প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সংসদে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনে বিল পাস

মনিরুল ইসলাম: [২] গাজীপুরে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠণে ‘গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ‘বিল-২০২০ পাস। এর মধ্য দিয়ে গাজীপুরের উন্নয়নে পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠণের অনুমতি লাভ করলো। গাজীপুর শহর ও তৎসলগ্ন এলাকায় পরিকল্পিত নগরায়নের উদ্দেশ্যে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই বিল পাস করা হয়েছে।

[৩] আজ মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। যদিও বিলটির ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব দেন বিরোধী দলীয় সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, মুজিবুর হক, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, মো হারুনুর রশীদ, ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা। তবে তাদের সেই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হওয়ার পর স্পীকার বিলটি পাসের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে দিলে তা কন্ঠ ভোটে সর্বসম্মতিত্রুমে পাস হয়। বিলটি পাসের সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের সংসদে উপস্থিত ছিলেন।

[৪] এর আগে ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিলটি সংসদে উত্থাপন করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী। এরপর বিলটি অধিকতর যাচাই-বাছাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। সংসদীয় কমিটি গত ৬ আগস্ট বিলটি চূড়ান্ত করে পাসের জন্য সংসদে পাঠায়।

[৫] গাজীপুর শহর ও তৎসলগ্ন এলাকায় পরিকল্পিত নগরায়নের উদ্দেশ্যে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই বিল পাস করা হয়। পাস হওয়া বিলে বলা আছে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোন ইমারত নির্মাণ, পুণ:নিমার্ণ, পুকুর বা কৃত্রিম জলাধার খনন, পুন:খনন বা উচুঁ ভূমি কাটা যাবে না।

[৬] বিলের ৪০ ধারায় মহাপরিকল্পনার পরিপন্থি ভূমি ব্যবহারের দণ্ড সম্পর্কে বলা আছে-যদি কোনো ব্যক্তি মহাপরিকল্পনায় চিহ্নিত বা উল্লেখিত উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ভূমি ব্যবহার করেন, তাহলে সেটা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য ওই ব্যক্তিকে অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
ইমারত নির্মাণ, জলধারা খনন, চালা অথবা উঁচু ভূমি ইত্যাদি বিষয়ে বিধি নিষেধ সম্পর্কে ৪১ ধারার (১) উপধারায় বলা আছে- অন্য কোনো যাই থাকুক না কেন এই আইন কার্যকর হবার পর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকার মধ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কোনো ইমারত নির্মাণ বা পুন:নির্মাণ, পুকুর বা কৃত্রিম জলধারা খনন বা পুন:খনন কিংবা চালা বা উঁচু ভূমি কাটা যাবে না।

[৭] বিলে বলা হয়, ‘গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হবে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রধান কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে। কর্তৃপক্ষ পরিচালনার জন্য একজন চেয়ারম্যান, চারজন সার্বক্ষণিক সদস্যসহ ১৫ সদস্যের একটি কমিটি থাকবে। কর্তৃপক্ষের সচিব কমিটির সচিব হবেন। মনোনিত সদস্যরা তিনি বছরের জন্য মনোনিত হবেন। কর্তৃপক্ষ আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন। কর্তৃপক্ষ অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ ও আধুনিক পর্যটন ও নগর উন্নয়ন কার্যাবলী গ্রহণ করবেন। কৃষিভূমি,বনভূমি নিম্নভূমি, জলাভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোন ইমারত নির্মাণ, পুণ:নিমার্ণ, পুকুর বা কৃত্রিম জলাধার খনন, পুন:খনন বা উচুঁ ভূমি কাটা যাবে না।

[৮] বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজীপুর শহর ও তৎসলগ্ন এলাকায় পরিকল্পনা, উন্নয়ন, সংস্কার, এবং সম্প্রসারণের মাধ্যমে পরিকল্পিত নগরায়নের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৪-এর কার্যবিবরণীতে পরিকল্পিত নগরায়ন এবং জনসাধারণকে নাগরিক সুবিধা দেওয়ার জন্য গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (জিডিএ) গঠন করা হবে। সে প্রেক্ষিতে ‘গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন’-এর খসড় প্রণীত হয়। খসড়া বিলটি ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। বিলটিতে সরকারি টাকা ব্যয়ের প্রশ্ন জড়িত থাকায় সংবিধানের ৮২ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতির সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত