প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সম্পত্তির ভাগ না দেয়া ও পরিবারে বনিবনা না হওয়ায় নিজ সন্তানকে হত্যা!

সুজন কৈরী : [২] নীলফামারীর ডিমলার রামডাঙ্গা ফরেস্ট ও সিংগাহাড়া নদীর তীরে তালাবদ্ধ একটি ট্রাঙ্ক থেকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে উদ্ধার নিহত শিশুর পরিচয় ও হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিহত শিশুর নাম জিহাদ (১২)। স্থানীয় একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলো। পরিবারে বনিবনা না হওয়া ও সম্পত্তির ভাগ না দিতই শিশুটির বাবা, সৎ মা ও নানা মিলে এ হত্যাকান্ড ঘটায়।

[৩] পিবিআই শিশু জিহাদের বাবা জিয়াউর রহমান, সৎ মা আলেয়া মনি ও শিশুটির নানা আইয়ুব আলীকে গ্রেপ্তার করেছে। সেইসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শিশুর মরদেহ বহনে ব্যবহৃত পিকআপের মালিক ও চালক ইসমাইলকেও। জব্দ করা হয়েছে পিকআপটিও।

[৪] পিবিআই জানিয়েছে, গত ১৬ জুলাই নীলফামারীর ডিমলার রামডাঙ্গা ফরেস্ট ও সিংগাহাড়া নদীর তীরে একটি তালাবদ্ধ ট্রাঙ্ক পরে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে জানায়। পরে থানা পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই’র রংপুর জেলা কার্যালয়ের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সামনে ট্রাঙ্কটি খুলে বেডশীট ও কাথা মোড়ানো অবস্থায় একটি অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করে। পিবিআই ক্রাইমসিন সংরক্ষন করে ও সকল সাক্ষ্য যথাযথ ভাবে সংগ্রহ করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে। মরদেহ ঝলসানো ও অর্ধ গলিত থাকায় ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে তাকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ওই ঘটনায় ডিমলা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এরপর সুরতহাল ও ময়না তদন্ত শেষে পুলিশ ও পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় অজ্ঞাতলাশ হিসাবে পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়। বিষয়টি একটি স্পর্শকাতর, নৃশংসতম এবং ক্লুলেস ঘটনা হওয়ায় পিবিআই নিজ উদ্যোগে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

[৫] পিবিআই’র রংপুর জেলা কার্যালয়ের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, বিশেষ টিম, তথ্য প্রযুক্তি ও একাধিক বিশ্বস্ত সোর্সের ব্যবহার করে ঘটনার প্রায় ১ মাস ১৭ দিন পর হত্যাকান্ডে মোটিভ, প্রক্রিয়া ও মৃত শিশুর পরিচয় পাওয়া যায়। সেইসঙ্গে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদেরও শনাক্ত করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে দিনাজপুরের খানসামায় একটি এনজিও’তে কর্মরত শিশু জিহাদ (১২), এর বাবা জিয়াউর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তিতে দিনাজপুরের বিরল এলাকা থেকে জিয়াউরের ২য় স্ত্রী ও শিশু জিহাদের সৎ মা আলেয়া মনি ও জিয়াউরের শ্বশুর আইয়ুব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিয়াউরের ভাড়া বাসা থেকে ইলেক্ট্রিক ওয়াটার হিটার জব্দ করা হয়। জিহাদকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ওয়াটার হিটারে গরম করা পানি নিক্ষেপ করা হয়।

[৬] গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এসপি এবিএম জাকির হোসেন বলেন, সৎ মা এবং বাবার সঙ্গে শিশু জিহাদের বনিবনা হতো না। এজন্য বাবা-সৎ মা ও শিশুটির নানা একত্রে পরিকল্পিতভাবে গত ১৪ জুলাই রাতে ঘুমন্ত জিহাদকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরদিন সকালে ঘটনা ধামাচাপা দিতে বাসায় ব্যবহৃত একটি স্টিলের ট্রাঙ্কে তিনজন ঘাতক বেডশীট ও কাথায় শিশু জিহাদের মরদেহ পেঁচিয়ে ট্রাঙ্কের ভেতরে রাখে। আইয়ুব আলী স্থানীয় একটি দোকান থেকে দুটি চাইনিজ তালা কিনে নিয়ে ট্রাঙ্কটি তালাবদ্ধ করে। জিয়াউর মরদেহ ভর্তি ট্রাঙ্কটি অনত্র ফেলতে বিরল হাসপাতালের গেটের সামনে থেকে একটি নীল রঙয়ের ছোট পিক আপ ভ্যান (ঢাকা মেট্রো ন-১১-৯৬০৭) ১৩ হাজার টাকায় ভাড়া করে এবং ওই পকিআপে করে জিহাদের মরদেহ নীলফামারীর ডিমলার রামডাঙ্গা ফরেস্ট ও সিংগাহাড়া নদীর তীরে ফেলে আসে।

[৭] মামলার তদন্তকারী একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরকিয়ার অভিযোগ এনে প্রথম স্ত্রী জিয়াউরকে তালাক দিয়েছেন। আবার জিয়াউরও দাবি করেছেন, তার প্রথম স্ত্রীও পরকিয়ায় জড়িত। তবে এ জিয়াউরের প্রথম স্ত্রী এখনও তার বাবার বাড়িতে আছেন। তিনি বিয়ে করেননি। জিহাদ একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতো। করোনার প্রকোপে মাদ্রাসা বন্ধ হলে জিহাদ তার মার সঙ্গেই থাকতো। আবার বাবা বাড়িও যেত। সম্প্রতি জিহাদকে তার বাবা জিয়াউর বাসায় নিয়ে যান। জিয়াউর তার সন্তানকে অনেক ভালবাসতেন বলে পিবিআই’র কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। জিহাদকে তার সম্পত্তির ভাগও দিতে চেয়েছেন। কিন্তু বাধ সাধেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি সম্পত্তির ভাগ দিতে চাননি এবং জিহাদকে হত্যার হত্যার পরিকল্পনা করেন। স্ত্রীর কথার অমতও করতে পারেন নি জিয়াউর। জিহাদকে যেন শনাক্ত করা না যায়, সেজন্য মরদেহ পুড়িয়ে দেয়া হয়।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত