প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শুধু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়, পুরো উপজেলা কমপ্লেক্সেই নিরাপত্তা দেয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

আনিস তপন: [২] সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক।

[৩] তিনি বলেন, ইতিমধ্যে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সভার আলোচনায় উঠে এসেছে যে, উপজেলা কমপ্লেক্সে সরকারি অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারাও বাস করে থাকেন। তাই পুরো উপজেলা কমপ্লেক্স সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাছাড়া সেখানে সারারাত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারা থাকবে, যাতে কোনো ক্রিমিনাল (অপরাধী) অন্যায়ভাবে কারও ওপর হামলা করতে না পারে।

[৪] চুরি করতে গিয়ে ওয়াহিদার ওপর হামলা হয়েছে, এমন প্রচারণা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাস যোগ্য হয়নি উল্লেখ করে আকম মোজাম্মেল হক বলেন, এজন্য এই ঘটনা রহস্য ও এর পেছনে গডফাদার কারা তা জানতে অধিকতর তদন্তের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সভায়। এজন্য গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশনা দেয়া হবে।

[৫] ওয়াহিদার ওপর হামলায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ একজনকে আটক করলেও পরে স্থানীয় একজন এমপি প্রভাব খাটিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, আমরা কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নই। যাকে ছাড়িয়ে নেয়া হয়েছে, তার সম্পৃক্ততা গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে। যদি তার কোনো সম্পৃক্ততা থাকে এবং তাকে প্রভাব খাটিয়ে ছাড় করিয়ে নেয়ার জন্য যদি এমপির সম্পর্ক থাকে তবে তিনিও আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন না।

[৬] এছাড়াও বৈঠকে সব গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রম এক ছাতার নিচে নিয়ে আসতে একটি ইন্টিগ্রেটেড (সমন্বিত) কমিটি করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।

[৭] তিনি বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন সমন্বয় করে এই কমিটির সভায় উপস্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

[৮] মন্ত্রী বলেন, নিজ নিজ গোয়েন্দা শাখার প্রধানদের কাছে রিপোর্ট দেবে, পরে সব রিপোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসে কম্পাইল হবে। তিনি বলেন, সব রিপোর্ট একত্রে নিয়ে প্রতিকার করতে সহজ হবে। কারণ তারা কী বলছেন বা কী মনে করছেন বা কী সাজেশন দিচ্ছেন এগুলো বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কী করা উচিত? তাই সব রিপোর্ট কম্পাইল করে কী সিদ্ধান্ত নেয়া যায় সেবিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে পারে। এজন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

[৯] সিনহা হত্যা প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি বলেন, যৌথভাবে তদন্ত হচ্ছে, প্রতিবেদন অনুযায়ী দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যাতে আইন খুব কঠোরভাবে প্রয়োগ হয় সেজন্য সরকার দৃঢ়প্রত্যয়ী। তাছাড়া তদন্ত প্রকাশের বিষয়ে এই কমিটি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

[১০] রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে পরস্পরের মধ্যে মারামারি কাটাকাটি বা মাদকদ্রব্য সরবরাহ ও অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যেতে কিছু আন্তর্জাতিক এনজিওদেও বিরুদ্ধে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ আছে, কাই সেসব নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং এর জন্য ২৪টি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হবে। যাতে ২৪ ঘন্টা মনিটরিং করা যায়অ পাশাপাশি চারিদিকে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি।

[১১] এছাড়া এই বৈঠকে এবার মাদকের পৃষ্ঠপোষকদেও চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারণ এখানে সমাজের অনেক উচ্চ পর্যায়ের লোকরা জড়িত রয়েছে।

[১২] একইসঙ্গে সারাদেশে প্রায় ৭০০ অবৈধ বিদেশি নাগরিক রয়েছে। তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এদেশে অবস্থান করে বিভিন্ন অপরাধসহ টাকা বিদেশে পাচারে জড়িয়ে পরছে। এসব অবৈধ বিদেশিদের পরিপূর্ণ তালিকা পুলিশ বিভাগের কাছে আছে। তাদের সবাইকে ক্যাম্পে নিয়ে রেখে নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে। তাদের যদি নিজেদের টিকিট কাটার সামর্থ্য না হয় সরকারি টাকায় টিকিট কেটে তাদের দেশে পাঠানোর জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সম্পাদনা : খালিদ আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত