানি ঢেলে গ্যাসের উদগীরণ বা বুদবুদ বের হয় কিনা তা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পরেও কোনও বুদবুদ দেখতে পাননি বলে তিনি দাবি করেছেন। এটা উপস্থিত সবাই দেখেছেন।

[৫] গত ৪ সেপ্টেম্বর মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়রা তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন। অভিযোগ করেন, তিতাস গ্যাসের লিকেজ থেকে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ হয়। পরে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

[৬] অনুসন্ধান শেষে রাত ৮টায় বিফ্রিংয়ে তিতাস গ্যাসের ঢাকা অফিস ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘মসজিদের উত্তর পাশে বর্ধিত করা হয়েছে। সেখানে ফাউন্ডেশন দেওয়ার সময়ে মসজিদের চার নাম্বার কলাম স্থাপনের সময়ে নিচে আমাদের পাইপ লাইন ছিল। ফাউন্ডেশনের কলাম বসাতে গিয়ে পাইপ লাইনের র‌্যাপিং নষ্ট করে ফেলে। এ র‌্যাপিং নষ্ট করার কারণে গ্যাসের পাইপ মাটির সঙ্গে সংস্পর্শে এসে ছিদ্র হয়েছে। সে কারণেই পরে লিকেজ করে গ্যাস ছড়িয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই একটি কলামের ফাউন্ডেশনের নিচেই ৬টি লিকেজ পাওয়া গেছে। অন্য কোথাও আর কোনও সমস্যা নেই। ওখানে লিকেজ বন্ধ করার পরে মসজিদের ভেতরে কোনো গ্যাস পাওয়া যায়নি।’

[৭] ‘এতেই প্রতীয়মান হয় একটি কলাম বাড়ানোর সময়ে ফাউন্ডেশন দিতে গিয়ে নিচে থাকা গ্যাসের পাইপের র‌্যাপিং নষ্ট করে ফেলে। তাছাড়া মসজিদ কমিটি রাস্তা দখল করে ওই ফাউন্ডেশন করেছে,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, মসজিদ নির্মাণের জন্য মসজিদ কমিটির কাছে সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন পরিষদ ও রাজউকের কোন অনুমোদন নাই। এবং মসজিদে বিদ্যুতের সংযোগ রয়েছে দুইটা। এরমধ্যে একটা বৈধ সংযোগ অপরটি অবৈধ। অবৈধ সংযোগের বিষয়ে মসজিদ কমিটি আমাদের বলেছে যখন বিদ্যুৎ চলে যায় তখন তারা আলাদা ফেজ দিয়ে বিদ্যুৎটা চালাচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎটা যখন গিয়েছে তখন তারা চেঞ্জওভার করার সময় স্পার্ক হয়ে মসজিদে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আমাদের প্রাথমিক ধারনা।

[৮] তদন্ত কমিটি গত সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় মাটির নিচে গ্যাসের সম্ভাব্য উৎস অনুসন্ধানে শ্রমিকদের দিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে। আজ রাত ৮টায় আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই খোঁড়াখুঁড়ি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

[৯] বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন জমা দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিতাসের এ কর্মকর্তা।

সর্বাধিক পঠিত