প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কোভিড-১৯ সংকট কাটিয়ে উঠতে সু-সমন্বিত বৈশ্বিক কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর

সোহেল রহমান : [২] কোভিড-১৯ সংকট সমাধানের লক্ষ্যে মঙ্গলবার রাতে জাতিসংঘ সেক্রেটারি জেনারেল এবং কানাডা ও জামাইকা’র অর্থমন্ত্রী দ্বয়ের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রীদের এক যৌথ ভার্চুয়াল সভায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমন মত ব্যক্ত করেন।

[৩] আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ সংকট মোকাবেলায় আমাদের একটি সু-সমন্বিত বৈশ্বিক কার্যক্রম গ্রহণ করা দরকার এবং জাতিসংঘ এক্ষেত্রে একটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।

[৪] তিনি বলেন, এই কঠিন যাত্রায় জি-৭, জি-২০ ও ‘অর্গানাইজেশন ফর ইকোনোমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (ওইসিডি) এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

[৫] প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরো বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো ০.৭% ওডিএ প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে, যা এখন কোভিড-১৯ পুনরুদ্ধারের সাথে সহায়তা করছে।

[৬] সভায় জাতিসংঘের উপ-সেক্রেটারি জেনারেল আমিনা জে মোহাম্মদ, কানাডার উপ-প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড এবং জামাইকার অর্থ ও পাবলিক সার্ভিস মন্ত্রী নাইজেল ক্লার্কসহ জাতিসংঘের সদস্য ৬০টির বেশি দেশের অর্থমন্ত্রী, জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংস্থা এবং বহুপাক্ষিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভার সামগ্রিক উদ্দেশ্য ছিল কোভিড-১৯ সংকটের ভয়াবহ পরিণতি থেকে মুক্তি পেতে নীতিগত বিকল্পগুলির একটি কার্যকরী তালিকা নিয়ে আলোচনা করা এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থিতিশীল এবং টেকসই বৈশ্বিক আর্থিক নকশা প্রণয়ন করা।

[৭] কোভিড সংকট মোকাবেলায় সভায় আলোচিত প্রস্তাবগুলো আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বিবেচনা করার জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে উদ্যোক্তারা জানান।

[৮] অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি বছর গত ২৮ মে জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল এবং কানাডা ও জামাইকার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ‘ফাইন্যান্সিং দ্য ২০৩০ এজেন্ডা ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইন দ্য ইরা অব কোভিড অ্যান্ড বিয়োন্ড’ শীর্ষক আলোচনা শুরু করেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও রেমিট্যান্স, কর্মসংস্থান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি; টেকসই পুনরুদ্ধার; বৈশ্বিক আর্থিক তারল্য এবং স্থিতিশীলতা; ঋণ ঝুঁকি; বেসরকারী খাতের ঋণদাতাদের অন্তর্ভূক্তি এবং অবৈধ আর্থিক প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন অঞ্চলে ছয়টি আলোচনা গ্রুপ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। তখন থেকে বিভিন্ন গ্রুপ সদস্য দেশ এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের বিভিন্ন প্রয়োজন বিবেচনা করে বিকল্পগুলির একক ও উচ্চাকাংক্ষী তালিকা তৈরির কাজ করছে।

[৯] জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা ‘গ্রুপ-১’-এর সহ-নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করে মিশর, জাপান ও স্পেনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈদেশিক অর্থ ও রেমিট্যান্স, চাকরি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বিকাশের বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি উন্নয়নশীল ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের অগ্রাধিকারগুলো অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য এই গ্রুপটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রেমিট্যান্স, রফতানি আয়, বিনিয়োগ, এলডিসি এবং উত্তরনরত দেশগুলির জন্য সরকারি উন্নয়ন সহায়তা, এসডিজির অর্থায়ন ইত্যাদিসহ বাস্তব ক্রিয়া এবং নীতিমালার সুপারিশ করেন।

[১০] অনুষ্ঠিত এ সভার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংস্থা ‘জুবিলী ইউএসএ’-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সভায় জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেলের বিশেষ দূত মাহমুদ মোহিল্ডিন বলেন, কয়েকটি উন্নত অর্থনীতি মহামারী প্রতিক্রিয়া কর্মসূচিতে তাদের অর্থনৈতিক আয়ের দশ শতাংশের সমান ব্যয় করলেও দরিদ্র দেশগুলো এক শতাংশও ব্যয় করতে পারে না।

[১১] সভায় আইএমএফ-এর প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিভা বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ উন্নয়নশীল দেশ গভীর সঙ্কটের মুখোমুখি হচ্ছে। বর্তমানে গ্লোবাল রিজার্ভ ফান্ডের প্রায় ১৭ হাজার ৬০০ কোটি ডলার উন্নত দেশগুলোর হাতে রয়েছে, যা দরিদ্র দেশগুলোকে দেয়া যেতে পারে। জি-২০ দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের উচিত গ্লোবাল রিজার্ভ ফান্ডে আরও ট্রিলিয়ন ডলার দান করা।

[১২] ‘জুবিলি ইউএসএ’র নির্বাহী পরিচালক এরিক লেকম্পেট বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ও স্বাস্থ্য আরও খারাপ হচ্ছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত